বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘গতকাল সন্ধ্যা থেকে উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বালখিল্য বেশ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশ্য কেউ বলতেই পারেন, বাংলাদেশের মানদন্ডে বালকদেরকে মন্ত্রী বানানো হবে আর তারা বালখিল্য করবেন না তা তো হতে পারে না। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, এই বালখিল্ল্য বসে বসে কেন দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা; আমি সেই প্রশ্নটা করতে চাই। এই আলাপটা আনা জরুরি।
’ সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি এসব কথা বলেছেন।জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি উপদেষ্টা মাহফুজ আলম হঠাৎ করে একটা স্ট্যাটাস দিলেন, সেটি এখন আর নেই। এখানেও ফান আছে, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, হয়তো দেখা যাবে ঘন্টাখানেক পরেই মাহফুজ আলম তার স্ট্যাটাস ডিলিট করে দেবেন। জনাব আলম স্ট্যাটাসটা ডিলিট করে দিয়েছেন; মানে বালখিল্যতার চূড়ান্ত।
কেন বলছি, উনি প্রথম স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন এক-১১ এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তার কিছুক্ষণ পর যখন প্রচুর ডামাডোম শুরু হয়ে গেল তখন তিনি যোগ করলেন, জুলাই জয়ী হবে জনগণের লড়াই পরাজিত হবে না। হঠাৎ করে এক ১১ কথা কেন? আমার কাছে একটা কারণ আছে বলে মনে হয়।অনেকে যেটা মনে করেছেন, উনি ডিলিট করে দিতে পারেন; তাই স্ক্রিনশট তোলা হয়ে গেছে।
প্রথম স্ট্যাটাসের মন্তব্যে তিন ব্যাখ্যা করেছেন, কেন এক ১১’র কথা তিনি বলেছেন; ওটাও এখন আর নেই। কিন্তু আমি ওটাও কপি করে রেখেছিলাম। তিনি বলছেন যে, জুলাইয়ের শক্তিগুলোর ঐক্য নেই এবং পুরাতন এক-১১ যে শক্তিগুলো আছে; তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জুলাই, ছাত্র-জনতাকে ভিলিফিকেশন করা হচ্ছে।’তিনি আরো বলেন, ‘পুরনো অর্থনৈতিক এবং কালচারাল বন্দোবস্ত ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে; দ্বন্দ হচ্ছে; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যর্থ দেখিয়ে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি ইত্যাদি ইত্যাদি।
আট ১০ টা ইভেন্টের মত গণভুত্থানকে দেখানো হচ্ছে। তিনি জুলাইয়ের পক্ষ শক্তিকে ধীরে ধীরে অরাজকতাকারী অযোগ্য ব্যর্থ হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে জুলাই সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নির্বাচন নিয়ে কোন সমস্যা না থাকলেও সেটা নিয়ে টানা পড়েন দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কিছু মিলিয়ে তিনি মনে করছেন। আচ্ছা প্রথম কথাটা হচ্ছে, এটা কি হঠাৎ করে একদিন দু’দিনে হয়েছে? তিনি হঠাৎ করে স্ট্যাটাসটা কেন দিলেন? কি ঘটলো যে ৪ আগস্ট তাকে এই স্ট্যাটাসটা দিতে হয়েছে। একটা কথা মনে রাখা দরকার, এক ১১ হবে কিনা; এক ১১ হওয়ার মত প্রেক্ষাপট আসলে দেখা যায় যদি, আক্ষরিক অর্থেই আমরা দেখি যে, এক-১১ সময়ে বোঝা যাচ্ছিল দেশ এমন একটা সমস্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেই রকম সমস্যা কি এক্সিস্ট করে। এখন উত্তর হচ্ছে না। তাহলে তিনি কেন বলছেন এই যাবতীয় কথা। এর আগেও তিনি একাধিকবার এসব কথা লিখেছেন। আমরা একটু তার অন্য বালখিল্যগুলো যোগ করে নেই।কয়েকদিন আগেই তিনি একটা স্ট্যাটাসে স্পষ্টতই এনসিপি কে দায়ী করেছেন, যখন তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়। তখন তিনি সেটা নিয়ে জানান, একটি নতুন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনেকে করাপশনে জড়িত, পরে কিছুক্ষণের মধ্যে সেটা আবার এডিট করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যোগ করেছিলেন। আমরা নিশ্চয়ই মনে করতে পারবো একবার তিনি অখন্ড বাংলা ভারতের বিভিন্ন অংশ বিহার উড়িষ্যা সবকিছু মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মিলিয়ে একটা