ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » খুলনা বিভাগ » অন্যের জমি কেড়ে নিতে জাল দলিলে একাধিক খতিয়ান সৃজন, পরে বাতিল চকরিয়ায় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

অন্যের জমি কেড়ে নিতে জাল দলিলে একাধিক খতিয়ান সৃজন, পরে বাতিল চকরিয়ায় সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়ায় জাল দলিল সৃজন করে সেই দলিল ভূমি অফিসে দিয়ে নামজারি খতিয়ান সৃজনের পর অন্যজনের ক্রয়কৃত জায়গা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জায়গার মালিক সাতজনকে আসামী করে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা রুজু করেছেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে দ্রুতসময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগী পৌরসভার পশ্চিম বাটাখালী গ্রামের মৃত আবদুল মতলবের পুত্র মোক্তার আহমদ উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলাটি রুজু করেন।

আসামীরা হলেন-একই এলাকার আবদুচ ছোবহানের ছেলে কামাল হোসেন ও তার ছেলে নূর মোহাম্মদ, মৃত মৌলভী ইয়াকুবের ছেলে হাবিবুন্নবী, পালাকাটার মৃত ফিরোজ আহমদ মুন্সির ছেলে ফখরুল ইসলাম, সাহারবিলের মাইজঘোনার মৃত আলী আহম্মদের ছেলে নুরুল আবচার ও জামাল হোসেন, মৃত নূর আহম্মদের ছেলে মনির আহমদ।

আদালতে করা মামলায় বাদী অভিযোগ এনেছেন, বাটাখালী মৌজার বিএস ১৩৭ নম্বর খতিয়ানের বিএস ৪৮৮ দাগ থেকে ১০ শতাংশ জায়গা মালিক থেকে বিগত ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৬০০৪ নম্বর রেজিষ্ট্রি কবলামূলে খরিদ করেন এবং ক্রয়কৃত জায়গায় ভোগ-দখলেও আছেন। কিন্তু আসামীরা দলিল নম্বর, সিল ও সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া দলিল (৩০৮৪, তারিখ-২৫/০৪/২০১২) সৃজন করেন। সেই দলিল দিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় থেকে এক নম্বর আসামী কামাল হোসেনের নামে নামজারি খতিয়ান (নম্বর-৫৯২) সৃজন করেন।

অথচ যে দলিল দিয়ে নামজারি খতিয়ান সৃজন করা হয়েছে সেই দলিলের কোন অস্তিত্বই নেই সরকারি রেকর্ডে। এমনকি কামাল হোসেন তার নামে খতিয়ান সৃজন করার পর সেই জায়গা অন্য তিনজনকে বিক্রি করে দেন। এর পর তারাও নিজেদের নামে খতিয়ান সৃজনের পর বাদীর জায়গা জোরপূর্বক দখল নিতে গেলে বেরিয়ে আসে আসল কাহিনী। এই অবস্থায় বাদী উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কাছে লিখিত অভিযোগ করলে তহসিলদার সরজমিন জায়গা পরিদর্শন, কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ ব্যাপক তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণ হলে বিগত ১৭ জানুয়ারী খতিয়ানগুলো বাতিল করে পূর্বের খতিয়ানে জায়গা ফেরত পাঠান।

মামলার বাদী মোক্তার আহমদ অভিযোগ করেছেন, চকরিয়াতে জাল দলিল সৃজন করার একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র রয়েছে। যাদের অন্যতম হচ্ছে এই মামলার আসামী হাবিবুন্নবী। তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে নিরীহ পরিবারের জায়গা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে আরো একটি জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাদীর কৌশলী উপজেলা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের আইনজীবী মো. নুরুল কাদের বলেন, ‘অন্যের জায়গা জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার জন্য সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের এটি একটি বড় ধরণের জালিয়াতির ঘটনা। তাই বিজ্ঞ বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে শুনানী শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com