অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কে নির্ধারণ করে দেবে?—এমন প্রশ্ন তুলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে নন-সিরিয়াস সরকার বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টক শোতে উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মাসুদ কামাল।
জাতিসংঘ সফরের মধ্যে জিটিওকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সেখানে নির্বাচন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন।
নেপালের বর্তমান সরকার ছয় মাসে নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে কেন ১৮ মাস লাগছে?—এমন প্রশ্নের জবাবে সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেছেন, ‘আপনি বলছেন, অনেকে বলছেন, নির্বাচন দিতে এত সময় লাগছে কেন? কিন্তু অনেকে বলছেন, আপনারা পাঁচ বছর থাকুন। অনেকে বলছেন, ১০ বছর থাকুন, আবার কেউ বলছেন, ৫০ বছর থাকুন।
’ প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য সম্পর্কে মাসুদ কামালের কাছে জানতে চান টক শো উপস্থাপক।মাসুদ কামাল বলেন, ‘বদ্ধ ঘরের মধ্যে বসে ভেতরে যারা থাকে তাদের কথা শোনা যায়। কিন্তু বাইরে যারা চিৎকার করছে তা কান পর্যন্ত আসবে না। কারণ ঘরটা সাউন্ড প্রুফ।
তো প্রধান উপদেষ্টা বুঝতে পারছেন না আসলে বেশির ভাগ মানুষ কী চায়।’ওই সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে মাসুদ কামাল বলেন, ‘এক জায়গায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এই সরকারের মেয়াদ কেউ নির্ধারণ করে দেয়নি। আমরা যত দিন মেয়াদ নির্ধারণ করব, তত দিন হবে। আমার প্রশ্ন হলো, আপনি কে মেয়াদ নির্ধারণ করার। আপনি কে, যে আপনার নিজের মেয়াদ নির্ধারণ করবেন।
এটা তো একমাত্র শেখ হাসিনার মতো লোকেরা বলত।’তিনি আরো বলেন, ‘এ রকম নন-সিরিয়াস গভর্মেন্ট আমি আমার জীবনে কোথাও দেখিওনি-শুনিওনি। একজন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী তিনি একটা ইন্টারভিউতে বলতেছেন যে আমরা তো এই জগতের লোক না। দেখি কী করতে পারি। এটা কি ট্রায়েল? আপনি কিভাবে দেশ চালাবেন।’
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়নি তার রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সত্য কথা আসলে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিন্তু একটি পলিটিক্যাল পার্টির পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিটি স্থগিত থাকলে তার আর কাজ কী।’