Monday , 15 April 2024
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ

অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হাতিয়ার সামছুদ্দিন

নোয়াখালী থেকে আবদুল বাসেদঃ নোয়াখালী হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের বাসিন্দা সামছুদ্দিন নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও নোয়াখালী সদর ও হাতিয়া উপজেলার সমিতির নামে চাঁদা তুলে সাধারণ সদস্যদেরকে ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট সরকারি খাস জমি ও ব্যক্তি মালিকানার সম্পদ দখল, সরকারি জায়গা খনন এবং জোরপূর্বক স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, এক সময়ে সামছুদ্দিন তার বাবার জাহাজমারা বাজারে দর্জির দোকানে বাবাকে সহযোগিতা করে রোজগার করে দিনাতিপাত করতো। হঠাৎ এলাকার কিছু লোকজনের সহযোগিতায় বিভিন্ন সমিতি গঠন করে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে রেজিস্ট্রিশনহীন ঐ সমিতির মাধ্যমে সঞ্চয়ের নামে চাঁদা তুলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নোয়াখালী সদর উপজেলায় এসে আস্তানা স্থাপন করেন এবং নোয়াখালীর তথা বাংলাদেশের বরণ্য ব্যক্তির উর্বিনীগ প্রাইভেট লিঃ কোম্পানীর মালিক ফরহাদ মাজাহার, পিতা-মফিজুল হক, নির্বাহী পরিচালক, নয়া কৃষি আন্দোলন এর নোয়াখালীস্থ প্রজেক্টে আশ্রয় নিয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক এর ১নং খতিয়ানের ডিপি ১নং এর জে এল নং-১৩৮, ২৬৯, ২৬৫ দুই দাগে ৯১ শতাংশ জমি দখল করে লক্ষ লক্ষ টাকার গাছ কেটে ও ৮ শতাংশ জমিকে ৩০ ফুট গভীর গর্ত করে মাটি বিক্রি করে ও পাশের জমিতে ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে অর্থ উপার্জন করা ছাড়াও নয়া কৃষি আন্দোলনের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ মাজাহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তার থেকে গত ২৯/০৯/২০২০ইং, দলিল নং-৬৮২০, ৬ একর ৩৩ শতাংশ জমি ১ কোটি ৩২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ও রেজিষ্ট্রি খরচ প্রায় ১০ লাখ টাকা যা সর্বমোট ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা দিয়ে খরিদ করেন। তাছাড়া হাতিয়া ও নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়াখালী মৌজা, সল্ল্যা মৌজায় তার অনেকগুলো সম্পত্তি রয়েছে। সামছুদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় অনেক অভিযোগ থাকলেও কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তার পক্ষে কোন রকম অভিযোগ দিতে ব্যথ্য হয়েছেন। কারণ তিনি সর্বদায় নিজেকে নয়া কৃষি আন্দোলনের ১ জন কর্মকর্তা ও নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ মাজাহারের নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন। ইতিমধ্যে জৈনক ব্যক্তি চেয়ারম্যান দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, সেগুন বাগিচা, ঢাকাতে ২৫/০২/২০২১ ইং তারিখে দরখাস্ত জমা দেন। তাহার কোন রকম তদন্ত না হওয়ার কারণে আবারও ০২/০৮/২০২২ ইং সনে উপ-পরিচালক সম্বলিত জেলা কার্যালয়, দুদক নোয়াখালীতে দরখাস্ত দেন। তাছাড়া তাহার বিরুদ্ধে বর্তমানে অবস্থানরত নোয়াখালী ৬নং ইউনিয়ন গ্রাম আদালতে জৈনক ব্যক্তি দরখাস্ত দিলে (মোকদ্দমা নাম্বার-৫৮১৭/১৮) চেয়ারম্যান বিরোধীয় ভূমিতে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভূমির সকল প্রকার গাছ কাটা মাটি কাটা সহ সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাও মানেননি। এছাড়া জেলা বোর্ডের সার্ভেয়ার তাকে বারং বার নিষেধ করলেও সার্ভেয়ারের কথা অমান্য করে জেলা পরিষদের জমির রাস্তার পাশে লাগানো গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে কোন কারণ ছাড়ায় সার্ভেয়ার কোনরূপ ব্যবস্থা নেননি। এই বিষয়ে নোয়াখালী জেলা বোর্ডের সার্ভেয়ার মোঃ এমরান হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে হাতিয়ার একাধিক ভুক্তভোগীদের সাথে মোবাইলে কথা হলে তারা বলেন, সামছুদ্দিন হাতিয়া থেকে যাওয়ার সময় আমাদের অর্থ ফেরত দিবে বলে বহুবার সদর উপজেলার মাইজদীতে নিয়েছে এবং বিভিন্ন রকম চাপ সৃষ্টি করে ফেরত পাঠিয়েছে। তার কাছে বারবার পাওন টাকা দিতে বললে সে আমাদেরকে বিভিন্ন মামলা, হামলার ভয় দেখায়। ভুক্তভোগীরা আরো বলেন, সামান্যমত দর্জির দোকানে তার বাবার সাথে কাজ করে কিভাবে কোটি কোটি টাকার জমি খরিদ করলো তা সরজমিনে তদন্ত করলে আপনারা বুঝতে পারবেন।
এই বিষয়ে সামছুদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মোবাইলে আমি কথা বলবো না, সরাসরি আপনাদের সাথে কথা বলবো। কিছুক্ষন পরে নোয়াখালী কোর্টের জনৈক আইনজীবির কক্ষে বসে থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য বলেন এবং তার কোটি কোটি টাকা আয়ের হিসাব বুঝিয়ে দিবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply