Friday , 14 June 2024
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী কাউন্সিলর ফরিদ শেখের হিংস্রতায় ক্ষতবিক্ষত প্রতিবন্ধী নারী

আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ী কাউন্সিলর ফরিদ শেখের হিংস্রতায় ক্ষতবিক্ষত প্রতিবন্ধী নারী

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের এক সময়ের আলোচিত ইয়াবা কারবারি সদর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদ শেখের হিংস্রতায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন একটি অসহায় পরিবার। পরিবারটির সদস্যদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তিন নারীসহ ৫ জনকে গুরুতর জখম করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগষ্ট) দুপুরে সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগেও ফরিদ শেখ ওই পরিবারটির উপর একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড স্বর্ণঘোষ গ্রামের আবুল হাসেম শেখের ছেলে ফরিদ শেখ এক সময় ইয়াবা ব্যবসা করে এখন কোটিপতি। ইয়াবা ব্যবসা করে তিনি শরীয়তপুর শহরের কোর্ট সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তুলেন আলিশান বহুতল ভবন। ইতিপূর্বে এই আলোচিত ইয়াবা ব্যবসায়ীকে একাধিক বার ইয়াবা সহ পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠান। এরপর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ধীরে ধীরে লেবাস পাল্টাতে শুরু করেন বহুরূপী ফরিদ। লম্বা দাড়ি রেখে, লম্বা পাঞ্জাবী আর টুপি পড়ে রীতিমতো বনে যান এক বিরাট পরহেজগার। তার নামের সাথে হাজী শব্দটিও দেখা যায় ইদানিং। গত বছর পৌরসভা নির্বাচনে ৮ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে  ক্ষমতা আর টাকার জোরে জিতে যান এক সময়ের আলোচিত ইয়াবা কারবারি ফরিদ শেখ।
ফরিদ শেখ লেবাস পাল্টিয়ে কাউন্সিলর হলেও পাল্টায়নি তার পুরনো চরিত্র। দীর্ঘদিন যাবত তার এক দরিদ্র প্রতিবেশী শাহাবুদ্দিন শেখ ও তার পরিবারকে উচ্ছেদ করে জায়গা সম্পত্তি ভোগ দখলের পায়তারা করে আসছে ফরিদ। ইতিপূর্বে একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে শাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের গুরুতর আহত করেছে সে। ওই ঘটনার সুবিচার চেয়ে ফরিদ শেখের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন শাহাবুদ্দিন। মামলা করার কারনে শাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের উপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইয়াবা কারবারি ফরিদ।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (১৮ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে আবারও শাহাবুদ্দিন শেখ ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায় ইয়াবা কারবারি ফরিদ শেখ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। সন্ত্রাসীরা শাহাবুদ্দিন শেখ, শাহাবুদ্দিন শেখের প্রতিবন্ধী মেয়ে তাহমিনা আক্তার, লিমা আক্তার, ছেলে তালহা শেখ ও স্ত্রী হাজেরা বেগমকে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। সন্ত্রাসী ফরিদ শেখ তাহমিনা আক্তারের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যপুরি কোপালে তাহমিনা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাহমিনার মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে সন্ত্রাসী ফরিদ শেখ ও তার বাহিনী চলে যায়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে অসহায় পরিবারটির সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। সন্ত্রাসীরা চলে গেলে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তাহমিনার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। অসহায় পরিবারটির কোন নিকটাত্মীয় না থাকায় ছোট মেয়ে লিমা আক্তার ও ছেলে তালহাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেখে বাবা শাহাবুদ্দিন শেখ ও মা হাজেরা বেগমকেই আহত অবস্থায় বড় মেয়ে তাহমিনাকে নিয়ে ঢাকা যেতে হয়। এ ঘটনার দুইদিন পর (গত ২০ আগষ্ট) শাহাবুদ্দিন শেখ বাদী হয়ে সন্ত্রাসী ফরিদ শেখকে প্রধান আসামি সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৮/১০ জনকে আসামী করে পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলর অন্য আসামীরা হলেন, আবুল হাসেম শেখ, আবুল হাসেম শেখের ছেলে খবির শেখ, জাকির শেখ, রবিন শেখ ও খালেক শিকদারের ছেলে বাবুল শিকদার।
শাহাবুদ্দিন শেখ ও তার স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, ‘ইয়াবা কারবারি ফরিদ শেখ আমাদের উচ্ছেদ করে সম্পত্তি দখলের জন্য একাধিক বার আমাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। আগের ঘটনায় মামলা করলে সে আমাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে এবং মামলা তুলে না নিলে সে আমাদের হত্যার হুমকি দেয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার ফরিদ শেখ লোকজন নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাদের ওপর আবারও সন্ত্রাসী হামলা চালায়। তারা আমাদের পরিবারের সবাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেছে। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা দায়ের করেছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ফরিদ শেখ ও অন্যান্য আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, ‘আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply