Wednesday , 15 April 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
গোবিন্দগঞ্জে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটে সেবা ব্যাহত
--প্রেরিত ছবি

গোবিন্দগঞ্জে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকটে সেবা ব্যাহত

গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, ওষুধ সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকায় সুষ্ঠ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। এই হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিনের । তার ওপর সম্প্রতি হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার খবরে এবং ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মিত হওয়ায় রোগী সমাগম বেড়েছে কয়েকগুন। কিন্তু ১০০ শয্যার লোক না থাকায় প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা।

জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌর সভার প্রায় ৭ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবাদানের পাশাপাশি মহাসড়কের দুর্ঘটনা রোগীর চাপও সামলাতে হয়। আর আশপাশে তেমন কোন চিকিৎসা কেন্দ্র না থাকায় স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের একমাত্র আস্থার স্থল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু চাহিদা মত চিকিৎসক না থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীর চাপে হিমসিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক  না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর লোকজন হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

হাসাপাতাল সূত্রে জানা জায়, ৫০ শয্যার অনুকূলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদ রয়েছে ১১টি,  এরমধ্যে শুধুমাত্র গাইনি, সার্জারি ও এনেথেসিয়া বিষয়ে মোট ৩ জন বিশেষজ্ঞ আছে। অন্যদিকে ৮ জন মেডিকেল অফিসারের পদের মধ্যে রয়েছে মাত্র ৪ জন। এ ছাড়াও ১৭ ইউনিয়নের সাব সেন্টারে ১৭ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রাজাহার ইউনিয়নের মালটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, ছেলের কয়েকদিন ধরে জ্বর। হাসাপাতালে এসেছিলাম শিশু ডাক্তারকে দেখানোর জন্য। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চিকিৎসা নেয়ার পর জানতে পারলাম পদ থাকলেও এই হাসপাতালে কোন শিশু বিশেষজ্ঞই নেই ।

উপজেলা স্কাউট এর সদস্য রক্সি জানান, এমনিতেই আগের ৫০ শয্যার হাসাপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদ শূন্য রয়েছে। তার উপর ১০০ শয্যার ভবনে হাপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় রোগীদের প্রত্যাশা আরো বেড়ে গেছে। যে কারণে প্রচুর ভিড় বেড়েছে ।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো: মাসুদার রহমান জানান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যার হলেও এখানে একশ থেকে দেড়শ শয্যার রোগীর চাপ সহ্য করতে হয়। নতুন ভবন হওয়ার পর অনেকের ধারণা এখানে ১০০ শয্যার সকল সুবিধা যোগ হয়েছে। যে কারণে আরো বেশি রোগী আসছে। তারা ভর্তি হয়েই বেড, ঔষধ ও  খাবার  দাবি করেন। কিন্তু ৫০ শয্যার সুবিধা বলবৎ থাকায় অতিরিক্ত বেড থেকে শুরু করে খাবার ও  ঔষধ দেয়া সম্ভব হয় না।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply