ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » কুষ্টিয়ায় আরও ১৫ জনের মৃ’ত্যু !! শনাক্ত-১৪১
কুষ্টিয়ায় আরও ১৫ জনের মৃ’ত্যু !! শনাক্ত-১৪১
--প্রতীকী ছবি

কুষ্টিয়ায় আরও ১৫ জনের মৃ’ত্যু !! শনাক্ত-১৪১

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি !!!  করোনা সংক্রমণের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় প্রথম কুষ্টিয়া। অস্বাভাবিক হারে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন করোনায় ও ৫ জন উপসর্গ নিয়ে মারা যান। 
সোমবার  (০৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন, এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।রবিবার  সকাল ৮টা থেকে সোমবার  সকাল ৮টা পর্যন্ত এদের মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫১১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এদের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ২৩ জন, কুমারখালী উপজেলায়  ৩৩ জন, দৌলতপুর উপজেলায় ২৭ জন, ভেড়ামারায় উপজেলায় ২১জন, মিরপুর উপজেলায় ২৬ জন, এবং খোকসায় উপজেলায় ১১ জন রয়েছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল  হাসপাতালটিতে বর্তমানে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ২২০ রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
এই জেলায় এপর্যন্ত করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ৬৩০ জন মারা গেছেন। মোট আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৪৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৩০৮ জন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.  আব্দুল মোমেন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কারণে মানুষ আগের চেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনার নতুন স্ট্রেইন ছড়িয়ে পড়ায় একজনের দ্বারা অনেক লোক আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসককে আরও কঠোর হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিকে ডেডিকেটেড ঘোষণার পর থেকে রোগীর চাপ বাড়তে আছে। প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের লোকবল কম। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ সংশ্লিষ্ট সবাই চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিদিনই শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ এস এম মুসা কবিরের বলেন , গ্রামে গ্রামে প্রশাসনের নজরদারি ও তদারকি আরও বাড়াতে হবে। উপসর্গ নিয়ে কেউ যেন বাড়িতে বসে না থাকেন। তাঁদের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়া মৃত্যুহার কমানো সম্ভব নয়। চিকিৎসা নিতে যত দেরি হবে, মৃত্যুর ঝুঁকি তত বাড়বে।  তিনি আরও  বলেন, সংক্রমণের হার কমানোর জন্য শতভাগ মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প পথ নেই। যত দ্রুত সম্ভব, গ্রামের বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকা নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। কেননা মারা যাওয়া রোগীদের বেশির ভাগই গ্রাম থেকে আসা বয়স্ক নারী–পুরুষ।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*