ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » আবারও সফল অস্ত্রোপচারে বেঁচে গেলো গৃহিণীর জীবন
আবারও সফল অস্ত্রোপচারে বেঁচে গেলো গৃহিণীর জীবন

আবারও সফল অস্ত্রোপচারে বেঁচে গেলো গৃহিণীর জীবন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালের সফল অস্ত্রোপচারের কারনে আবারও বেঁচে গেলো ৪০ বছর বয়সী শাহানা বেগম নামের এক গৃহিণীর জীবন।

সোমবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে দেখা যায় শাহানা বেগম সুস্থ হয়ে উঠছেন।। এখন আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছেন।

শাহানা সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের হেমাতাপুর গ্রামের আব্দুর রউফের স্ত্রী। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট শাহানা মুমূর্ষু অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। ওই সময় শাহানার প্রস্রাবের সমস্যা ছিল। তার জরায়ু মুখে একটি বড় ধরনের টিউমার ধরা পড়ে। যেকারনে তার প্রস্রাবের নালী ও জরায়ু মুখ আটকিয়ে যায়। ফলে তার প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে ইউরোলজিস্ট চিকিৎসক আশিক মাহমুদের কাছে গিয়েছিলেন শাহানা। কিন্তু তারপরও তার রোগ মুক্ত সম্ভব হয়নি। শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে ঘুরেও সমস্যা সমধান করা যায়নি।

অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালের গাইনী চিকিৎসক ডা. রনজিত বিশ্বাসের প্রচেষ্টায় ২২ আগস্ট রোববার সকালে শাহানার অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে শাহানা আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছেন। পরিবারের লোকেরাও অনেক খুশি।

অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা রনজিত বিশ্বাস জানান, শাহানা খুব মুমূর্ষু অবস্থায় মেডিক্যালে আসে। শাহানার জরায়ু মুখের টিউমারের অস্ত্রোপচার করা খুব জটিল ছিল। শাহানাকে ঢাকা নেওয়ার জন্য তার স্বামীকে পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ঢাকা নিবেনা বলে আমাদের নিশ্চিত করেন। তারপর তাদের অনুরোধে শাহানার অস্ত্রোপচার করতে সিদ্ধান্ত নেয়।

অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাইদ স্যারের সাথে আলোচনা করি। পরে রোববার সকালে গাইনী চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে সাথে নিয়ে এনেস্থিসিয়ান ডা. সজিব, ডা. শায়লা, ডা. সম্পদ ও ডা. হুমায়রাকে নিয়ে অস্ত্রোপচার শুরু করি। অস্ত্রোপচারটি সফল ভাবে সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে শাহানাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অবশেষে শাহানা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেন।

শাহানার সাথে কথা বলে জানা যায়, সে আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ। এখন নিজে নিজে বসতে পারেন, খেতেও পারেন। তার হাত ও পা নাড়াতে পারেন, একটু হাটতেও পারে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন।

হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে অনেক বড়বড় অস্ত্রোপচার হয়েছে। শাহানার অস্ত্রোপচারটি সত্যি চ্যালেঞ্জ ছিল। এর আগেও মরিয়মের নামের এক মহিলার খুব জটিল একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। যা সফল হয়েছি। গাইনী ও এনেস্থিসিয়া চিকিৎসকদের সহযোগিতায় শাহানার অস্ত্রোপচারটি করা হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে শাহানা এখন সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হওয়ার পথে। আগামীকাল বাসায় যেতে পারবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*