অন্তর্বর্তী সরকারের আট উপদেষ্টা ও দুই সচিবের বিরুদ্ধে ‘সীমাহীন দুর্নীতি’র প্রমাণ নিজের কাছে রয়েছে, এমন দাবি করে গত বছর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশ না করে তিনি এ অভিযোগ করেছিলেন। যেদিন তিনি এ তথ্য দিয়েছিলেন, সেদিন তিনি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
তিনি বলেন, ‘অনেকের মতে অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের দুর্নীতির পরিমাণ আগের ১৫ বছরের দুর্নীতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। এর চেয়ে বড় অপবাদ আর কী হতে পারে!’ জুলাই আন্দোলনের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় বসা অন্তত আটজন উপদেষ্টার সীমাহীন দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ দিতে পারবেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ বক্তব্য তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিভিন্ন মহল থেকে ওই আট উপদেষ্টার নাম প্রকাশের দাবি ওঠে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান তখন সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার কথা বলেছিলেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীকে দুর্নীতির দালিলিক প্রমাণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পরবর্তীতে বিষয়টির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
তবে আবদুস সাত্তারের বক্তব্যের পরদিনই সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে তাঁর অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযোগের প্রমাণ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ওই ঘটনার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আবদুস সাত্তারের বক্তব্যের দায় সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত এবং এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই।’
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ’৮২ ব্যাচের কর্মকর্তা এ বি এম আবদুস সাত্তারকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুগ্ম সচিব থাকাকালে অবসরে পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে ভূতপূর্ব সচিব পদে পদোন্নতি দেয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবদুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষাপটে আবারও আলোচনায় এসেছে তার সেই বক্তব্য। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, যে আট উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ থাকার দাবি তিনি করেছিলেন, তাদের নাম কি এবার প্রকাশ করা হবে? আর যদি সত্যিই এমন প্রমাণ থাকে, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি? এ ব্যাপারে জানতে গত রাতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
