আইটি ইনকিউবেটর উদ্বোধন আইসিটিতে বিশ্বকে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে : জয়

0
12

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অগ্রগামী দেশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মতো দ্রুতগতিতে আর কোনো দেশই এ খাতে এগিয়ে যেতে পারেনি। বাংলাদেশের তরুণরা একসময় আইসিটি খাতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে দেশের প্রথম ডিজিটাল ‘আইসিটি ইনকিউবেটর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বমানের উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংকের সহায়তায় রাজধানীর জনতা টাওয়ারে স্থাপিত আইসিটি ইনকিউবেটর চালু করা হয়। আইসিটি ইনকিউবেটর ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরির একটি প্লাটফর্ম, যা তরুণদের ক্ষমতায়ন, কাজের সুযোগ প্রদান এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি ও সমাজে কাজের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে ‘কানেক্টিং স্টার্ট আপস’ বিজয়ী ১০টি সেরা উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়। এসব উদ্যোক্তার হাতে কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে অবস্থিত আইটি ইনকিউবেটরের চাবি তুলে দেওয়া হয়। সেখানে এক বছরের জন্য বিনা মূল্যে অফিস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাঁদের।

জয় বলেন, ‘আমি ২০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে কাজ শুরু করেছিলাম। আপনাদের মতো আমিও একজন আইটি উদ্যোক্তা ছিলাম। অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি; তবে চেষ্টা করে একসময় সফলতা পেয়েছি। আমার বিশ্বাস, আজ যে ১০টি আইটি প্রতিষ্ঠান ইনকিউবেটরে জায়গা বরাদ্দ পেল তারাও সফল হবে।’

পৃথিবীতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয় উল্লেখ করে জয় বলেন, ‘যদি স্বপ্ন থাকে আর স্বপ্ন জয়ের আকাঙ্ক্ষা থাকে, তবে সব স্বপ্নই বাস্তবায়ন সম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় স্টার্ট অ্যাপ হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ একসময় স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্ভাবনী পরিকল্পনার ফলে তরুণরা আজ তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করে জয় বলেন, বিশ্বের দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন প্রথম সারিতে জায়গা করে নিয়েছে। এসব সম্ভব হয়েছে সরকারের উদ্ভাবনী পরিকল্পনার কারণেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, বিটিআরসি সচিব ড. শাহজাহান মাহমুদ, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি হাউলিন ঝাউ, আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার, বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলকমের সহপ্রতিষ্ঠাতা অগি কে ফাবেলা, বাংলালিংকের সিইও এরিস ওস এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

জানা যায়, দেশের আইটি উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনীমূলক প্রকল্প আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে সেসব উদ্যোগ নিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘কানেক্টিং স্টার্ট অ্যাপস বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব শুরু হয়।

প্রতিযোগিতার ১০ বিজয়ীকে জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে স্টার্ট অ্যাপসদের জন্য বরাদ্দকৃত স্থানে বিনা মূল্যে অফিস স্পেস ছাড়াও অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। অন্য প্রতিযোগীরাও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পাবেন।

গত শনিবার ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে প্রতিযোগিতাটির সর্বশেষ বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ‘গ্রোথ স্টেজ’ ও ‘আইডিয়া স্টেজ’ ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত ২৫টি করে মোট ৫০টি উদ্যোগ বিচারকদের সামনে তুলে ধরেন প্রতিযোগীরা। সেখান থেকেই চূড়ান্ত ১০ উদ্যোগ নির্বাচন করা হয়।

নির্বাচিত শীর্ষ ১০ উদ্যোগ জায়গা পেলেও অন্য অর্ধশত উদ্যোগ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ডিজিটাল ইনকিউবেশন সেন্টারে বিভিন্ন সুবিধাসহ তাঁদের উদ্ভাবনী প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য জায়গা বরাদ্দ নিতে পারবেন।

যেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ব্যবস্থা, বড় কনফারেন্স রুম ব্যবহারের সুবিধাসহ তাঁদের আর্থিক বিনিয়োগের মাধ্যমে উদ্যোগটি যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া স্টার্ট অ্যাপসগুলোকে নিয়ে পরবর্তী সময়ে বছরব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) যৌথভাবে কানেক্টিং স্টার্ট অ্যাপস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

আয়োজনে ইনকিউবেশন ও টেলিকম পার্টনার হিসেবে বাংলালিংক এবং অন্যান্য সহযোগী হিসেবে ছিল ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, গ্যাপ এবং কিজকি।

কোন মন্তব্য নেই

একটি উত্তর ত্যাগ