ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারে আতঙ্কিত ঈদগড় – ঈদগাঁও – বাইশারী – গর্জনিয়ার ২ লক্ষ মানুষ
পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারে আতঙ্কিত ঈদগড় – ঈদগাঁও – বাইশারী – গর্জনিয়ার ২ লক্ষ মানুষ

পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারে আতঙ্কিত ঈদগড় – ঈদগাঁও – বাইশারী – গর্জনিয়ার ২ লক্ষ মানুষ

এ যেন কাটাঘাঁয়ে লবণের ছিটা, একদিকে খুন গুম, হত্যাকান্ড ও অনবিরত ডাকাতি অপহরণ ; এরই ফাকে প্রত্যাহার করে নিল ঈদগড় একমাত্র পুলিশ ক্যাম্প।    

রামু ,কক্সবাজার, প্রতিনিধি:
ঈদগড়-ঈদগাহ  বাইশারী ও গর্জনিয়া একমাত্র শহর কেন্দ্রীক সড়কটি দূর্গম পাহাড়ি জনপদ সন্ত্রাস,ডাকাত ও অপহরণকারীদের ক্রাইমজোন হিসাবে পরিচিত এই ঈদগড় ইউনিয়নের বুক দিয়ে বয়ে ঈদগাঁও পৌঁছেছে।

এটি কক্সবাজার জেলার উত্তর পূর্বে  রামু উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল ঘেঁষে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাধীন বাইশারী বেষ্টিত ক্রাইম এলাকা । 
২০২০ সালের ৮ই অক্টোবর ঈদগড় সড়কে বহুল আলোচিত  জনপ্রিয় শিশু শিল্পী জনি রাজ দে নির্মমভাবে ডাকাতদের হতে হত্যা হয়, একইদিনে ঈদগড়ের আরেক ব্যক্তি কালু নামে সন্ত্রাসীদের হাতে হত্যা হয়।
হঠাৎ করে এই নিয়মিত নাজুক অস্থির আইনশৃঙ্খলার অবনতির সময়ে  লক্ষাধিক মানুষের দায়িত্বে নিয়োজিত রামুর ঈদগড়ে অবস্থিত পুলিশ ক্যাম্পের সব পুলিশ সদস্যকে একযোগে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত!এমন সিদ্ধান্ত হতবাক পুরো এলাকার আতঙ্কিত জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিরা।পুলিশ ক্যাম্প প্রত্যাহারের ১০৩ দিন পার হলেও কোনধরনের ব্যবস্থা নেয়নি কক্সবাজার জেলা পুলিশ। 
যার কারণে পবিত্র ঈদুল আযহা’য় এই সড়ক দিয়ে যাথায়তের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করছে প্রতিনিয়ত চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় হঠাৎ জেলা পুলিশের নির্দেশে ক্যাম্প ছেড়ে চলে আসেন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
পরে কয়েকদিন ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ঢালায় স্থানীয় চেযারম্যানের নেতৃত্বে সন্ধ্যায় পাহারা বসিয়ে ডাকাত প্রতিরোধের চেস্টা করলেও এখন আর কারো দেখা মিলে না ঢালায়। স্থানীয়রা বলেন, দিনের বেলায় যে সড়কটি অরক্ষিত থাকে সেখানে এই ঈদে কিভাবে চলাচল করবো আমরা। তাদের আশংকা, যে কোন মুহুর্তে বসতবাড়ী ও সড়কে ডাকাতি অপহরণসহ অন্যান্য অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে পারে।
আতঙ্কিত হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণঃ ঈদগড় ইউনিয়নে সড়ক ও বসতবাড়িতে গণহারে ডাকাতি অপহরণ হওয়া। ডাকাতদল দিনদুপুরে  ঈদগড় বাজারে হানা দিয়ে লুটপাট চালিয়ে দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া। পুলিশ সদস্য সুসম চাকমা,  মাস্টার নুরুচ্ছপা ও ডাঃ মহিউদ্দীনসহ অসংখ্য সাধারণ অসহায় মানুষকে ডাকাতের হাতে জীবন বিনষ্ট হওয়া। ঈদগড়ের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নয়নের স্বার্থে সরকার তখন ঈদগড়ে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করেছিল। 
ঈদগড় ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মদ ভূট্টো  হাজার হাজার মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ঈদে হলেও পুলিশ ক্যাম্প পুণরায় স্থাপনের দাবী করছেন। 
বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আলম বলেন, আমার এলাকার হাজার হাজার মানুষ ঐ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। এ সুযোগে অনেক নিরীহ মানুষ অপহরণের স্বীকারও হয়েছিল। তাই বর্তমানে বাইশারী ও পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষ চলাচলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এজন্য তিনি পূনরায়  ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্প দ্রুত স্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন। 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে- রামু থানার  ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল হোসাইন বলেন,রামু থানা থেকে ৪০ কিলোমিটার,ঈদগাঁও  থানা হয়ে আমাদের ঈদগড়ে গিয়ে অভিযান করা খুবই কঠিন। তাই রামু থানার জন্য ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়িটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারনে পুলিশ ক্যাম্পটি পুনরায় চালু করার জন্য এসপি স্যারকে অনুরোধ করা হয়েছে। স্যার আশ্বাস দিয়েছেন এটি পুনরায় চালু করার। আশা করি খুব দ্রুত এটি বাস্তবায়ন হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com