অখন্ড বাংলার আলাপ দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে সেই স্ট্যাটাস ডিলিট করেছেন। ধরে নিলাম যে, তখন খানিকটা অপরিণত ছিলেন তিনি। মাত্রই ক্ষমতায় এসেছেন। এতকিছু বুঝে উঠতে পারেননি। কিন্তু এরপর চলছে এবং ক্রমাগত চলছে। লাস্ট যে ঘটনাটা, উনি ডিলিট করে কি অর্জন করলেন আসলে? তার মানে উনি যে কথাটা বলেছেন এটা মিথ্যা কথা? বা প্রথম যখন দিলেন এরপর আবার এড করলেন যে; অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো জয়ী হবে। প্রথমে তা মনে করেননি তাহলে কেন সেটা লিখেননি পরে আবার লিখলেন কেন। আবার ব্যাখ্যা দিলেন এবং ডিলিট করলেন। ডিলিট করার মাধ্যমে কি অর্জন করলেন।
প্রধান উপদেষ্টা যখন এ ধরনের উপদেষ্টাকে নিয়েছিলেন, ছাত্রদেরকে নিয়েছিলেন তখনই একটা আলাপ করেছিলাম। এটা পরের দিকে বলবো এবং তার জায়গা থেকে এটা একটা ডিজাস্ট্রাস সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু যে কথাটা বলছিলাম হঠাৎ করে এক ১১ দেখছেন কেন জনাব মাহফুজ আলম। আমার ধারণা, গতকাল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ একটা ব্রিফিং করেছে গত এক বছরের পরিস্থিতি নিয়ে। সব রাজনৈতিক দল এমনকি বিএনপিকেও কঠোর সমালোচনা আছে কিন্তু এনসিপি সম্পর্কে তিনি দুটো বক্তব্য দিয়েছেন। যে দুটো বক্তব্য সম্ভবত এখন তাদের খুব গায়ে লাগা শুরু হয়েছে। তার হেডলাইন হচ্ছে, এনসিপি কিংস পাটি; তাদের দুজন সরকারে। জনাব ইফতেখারুজ্জামান কিংস পার্টির কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, এটা গোপন করার কিছু নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টি তার সম্পর্কে বলা হয়েছে, কিংস পার্টি। কারণ এর সঙ্গে সহযোদ্ধা বা সহযাত্রী হিসেবে যারা আছেন তাদের দুজন সরকারে আছে সেই কিংস পার্টি হিসেবে। টিআইবি তাদের পর্যবেক্ষণে বলছে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক দল বা কিংস পার্টি গঠন করা হচ্ছে মানে, আমরা যে অভিযোগটা করছিলাম, সরকারের এলাইনমেন্ট আছে, সরকার সমর্থন করছে টিআইবি স্পষ্টভাবে বলছে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দল তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের মধ্যেই পুরনো যে ধরনের বাজে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা এগুলো রাজনীতিও না, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস এগুলোকে ইন্ডিকেট করে বলছেন যে, অন্য দলগুলো সেই পথে চলে গেছে; এমনকি নতুন দলটাও শুরু থেকে একই পথেই গেছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের জন্মলগ্ন থেকেই একই মডেল অনুসরণ করেছে। দখলবাজি-চাঁদাবাজির মধ্যে নিজেদের নিমজ্জিত করে আত্মঘাতী পথে অগ্রসর হয়েছে। তার মানে এনসিপিকেও সরাসরি একিউজ করেছে। এখন এই ধরনের হুমকির মুখে আক্রমণের মুখে আমরা এভাবে বলবো।
টিআইবি যা বলেছে এর মধ্যে যথেষ্ট সত্যতা আছে; খুবই সত্য কথাবার্তা এগুলো সরাসরি বলা হয়েছে এবং বেশ কঠোর ভাষায় বলা হয়েছে। এই জিনিসগুলো এখন দুই ছাত্র উপদেষ্টার দিকে তারা ইন্ডিকেট করছেন। এনসিপিকে যখন কিংস পার্টি বলা হচ্ছে, তার মানেটা হচ্ছে তাদেরকে সরিয়ে দিতে হবে সরকারের; এই বদনাম ঘোচানোর জন্য। এরকম একটা ঝুঁকি তাদের আসতে পারে বলে ফিল করছেন। মন্ত্রিত্বের চেয়ারে বসে তারা খুব আরাম টারাম পেয়ে গেছেন নিশ্চয়ই; তারা আর সরতে চাইবেন না। না হলে এই দুজনের আরো অনেক আগেই সরে যাওয়া উচিত ছিল। এই দুজনকে দিয়ে যেহেতু এনসিপি দলটা অভিযুক্ত হচ্ছে, তারা নিজেদেরই সরে যাওয়া উচিত ছিল। অথবা ডক্টর ইউনূসকে তাদের সরিয়ে দেয়া উচিত ছিল। বোধ করি এখন জনাব মাহফুজ আলম খানিকটা ইনসিকিউর ফিল করছেন যে, সরকার এবার বা সরকার প্রধান এবার তাদেরকে সরে যেতে বলেন কিনা। সেটা নিয়ে তারা হয়তো ভয়ও পাচ্ছেন তাই এখন এই আলাপ। আমরা দেখেছি যখনই কোন সমালোচনা এসে হাজির হয়, তখন এমন একটা কিছু আনেন যেটার মাধ্যমে নিজেদেরকে একটু রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়।