ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » অপরাধ ও দূর্নীতি » আমেনা হত্যা মামলার তদন্তে র‌্যাব-১৪
আমেনা হত্যা মামলার তদন্তে র‌্যাব-১৪

আমেনা হত্যা মামলার তদন্তে র‌্যাব-১৪

জামালপুর প্রতিনিধিঃ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চিনারচর গ্রামে আমেনা হত্যা মামলার তদন্ত শুরু করেছেন র‌্যাব-১৪। মামলা সূত্রে জানা যায় , গত ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ ইং গভীর রাতে বিধবা আমেনা বেগম বিলুকে হাত-পা বেঁধে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ব্যাপারে আমেনা বেগমের মেয়ে মোর্শেদা বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা( নং ১৩)দায়ের করে।
মামলাটি তদন্ত কালে ইসলামপুর থানার এসআই ( নি:) মোঃ আবুল মনছুর মির্জা জানতে পারে, মামলার প্রধান আসামী হারুন অর রশিদ ওরফে শরাফত আলী বসত বাড়ীর জায়গা জমিসহ পারিবারিক নানা বিষয়াদি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শত্রুতা পোষণ করে আসতেছে। উক্ত মামলার ঘটনা ঘটার কিছুদিন পূর্বেও  আমেনা বেগমকে মারধর করে নানা ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি প্রদান করেছিল প্রধান আসামী হারুন অর রশিদ। বাদীনিসহ স্থানীয় লোকজন জোরালো ভাবে সন্দেহ পোষণ করিতেছেন যে, উক্ত হত্যাকান্ডের সহিত আসামী হারুন গং জড়িত আছে এই বলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- জামালপুর কে অবহিত করে আসামী হারুন কে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে নিরিবিলি পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য পাওয়া গিয়াছে এই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করে। মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সি.আই.ডি) মামলাটি অধিগ্রহণ করিয়া ইন্সপেক্টর মোঃ শাহজাহান এর উপর তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্বভার ন্যস্ত করা হয়। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে জানতে পারেন প্রধান  আসামী হারুনের নেতৃত্বে আরো ৩/৪ জন আমেনা বেগমের পশ্চিম দুয়ারী দু-চালা টিনের বসত ঘরে প্রবেশ করে তাকে হাত-পা বেঁধে গলায় উড়না প্যাচাইয়া শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তিনি পরিদর্শন কালে আরো জানতে পারেন যে, হত্যাকান্ডের পর স্বপরিবারে আসামী হারুন নিজ বাড়ি হইতে পলাতক ছিল বলে আদালতকে অবহিত করে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রকৃত অপরাধিদের নাম-ঠিকানা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সহিত না জড়াইয়া সুকৌশলে পাশ কাটাইয়া এক এক সময় এক এক কথাবার্তা বলে এবং প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যাবলী প্রদান করে তাই প্রধান আসামী হারুনকে জেল হাজতে আটক রাখার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আদালতে রিমান্ড শেষে প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপরই অন্যত্র বদলি হলে মামলার দায়িত্ববার গ্রহণ করে সি.আই.ডি-র এসআই (নিরস্ত্র) কামরুজ্জামান।এরপরই শুরু হলো উল্টো পথে যাত্রা। আসামী হারুনগং দের নির্দোষ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। তখন বাদীনিসহ বাদীনির লোকজনকে ভয়ভীতি এবং এই হত্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি প্রদান করে মিথ্যা অভিযান পরিচালনা করে। তখন আসামীরাও বাদীনিকে হত্যার হুমকিও প্রদান করেন যার ফলশ্রুতিতে বাদীনি ঢাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় আশ্রয় নিয়ে কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখন এসআই কামরুজ্জামান কিছুটা পিছনে ফিরে হারুনের পলাতক ছেলে রবিউলকে গ্রেফতার করবে বলে আশ্বাস প্রদান করে। কিছুদিন পরে বাদীনির আশ্রয়দাতা পুলিশ কর্মকর্তা রোড এক্সিডেন্টে মারাগেলে বাদীনি নিজ বাড়িতে চলে আসে। চার্জশীটের কথা বলে বাদীনির কষ্টার্জিত জমানো ৫২,০০০/- (বায়ান্ন হাজার ) টাকা নিয়ে যায় এসআই কামরুজ্জামান। কারণ সে বুঝতে পেরেছিল যে, টাকা নিয়ে গেলে সে আর নড়াচড়া করতে পারবে না। এই কাজটা করে সে আবারো তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে লাগল এবং কয়েকদিনের মাথায় হারুন পরিবারকে নির্দোষ দাবি করে স্বাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয় এবং মামলার সকল আলামত নষ্ট করার অনুমতিচেয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রার্থনা জানিয়ে সে চট্রগ্রামে বদলি হয়ে যায়। বাদীনি টাকা ফেরৎ চাইলে সে ফোনে বলে নারাজী না দেওয়ার জন্য এবং টাকা এখনো ফেরৎ দেয়নি বলে বাদীনি মোর্শেদা বলেন।  বাদী আরোও বলেন , কামরুজ্জামানের এমন প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীনি তথা রাষ্ট্রপক্ষ বিজ্ঞ আদালতে নারাজী প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে মামলাটি পুনরায় সুষ্ঠ তদন্তের নির্দেশ প্রদান করে র‌্যাপিড একশন ব্যাটেলিয়ান (র‌্যাব)-১৪, জামালপুর কে। এই পরিস্থিতিতে র‌্যাব প্রধান আসামী হারুনের জামিন বাতিল এবং রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। বিজ্ঞ আদালত আগামী ৭ অক্টোবর ২০২০ ইং তারিখ শুনানির দিন ধার্য করেছেন। র‌্যাবের কাছে এলাকাবাসীর জোড়ালো দাবি খুনি পরিবারকে (হারুন গং) ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক তাহলে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের রহস্য  উন্মোচিত হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com