চাঁদাবাজি, যানজট ও বাজারে একচেটিয়া ব্যবসার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বক্তারা।
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে নির্বাচন-পরবর্তী উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা বজায় রাখার অত্যাবশ্যকীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান। সভা সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম আহসান বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থায় চাহিদা ও সরবরাহসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক ও অদৃশ্য ব্যয় কমাতে পারলে বাজার পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হবে।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা কঠিন। ব্যবসা সহজ করতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন। চাঁদাবাজি বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।’
মতিঝিল অঞ্চলের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘রাজধানীতে যানজট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচলের কারণে যানজট বাড়ছে এবং ফুটপাত দখলও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতা জরুরি।’ব্যবসায়ী হাজী মনির হোসেন রাস্তা বন্ধ করে মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করার জন্য আইন প্রণয়নের দাবি জানান। হাজী মো. আলী ভুট্টো অভিযোগ করেন, সীমিতসংখ্যক আমদানিকারককে অনুমতি দেওয়ার ফলে বাজারে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
আমদানি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বাজার আরো স্থিতিশীল হবে। তিনি খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর জরিমানা বন্ধেরও দাবি জানান।নাহার কোল্ড স্টোরেজের তারিক উল ইসলাম খান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় কৃষিপণ্যের দাম কমলেও সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে আলুর দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকলেও এ খাতে কোনো সহায়ক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণা) আবদুল জলিল বলেন, রপ্তানিতে বাধার কারণে কৃষকরা আলুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে খাদ্যের পুষ্টিগুণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি জানান। বাজার কমিটিগুলো সক্রিয় হলে অনৈতিক ব্যবসায়িক আচরণ অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মত দেন। তিনি বলেন, রমজানের আগে লেবুর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অনৈতিক আচরণ দায়ী।