অনলাইন ডেস্কঃড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের সময় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে অবৈধভাবে ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগ তুলে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আট জনের কাছে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) নোটিশটি পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া।
এতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাকেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার চালাতে বাধ্য করা হয়। এজন্য বিপুল রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর সিএসআর তহবিল গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রচারে ব্যবহার করায় আর্থিক খাতের অংশীজনদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় নোটিশে। এতে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ব্যাংকিং নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন।আইনি নোটিশে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) যৌথভাবে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করেছে।এগুলো হলো সুশাসনের জন্য নাগরিক, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী ফাউন্ডেশন ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। গণভোটে’ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারের জন্য অর্থ বরাদ্দ পায় সংগঠনগুলো।নোটিশে আরো বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও ব্যাংকগুলোকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সহায়তা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাজেট নিয়ে এবিবির চেক ইস্যু করা হয়।
শুধু ব্যাংকের অর্থ নয়—ছয়টি মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সরকারি ও আর্থিক খাতের অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
আইনি নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রাষ্ট্রীয় প্রচার, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় এবং মোট প্রায় ১৪২ কোটি টাকার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। সেটি করা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে নোটিশে।