ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » খুলনা বিভাগ » ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় কুষ্টিয়ার শিল্প মালিক থেকে উদ্যোক্তারা
ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় কুষ্টিয়ার শিল্প মালিক থেকে উদ্যোক্তারা

ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় কুষ্টিয়ার শিল্প মালিক থেকে উদ্যোক্তারা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
এই শতাব্দির একটি দুঃসময়ের নাম কোভিড-১৯ ভাইরাস। যা জীবন ও জীবিকাকে থামিয়ে দিয়েছিল। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে ইতিহাসের কঠিনতম অর্থনৈতিক মন্দা পার করলো বাংলাদেশ। অর্থনীতির এমন কোনো খাত নেই যা আক্রান্ত হয়নি।
এখন অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করলেও শুরুতে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় নিজেকে রক্ষায় এবং এই ভাইরাস ছড়িয়ে পরা ঠেকাতে লক ডাউন দেওয়া হয়। লক ডাউনের সময় বন্ধ থাকে সবকিছু। থমকে দাঁড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি। কারণ আমদানি রপ্তানিসহ যোগাযোগ স্থগিত থাকে।
করোনা অতিমারির কারণে অন্যসব খাতের সাথে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শিল্প বাণিজ্য। সারা বিশ্বেই এই খাত করোনার কারণে বিপর্যস্থ হয়। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে প্রায় সব দেশই লক ডাউনের পথে হাঁটে। সেই সময় এ খাত মুখ থুবড়ে পড়ে।
এদিকে দেশের অর্থনীতি থমকে দাঁড়ালেও সব শ্রেণির মানুষের কর্মস্পৃহা ও সরকারের চেষ্টায় দ্রুততম সময়েই আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি। যদিও এ সময়ের মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে দারিদ্র্যের হার। কর্মহীন হয়ে পড়েছে বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠী। কুষ্টিয়ার শিল্প খাতে নেমে এসেছিল স্থবিরতা। বড় বড় শিল্পের মালিক থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা এখনো ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে বর্তমান সময়ে করোনার সহায়ক অবস্থানে থাকায় পুনরায় ঘুরে দঁাড়ানোর চেষ্টা করছে কুষ্টিয়ার শিল্প মালিক থেকে উদ্যোক্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছে, তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থনীতির সংকট সামলাতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তবে বিশ্বমন্দার এই সময়ে স্থবির হয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্য আগামী দিনগুলোতে অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান তৈরি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন তারা। এবং সে পথেই হাটছেন।
সুত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের অদূরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কসংলগ্ন কুমারগাড়া এলাকায় ১৮ দশমিক ৪৯ একর জমির ওপর রয়েছে কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগর। ৮৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় উদ্যোক্তাদের। পর্যায়ক্রমে ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় টিকে থাকতে না পেরে অধিকাংশই ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। কুষ্টিয়া বিসিকে ১০ দশমিক ২২ একর জায়গায় বিআরবি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে সাত হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখা লাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি করোনা মহামারিতে হোচট খেলেও তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিসিক শিল্পনগরীতে গড়ে উঠেছে পশু খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কে এন বি এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ লি:। করোনা মহামারিতে পোল্টি শিল্পে ধ্বস অর্থনীতিতে চরমভাবে প্রভাব ফেলেছে। যা কাটিয়ে উঠতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করেন প্রতিষ্টানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান নাসির। তিনি বলেন,ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পোল্টি সেক্টরের অনেক দ্রব্যই আমদানি করতে হয়। প্রত্যেকটি দ্রব্য আমদানিতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে। বিশেষকরে বিশ্বব্যাপী কন্ট্রেইনার সংকট ব্যয় ৩ গুন বেশি বাড়িয়েছে। এ খাতে ক্ষতির পরিমান বিবেচনা করে সরকারের এক বছরের প্রণোদনার মেয়াদ বাড়িযে আড়াই বছর করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর। এখানকার উৎপাদিত চাউল দেশের ২৫ শতাংশ খাদ্য চাহিদা পূরণ করে। খাজানগরে নিবন্ধিত রাইস মিল রয়েছে ৬ শতাধিক এবং অটো রাইস মিল রয়েছে ৫৫টি। করোনা মহামারিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এ খাতেও। কুষ্টিয়া জেলা অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ওমর ফারুক বলেন,আমাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এখনও বেশ সময় লাগবে। এ খাতে আনুমানিক ক্ষতির পরিমান ১ হাজার কোটি টাকা। আর্থিক  প্রণোদনা প্যাকেজও যথেষ্ট নয়। তবে এতো প্রতিকুলতার মধ্যেও আমরা কোন শ্রমিক ছাটাই করিনি। তাছাড়া আগে যেখানে খাজানগর থেকে দৈনিক ১০০-১৫০ ট্রাক চাল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেত। এলসির কারণে এখন তা নেমে হয়েছে ৩০-৪০ ট্রাক। মিল মালিকদের বঁাচাতে সরকারকে আরো প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com