ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » অজ্ঞাত ২৩ জনের মরদেহ বরগুনায় পোটকাখালী গণকবরে দাফন
অজ্ঞাত ২৩ জনের মরদেহ বরগুনায় পোটকাখালী গণকবরে দাফন

অজ্ঞাত ২৩ জনের মরদেহ বরগুনায় পোটকাখালী গণকবরে দাফন

বরগুনা প্রতিনিধিঃ
অজ্ঞাত বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে ২৩ জনের মরদেহ বরগুনার ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী গ্রামের খাকদোন নদীর তীরে গণ কবরে দাফন করা হয়েছে। লঞ্চ র্দূঘটনার নিখোঁজের তালিকা যতই দিন গড়াচ্ছে ততই লম্বা হচ্ছে। নিখোঁজদের স্বজনদের বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় যোগাযোগ করতে দেখা গেছে।
আগুন র্দূঘটনা কবলিত লঞ্চ থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রী মো. আ. হাই নেছারী জানান, আমি বেতাগী থেকে এসেছি । আমাদের ডিসি সাহেব ডেকেছেন ।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমাদের লিখিত সাক্ষাতকার নিয়েছে। তিনি আরও জানান দূর্ঘটনার দিন আমি এমভি অভিযান ১০ লঞ্চের ইঞ্চিন রুমের পিছনের স্টফ কেবিনের যাত্রী ছিলাম । হঠাৎ আগুন লাগার দৃশ্য দেখে আমার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে লঞ্চের পিছন দিয়ে নদীতে ঝাঁফ দেই । প্রাণে বেঁচে যাই। আমি ঢাকা থেকে পরিবারে ৩ জনকে নিয়ে বাড়িতে আসছিলাম।
লঞ্চ থেকে প্রানে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী ব্যবসায়ী জামাল হোসেন প্রতিবেদকে জানান, আমার ধারনা লঞ্চের প্রতিযোগীতা মূলক মনোভাবের কারণে অতিরিক্ত গতিতে লঞ্চ চলায় ইঞ্জিন বাস্ট হয়ে এ র্দূঘটনা ঘটতে পারে। আমি ইঞ্জিনের খুব কাছে ছিলাম । হঠাৎ বিকট শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় । আমিসহ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপদিয়ে প্রাণে বেঁচে যাই। আমি দোকানের মাল আনতে ঢাকায় গিয়ে ছিলাম। তিনি প্রতিবেদকে আরও জানান, এই লঞ্চ এমভি অভিযান ৬টা ৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি অভিযান-১০ চাঁদপুরেও আগে আসে । এ লঞ্চে ১ হাজার থেকে ১২০০ যাত্রী ছিল। আমরা ৯৯৯ ফোন দিয়ে সহযোগীতাও চেয়েছি।
প্রত্যক্ষদর্শী বরগুনা সদরের ক্রোক এলাকার রাজু আহম্মদ জানান , আমি ওই লঞ্চের যাত্রী ছিলাম। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায় । তখন কিছু বুঝে ওঠার আগে দেখি লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগছে। লঞ্চটি হঠাৎ তীরে ঘেঁষে গেলে আমরা পরিবারে ৪ জন নদীতে লাফিয়ে পড়ে জীবন রক্ষা করি। লঞ্চটিতে প্রায় ১৫০০ থেকে ২০০০ হাজার যাত্রী ছিল।
লঞ্চে আগুন র্দূঘটনায় নিহত মাইদার পিতা মোস্তফা কান্না জড়িত কন্ঠে জানান ,তার স্ত্রী মারুফা ও ছোট মেয়ে মার্জিয়া (১৩) আগুনে দগ্ধ হয়ে ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। তারা ৩ জন ঢাকা থেকে বাড়ি আসছিল।
অপরদিকে শহরের ঢলুয়া গ্রামের আবু-জাফরের শ্বাশুরী মনোয়ারা মুত্যুতে কান্না ভেঙ্গে পড়ে তার মেয়ে ও স্বজনেরা। লঞ্চে স্মরণ কালের ভয়াবহ আগুন র্দূঘটনায় নিহত বরগুনা ঢলুয়া গ্রামের আবু জাফরের শ্বাশুরী নিহত মনোয়ারা-(৫০) এর স্বজনদের কান্না যেন থামছে না। তার লাশ সনাক্ত করে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্ত করা হয়েছে। মনোয়ারা-(৫০) চাঁদপুর রুপনগর এলাকার বেল্লাল হোসেন স্ত্রী। তার বরগুনায় ঢলুয়া মেয়ের জামাই আবু জাফরের বাড়ীতে বেড়াতে আসার কথা ছিল।
বরগুনা গামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ঝালকাটি সুগন্ধা নদীতে দিয়াকুল নামক এলাকায় লঞ্চে স্মরণ কালের ভয়াবহ আগুন র্দূঘটনায় নিহত ২৯ জনের মরদেহ (লাশ) জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় শহরের সার্কিট হাউস মাঠে তাদের জানাজা সম্পন্ন করা হয়। জানাজায় জেলা প্রশাসনসহ জেলার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশিল সমাজসহ সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। অপরদিকে লঞ্চ র্দূঘটনায় স্বজন হারানো মানুষের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সার্কিট হাউস মাঠ, শোকে ছায়া নেমে এসেছে বরগুনা পুরো জেলা জুড়ে। জানাজা শেষে ২৩ মরদেহ দাফন করা হয়েছে সদর উপজেলা ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী গ্রামের গনকবরে।
এর পূর্বে ঢাকা থেকে বরগুনা গামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ঝালকাটি সুগন্ধা নদীতে দিয়াকুল নামক এলাকায় লঞ্চে ভয়াবহ আগুন র্দূঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মরদেহ (লাশ) বরগুনা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে ঝালকাটির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী। শুক্রবার রাত ১১টা দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঝালকাটি থেকে মরদেহ গুলো নিয়ে বরগুনায় আসে। ১৩টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে । ডিএনএ টেষ্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং বাকী ২৩ মরদেহ ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী গ্রামের গণকবরে শনিবারা (২৫ ডিসেম্বর ) বেলা ১১ টায় জানাজা শেষে দাফন করা হয় ।
এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি ৩ শতাধিক যাত্রী নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকা সদর ঘাট থেকে বরগুনা উদ্যোশে ছেড়ে আসে। ফায়ার সার্ভিস সিভেল ডিফেন্স ও অন্যান্য সূত্রে ধারনা করা হচ্ছে লঞ্চে ইঞ্জিন রুম ও রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। এ দূঘটনায় দেড় শতাধিক আহত ও ৪২ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম ও ঝালকাটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অশংকা জনিত ১৫ জনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়। তদন্তকমিটি ইতিমধ্যে বরগুনা তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।
বরগুনার জেলা ত্রান কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানিয়েছেন আমরা ৩৬টি মরদেহ রিসিভ করেছি । ২৩টি মরদেহ আজ্ঞাত পরিচয়ে শহরের ঢলুয়া ইউনিয়নের পোটকাখালী গ্রামের গণকবরে দাফন করা হয়েছে। অনুদানের টাকা দেয়া হচ্ছে । এর মধ্যে ১৩ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রত্যেক আহত পরিবারকে জেলা প্রশাসন থেকে ১৫ হাজার ও নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেয়া হচ্ছে। নিহতের পরিবারকে সরকার ঘোষিত বাকী দেড় খাল টাকা অনুদান প্রাপ্তি পরে দেয়া হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com