ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » উপজেলার খবর » উখিয়ার কাচা বাজারে আগুন! মাছ শাকসবজি ও মাংসের দাম বাড়তি!
উখিয়ার কাচা বাজারে আগুন! মাছ শাকসবজি ও মাংসের দাম বাড়তি!

উখিয়ার কাচা বাজারে আগুন! মাছ শাকসবজি ও মাংসের দাম বাড়তি!

এম.এ.রহমান সীমান্ত,উখিয়া,কক্সবাজারঃ

গত কয়েককদিনের টানা ও হাল্কা বৃষ্টিতে অস্বস্তিতে ছিল পুরো উখিয়া।পানিতে ডুবেছে ফসলী ক্ষেত-খামার আর সবজির আবাদ। এর ছোবল পড়েছে উখিয়ার বাজারগুলোতে। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে কাঁচা মরিচের কেজি উঠেছে ১২০ টাকায়। আর সবধরণের শাক-সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা। আবার অনেক ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০ টাকাও। দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকা আলুর দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। অপরিবর্তেত আছে চাল, ডাল, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মাছ, মুরগি প্রভৃতির দাম।বুধবার দারোগা বাজারসহ উখিয়ার কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এমন চিত্র ভেসে উঠেছে।

উখিয়া সদর দারোগা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার এবং জনলোকারণ্য হাটে মানভেদে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।

এছাড়া মূলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স, ১০০ টাকা ধুন্দল, ঝিঙ্গা, কাঁকরোল ও চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটির কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরলতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে। প্রতি আঁটি লাল শাক ২০ থেকে ২৫ টাকা, শাপলা, ও ডাটা শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।বর্ষার সবজির দাম অনেক বেশি। ক্রেতারা বলছেন, বাজার মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, এক সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচ ছিল প্রতি কেজি ৬০ টাকা। হঠাৎ লাফিয়ে দাম বাড়ছে। পাইকারি আড়ত থেকে এখন এক পাল্লা (৫ কেজি) মরিচ ৪০০-৪৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ ৮০-১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে পাইকারি বাজার থেকে। খুচরা

পর্যায়ে গতকাল ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা যায়। তারা জানান, এখন স্বাভাবিক মরিচের মৌসুম শেষ,তবে বর্ষাকালীন মরিচের আবাদ রয়েছে। যা বাজারে আসছে। অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মরিচ নষ্ট হওয়ায় এবং মরিচের ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তাছাড়া করোনার কারণে আমদানি করা মরিচ বাজারে কম আসছে। ফলে দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে।

সবজি বিক্রেতারা জানান, গ্রামেগঞ্জে সব জায়গায় এখন বৃষ্টির পানি উঠে গেছে। অনেকের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সবজির দাম এখন বেশি। গত এক সপ্তাহ ধরেই সব ধরনের সবজি বাড়তি দামে বিক্রি করছেন তারা। কারণ পাইকারি বাজার থেকে তাদেরকেও কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। কোট বাজারের শাহ আলমের দাবি, পাইকারি বাজারে সবজি কিনতে গেলেই ৬০ টাকা। দাম করা যায় না, সবার কাছে এক দর। তিনি বলেন, মিডিয়ায় খবর আসে গ্রামের কৃষক সবজির মূল্য পায় না। আমাদের দেশে এই কারসাজি দেখার কেউ নেই। কথা বলেও লাভ নেই।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৭০০ থেকে ১০০০ গ্রামের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি রুই ও কাতল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, পুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পোয়া ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, মলা ৩২০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি মাগুর ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, চাষের কৈ ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে খুচরাই না কমলেও পাইকারি বাজারে চালের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে বলে জানান কিক্রেতারা। পাইকারি বাজারে বর্তমানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট চালের দাম ২৫০০ থেকে ২৫৫০ টাকা, আটাশ ২৪৫০ থেকে ২৫০০ টাকা, স্বর্ণা ১৮৫০ থেকে ১৯০০ টাকা ও নাজিরশাইল ২৩০০ থেকে ৩০০০ টাকা। খুচরা বাজারে আগের মতোই মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, আটাশ ৫০থেকে ৫৫ টাকা, নাজিরশাইল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও স্বর্ণা ৩৩ থেকে ৪৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দাম না কমানোর পক্ষে খুচরা বিক্রেতাদের গতানুগতিক যুক্তি, আগের কেনা।
বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রসুন বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৫০ টাকা ও আদা ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজিদরে। বিক্রেতারা জানান, চলতি মাসের শুরুতে আমদানি করা পেঁয়াজের দামে বৃষ্টির কারণে কমবেশী হয়েছিল। তখন দেশি পেঁয়াজের দাম কমে ৪০-৫০ টাকায় দাড়ায়। এখন আমদানি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে।তবে রসুন আগের সপ্তাহের মতো কম দামেই বেচাকেনা হচ্ছে। এখন প্রতি কেজি রসুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উখিয়ার বাজারগুলোতে গতকাল গরুর গোশত প্রতি কেজি হাড়সহ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা এবং খাসির গোশত ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে । ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। সোনালী লেয়ার মুরগি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক কেজি ওজনের প্রতিটি কক মুরগি ২৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ডিমের ডজন ১০৮ থেকে ১২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে ।সবচেয়ে বেশী মুল্য বেড়েছে মাছ,মাংস,কাচা সবজিতে।যা ক্রেতাদের হাতের নাগালের বাইরে।তবে বিক্রেতাদের অনেকের বক্তব্য অতি বৃষ্টির কারণে সবজির আবাদে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।ফলে সরবরাহে একটু ভাড়া পড়ে।লকডাউনের কারণের কারণে বাড়তি গাড়ী ভাড়া গুণতে হয়েছে। উখিয়ার সচেতন ভোক্তাদের দাবী বাজারে প্রশাসনের মনিটরিং করা জরুরী মনে করছেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*