ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » খুলনা বিভাগ » কুষ্টিয়ায় রেল কতৃপক্ষের অবহেলায় রেলট্রলির সাথে মুখোমুখি দূর্ঘটনায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত
কুষ্টিয়ায় রেল কতৃপক্ষের অবহেলায় রেলট্রলির সাথে মুখোমুখি দূর্ঘটনায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

কুষ্টিয়ায় রেল কতৃপক্ষের অবহেলায় রেলট্রলির সাথে মুখোমুখি দূর্ঘটনায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত

আকরামুজ্জামান আরিফ, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ায় রেল কতৃপক্ষের অবহেলার কারনে মালবাহী এ আই এফডি-২ ট্রেন ২২ টি বগিতে গম নিয়ে ফরিদপুরে যাওয়ার পথে শহরের মিলপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা রেললাইনের কাজে ব্যবহৃত ট্রলি বোঝাই রেলের পাতের সাথে মুখোমুখো দূর্ঘটনা ঘটে। এতে মালবাহী ট্রেনটির ৫ বগি লাইনচ্যুত হয়ে ভেঙ্গে পরে এবং ট্রেন চলাচলের রেলের পাত ও ট্রেনের কয়েকটি চাকা ভেঙে যায়। শুক্রবার ৫ মার্চ দুপুর দেড়টার সময় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়,কুষ্টিয়া শহর ছেড়ে মালবাহী ট্রেনটি বড় ষ্টেশন অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছিলো। এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি রেলের ট্রলি রেল বোঝাই করে ৩-৪ জন কুষ্টিয়া বড় ষ্টেশনের দিকে যাচ্ছিলো। হঠাৎ করে সামনে রেলের ট্রলি বোঝাই রেলের পাত দেখে ট্রেনের ড্রাইভার নিয়ন্ত্রন করার জন্য ট্রেনটি থামানোর চেষ্টা করতে গেলে ব্যার্থ হয় এবং ট্রলি ও মালবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।মুখোমুখি  সংঘর্ষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগেই ট্রলি নিয়ে আসা ৩-৪ জন লোক ট্রলি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনা ঘটার পর থেকে সাধারন মানুষের মুখে নানা ধরনের গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারন জনগন বলছে রেল লাইনে যখন মালবাহী ট্রেন যাচ্ছে তাহলে কিভাবে ট্রলি যোগে রেল বোঝাই লোহার পাত চলাচল করে। তাহলে কি রেল কতৃপক্ষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলো। সিগন্যাল বাদে ট্রেনটি যাতায়াত কিভাবে যাতায়াত করে। এ বিষয়ে ষ্টেশন মাষ্টার জালাল উদ্দিন মিয়া বলেন, আমাদের কাছে সিগন্যাল ছিলো। আমরা সিগন্যাল অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছি কিন্তু রেল লাইনে ট্রলি কিভাবে আসলো সেটা আমরা জানিনা সেটা পিডাব্লিউ অফিসের কাজ। এ বিষয়ে টি-৯ মিলবাজার  রেলগেটের গেট ম্যান মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে সিগন্যাল অনুযায়ী আমি গেট বন্ধ করেছি। তারপরে আমি ট্রলি যোগে রেলের পাত নিয়ে যাতে দেখে তাদেরকে ট্রেন আসছে বলে আমি বারবার অবগত করি কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। যখন ট্রলি যোগে ৩-৪ জন লোক পিডব্লিউ অফিসের দিক থেকে ষ্টেশনের দিকে এগিয়ে আসছিলো তখন মালবাহী ট্রেনটি কুষ্টিয়া বড় ষ্টেশন অতিক্রম করে বিডব্লিউটিউ অফিসের দিকে যাচ্ছিলো। তখনও আমি বারবার ট্রলি নিয়ে আসা ৩-৪ জন লোককে ট্রেনের বিষয়টি জানালে ট্রলির লোকজন তখন  জানায় মালবাহী ট্রেনটি বন্ধ করে দিতে। তাৎক্ষনিকভাবে আমি সময় সুযোগ না পেয়ে লাল পতাকা দিয়ে সিগন্যাল দিতে লাগলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ট্রেনটি নিকটে পৌছালে ট্রলির লোকজন লাফ দেয় এবং মালবাহী ট্রেনটির সাথে রেল ট্রলিটির মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এ বিষয়ে মালবাহী ট্রেনের  ড্রাইভার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা রুট ক্লিয়ার সিগন্যাল পেয়েই  ট্রেন যাতায়াত করি। আর যে কোন ইমারজেন্সি মুহুর্তে ৪৪০ গজের মধ্যে ব্রেক কন্ট্রোল সম্ভব কিন্তু আমি এই দুর্ঘটনার সময়  হঠাৎ করে রেল বোঝাই ট্রলিটি সামনে এসে পরে এবং আমি ৫০ গজেরও কম নিকটে ট্রলিটি কাছে ছিলো।তবুও আমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছি কন্ট্রোল করার জন্য। বিষয়ে পিডাব্লিউ অফিসের এস এস এ ই (পথ) সিনিয়র সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে এস এস এ ই (ওয়ার্কস) সিনিয়র সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কালুখালীতে আছি দুর্ঘটনার ব্যাপারে আমি শুনেছি। প্রতিবেদক সিগন্যালের ব্যাপারে কথা বললে প্রথমে সিগন্যাল পাননি বলে জানান পরবর্তীতে বলেন, আমি সিগন্যাল পেয়েছিলাম ষ্টেশন মাষ্টারকে জানিয়েছিলাম। লেবার ও ট্রলি ড্রাইভারদের জানাননি কেনো এ প্রশ্ন করলে তিনি বিভিন্ন রকম কথা বলে শাকদিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন। রেল লাইনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় এই দুর্ঘটনার জন্য সম্পূর্নভাবে দায়ী পিডাব্লিউ অফিসের এস এস এ ই (পথ) সিনিয়র সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সাইফুল ইসলাম ও এস এস এ ই (ওয়ার্কস) সিনিয়র সাব-এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হাফিজুর রহমান।কারন তারা সিগন্যাল পাওয়ার পরেও এ ব্যাপারে কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহন করেনি যারফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সঠিক বিচার চেয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com