Tuesday , 14 April 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির সংশোধন বিবেচনাধীন : বিদ্যুৎমন্ত্রী
--সংগৃহীত ছবি

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির সংশোধন বিবেচনাধীন : বিদ্যুৎমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সালে করা বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি জানান, চুক্তিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, ওই কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইন বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন। তারা চুক্তি পরীক্ষা করে দেখেছেন যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তিটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অস্বাভাবিক মূল্যে স্বাক্ষর করেছে। এখন সরকার চুক্তি সংশোধনের জন্য দুটি বিকল্প বিবেচনা করছে। বিকল্প দুটি হলো আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান অথবা আদানি পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি সংশোধন।

সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তবে গ্রীষ্মকালে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি ও সঞ্চালন সীমাবদ্ধতায় মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। ফলে ওই সময়ে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। গ্রাহকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ও লোডশেডিং বন্ধে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিদ্যুতের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিং বন্ধে বিদ্যুৎ বিভাগের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরসঙ্গে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক জ্বালানির চাহিদা মোকাবিলায় জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ, ঘোড়াশাল এবং নারায়ণগঞ্জের ৭৪টি মনোনীত ভোক্তার স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় এ কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে ৪২ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি নিরীক্ষক এবং ১৭৮ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি ব্যবস্থাপক তৈরি করেছে।জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের পেট্রল পাম্প একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তেলের জন্য রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি, মন্ত্রী কি দেখতে পাচ্ছেন না? এই সমস্যার সমাধান কবে হবে তা জানতে চেয়ে এমন প্রশ্ন রেখেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেছিলেন,  দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। কী হচ্ছে? যারা তেল সংগ্রহ করতে যাচ্ছে তারা যথাযথভাবে তাদের স্বাভাবিক যে সার্ভিস, সেটা পাচ্ছে না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি গ্র্যাজুয়ালি পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজকে সিলেটের পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা দেখছি, যে রাস্তায় রাইডের গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং আমরা বারবার করে দেখতে পারছি যে সবাই প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, সরকার এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে প্রশ্ন, তিনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং গ্র্যাজুয়ালি যে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে, স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সেই জায়গাতে তিনি কবে নাগাদ এই সমস্যাগুলোর যথাযথভাবে তিনি সমাধান দেবেন এবং তিনি প্রবলেমটি অ্যাকনলেজ করবেন কি না?

জবাবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পাম্পে যে পরিমাণ তেল প্রতিদিন দেওয়ার কথা সেই পরিমাণ তেল আমাদের পাম্পগুলোতে সাপ্লাই করা হচ্ছে। কিন্তু ইরানের ঘটনার পর থেকে হঠাৎ করে বিক্রি বেড়ে গেছে। বিক্রি বেড়ে যাওয়ার ফলে যে পেট্রল পাম্পে যে পরিমাণ তেল দিতাম এক দিন-দেড় দিন লাগত বিক্রি হতে, এখন দুই ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। সে জন্য আপনার মানুষের যে প্যানিক বায়িংটা শুরু হয়েছে লাইন দেখা যায়। কিন্তু পেট্রল সাপ্লাই হয় না, এটা ঠিক নয়, পেট্রল প্রতিদিন সাপ্লাই করা হয়।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply