ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো চেষ্টা করবেন না
অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো চেষ্টা করবেন না
--ফাইল ছবি

অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো চেষ্টা করবেন না

অনলাইন ডেস্কঃ

অপরাধের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অপরাধীদের বাঁচাতে কোনো সংসদ সদস্যই যেন চেষ্টা না করেন, সে নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার পেছনের কারণ উদঘাটনের সঙ্গে হামলায় মদদদাতাদেরও খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।   

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এসংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নটি উত্থাপন করেন বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশিদ। ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘এমপিদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, তাঁরা যেন অপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা না করেন। অপরাধ যে করে ও অপরাধীকে যারা রক্ষা করে, তারা সমানভাবে দোষী।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিমধ্যে ইউএনওর ওপর যে ঘটনা ঘটে গেছে, সেটি তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার আসল রহস্যটা আসলে কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তারা চুরি করার জন্য সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু আসলে সেখানে আরো কী কী ঘটনা থাকতে পারে, সেগুলো এখন যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইউএনওকে হেলিকপ্টারে করে সাথে সাথে নিয়ে এসে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব ধরনের ব্যবস্থাই কিন্তু আমরা গ্রহণ করেছি।’

সংসদ নেতা বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, অপরাধী কিন্তু আমার চোখে অপরাধী। সে কোন দল, কে, কী, আমি কিন্তু সেটা বিচার করি না। সেটা আপনারা দেখেছেন। আমি অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখি। সেখানে যদি আমার দলেরও লোক হয়, সমর্থক হয়, তাকেও আমি ছাড়ি না, ছাড়ব না।’

বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ কথা তো বাস্তব যে বেডরুমে তো কেউ পাহারা দিতে পারে না। তার পরও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং দেশে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সব সময় সজাগ রয়েছি। এভাবে একজন সরকারি কর্মচারীর ওপর কেন হামলা হলো সেটি দেখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে, কিন্তু সেই ঘটনার সাথে সরকারের পক্ষ থেকে যারা অপরাধী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি কি না, সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। আমরা যখনই যেখানে যে ঘটনাই ঘটুক, তার সঙ্গে যারা জড়িত, যার নাম আসবে সে কে, কী করে আমি সেটা দেখতে চাই না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংসদ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে এই ঘটনা নতুন ঘটছে না। পঁচাত্তর সালের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঘরে ঢুকে গোটা পরিবারকেই হত্যা করা হয়েছে। তিনি তো রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তার পরও এমন নির্মম ঘটনা ঘটেছিল। সেই খুনিদের ইনডেমনিটি দিয়ে বিচারের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। এই ধরনের খুনি ক্রিমিনালদের যখন প্রশ্রয় দেওয়া হয়, মানসিকভাবে সেই দেশের মানুষের কী রকম চরিত্র হতে পারে সেটাও হচ্ছে বিবেচ্য বিষয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘যে দেশে খুনিদের পুরস্কৃত করা হয়, দূতাবাসে চাকরি দিয়ে যে দেশে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে, সেই দেশটাকে শৃঙ্খলায় ফিরে আনা বা নিয়মমাফিক চালানো খুব কঠিন একটা দায়িত্ব। সেই দায়িত্বটা তো আমরা সরকারে আসার পর পালন করে যাচ্ছি।’

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করি। আমরা ছোটবেলা থেকে সেভাবেই শিক্ষা নিয়েছি। আমার বাবার নির্দেশ ছিল—রিকশাওয়ালাকে আপনি করে কথা বলতে হবে। ড্রাইভারকে ড্রাইভার সাহেব বলতে হবে। আর কাজের লোকজন, তাদের কখনো চাকরবাকর বলা যাবে না। হুকুম দেওয়া যাবে না। তাদের সাথে সম্মান করে, ভদ্রভাবে কথা বলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও যতদূর পারি নিজের কাজ নিজে করি। এটা আমার বাবারই শিক্ষা। তিনি শুধু বলে গেছেন তা না, সেই শিক্ষা আমাদের দিয়েও গেছেন। গরিব দেখলে, ভালো পোশাক না পরলে তাকে অবহেলা করতে হবে, আমাদের কাছে সেটা না। আমাদের কাছে সকলে সমান।’

প্রধানমন্ত্রী সকালে উঠে আগে কী খোঁজেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সকালে উঠে আমি জায়নামাজ খুঁজি। সকালে উঠেই আগে নামাজ পড়ি। নামাজ পড়ার পরে কোরআন তেলাওয়াত করি। তার পরে এক কাপ চা নিজে বানাই। আমার সকালের চা-টা নিজে বানিয়ে খাই। চা-কফি যা খাই, তা নিজে বানিয়ে খাই। আমার ছোট বোন থাকলে, আমার ছোট বোন আর আমি, যে আগে ওঠে সে বানায়। এখন পুতুল আছে আমার মেয়ে আছে, যে ঘুম থেকে আগে ওঠে সে-ই বানায়। আমরা নিজেরাই করে খাই। তার আগে বিছানা থেকে নামার সাথে সাথে নিজের বিছানাটা গুছিয়ে রাখি নিজের হাতে। এরপর বই পড়ি। তবে আর একটা কাজ করি এখন, গণভবনে একটা লেক আছে। সেখানে যখন হাঁটতে যাই, হেঁটে যখন লেকের পাশে বসি, তখন ছিপ নিয়ে বসি। মাছও ধরি।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*