ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে ২০১৭ সালে করা বিদ্যুৎ ক্রয়ের চুক্তি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
তিনি জানান, চুক্তিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি জাতীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এসংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরসঙ্গে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রাথমিক জ্বালানির চাহিদা মোকাবিলায় জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ, ঘোড়াশাল এবং নারায়ণগঞ্জের ৭৪টি মনোনীত ভোক্তার স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম চলছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেছিলেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। কী হচ্ছে? যারা তেল সংগ্রহ করতে যাচ্ছে তারা যথাযথভাবে তাদের স্বাভাবিক যে সার্ভিস, সেটা পাচ্ছে না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি গ্র্যাজুয়ালি পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজকে সিলেটের পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা দেখছি, যে রাস্তায় রাইডের গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং আমরা বারবার করে দেখতে পারছি যে সবাই প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, সরকার এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে প্রশ্ন, তিনি কি দেখতে পাচ্ছেন না, গাড়ির দীর্ঘ সারি এবং গ্র্যাজুয়ালি যে পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে, স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? সেই জায়গাতে তিনি কবে নাগাদ এই সমস্যাগুলোর যথাযথভাবে তিনি সমাধান দেবেন এবং তিনি প্রবলেমটি অ্যাকনলেজ করবেন কি না?
জবাবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা প্রতিটি পাম্পে যে পরিমাণ তেল প্রতিদিন দেওয়ার কথা সেই পরিমাণ তেল আমাদের পাম্পগুলোতে সাপ্লাই করা হচ্ছে। কিন্তু ইরানের ঘটনার পর থেকে হঠাৎ করে বিক্রি বেড়ে গেছে। বিক্রি বেড়ে যাওয়ার ফলে যে পেট্রল পাম্পে যে পরিমাণ তেল দিতাম এক দিন-দেড় দিন লাগত বিক্রি হতে, এখন দুই ঘণ্টায় শেষ হয়ে যায়। সে জন্য আপনার মানুষের যে প্যানিক বায়িংটা শুরু হয়েছে লাইন দেখা যায়। কিন্তু পেট্রল সাপ্লাই হয় না, এটা ঠিক নয়, পেট্রল প্রতিদিন সাপ্লাই করা হয়।’
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
