চাঁদাবাজি বন্ধে বিএনপি ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’–এর মতো অভিযান চালালে বিপদে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি।
সম্প্রতি ‘তিনতন্ত্র’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে হলে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
‘ওয়াকার-উজ-জামান সাহেবের ওপর তাদের সেই মাত্রার প্রভাব আছে কি না, কিংবা তিনি নিজে এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এমন একটি কাজ করবেন কি না—সেটাও বড় প্রশ্ন।
“সেই প্রেক্ষাপটে, যদি আবার অপারেশন ক্লিন হার্ট টু-এর মতো কোনো ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ সেনাবাহিনীকে দিয়ে করানো হয়, তাহলে তারা আগের মতো দৃঢ়ভাবে মাঠে নামবে কি না, নাকি শুধু আনুষ্ঠানিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে—সেটিও এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
গোলাম মাওলা রনি বলেন, “ ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট টু’ চালালে আরো বড় বিপদে পড়বে বিএনপি। এটাই হবে প্রথম সংকট। দ্বিতীয় সংকট হলো—ধরুন সরকার সবকিছু ম্যানেজ করল। এরপর কী হবে? সেনাবাহিনী ও পুলিশ যখন নির্বিচারে অভিযানে নামবে, তখন ৯৯.৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই যাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হবে, তারা বিএনপির লোকই হবে। যারা গ্রেপ্তার হবে, তারা বিএনপির লোক; যারা নিহত হবে, তারাও বিএনপির লোক।’
‘ফলে পুরো মাঠ ফাঁকা হয়ে যাবে। বর্তমানে বিএনপির যে রাজনৈতিক শক্তি ও প্রভাব রয়েছে, সেটি ধীরে ধীরে এনসিপি কিংবা জামায়াতের হাতে চলে যেতে পারে। আর পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন তখন আওয়ামী লীগের জন্য এক ধরনের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।’
‘কারণ, বিএনপি যদি তাদের মিলিট্যান্সি পাওয়ার, সাংগঠনিক শক্তি ও মাসল পাওয়ার হারিয়ে ফেলে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যই পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।’
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
