Thursday , 18 July 2024
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শহিদুল ইসলাম ও উদ্যোক্তা শামীমের ঘুষ বানিজ্য শীর্ষে

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শহিদুল ইসলাম ও উদ্যোক্তা শামীমের ঘুষ বানিজ্য শীর্ষে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ৬ নং চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম ও উদ্যোক্তা শামীমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। জন্মনিবন্ধন করতে অতিরিক্ত টাকা আদায়,ঘুষ ছাড়া ট্যাক্স না নেওয়া, গ্রাহকদের সাথে অসদাচরন সহ বিভিন্ন দূর্নীতির বিষয় নিয়ে গত ৭ এপ্রিল বুধবার দৈনিক আজকের আলো পত্রিকায় সচিব শহিদুল ইসলাম ও উদ্দোক্তা শামীমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হবার পর আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টুর নিকট ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন সচিবের পরামর্শে উদ্দোক্তা শামীম।এ দিকে সচিব শহিদুল ইসলাম ও  উদ্দোক্তা শামীমের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর আজকের আলো পত্রিকার সকল সাংবাদিকদের প্রতি দোয়া করেছেন ইউনিয়নের ভুক্তভোগী অনেক সাধারন জনগন।  জানা যায়,সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু প্রত্যেকটি জন্মনিবন্ধনের ফাইল একত্রে করে গ্রাহকদের নিকট মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে কার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে তা জিজ্ঞাসা  করেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার উর্ধে অতিরিক্ত টাকা  আদায় করা হয়েছে সাধারণ জনগণের নিকট থেকে । বিষয় নিয়ে  চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের তোপের মুখে পড়ে  সচিবের পরামর্শে ১৫ হাজার টাকা  চেয়ারম্যানের কাছে উদ্যোক্তা শামীম ফেরত দিয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।শুধু তাই নয় কয়েকমাস আগে মনোয়ার হোসেন লালনকে প্যানেল চেয়ারম্যান থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন সচিব শহিদুল ইসলাম। পরে ঘুষ না দেওয়ার কারনে ৩ কার্য দিবসের মধ্যে দায়িত্বভার দেওয়ার কথা থাকলেও   বিভিন্ন রকম তালবাহানা করে ১৫ দিন পরে দায়িত্ব  মনোয়ার হোসেন লালনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার দিয়েছিলেন। মনোয়ার হোসেন লালন দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সচিব শহিদুল ইসলাম সাধারন জনগনের কাছে বাড়ির ট্যাক্স ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স এবং ৫ টি ইট ভাটার ট্যাক্স নিজেই স্বাক্ষরিত করে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অন্যদিকে উদ্দোক্তা শামীম সচিবের নির্দেশে জন্মনিবন্ধন করতে আসা সকল গ্রাহকদের কাছ থেকে সুযোগ বুঝে ২০০ থেকে ২০০০ হাজার পর্যন্ত টাকা নিয়েও কাজ সম্পুর্ন করছেনা। এ ছাড়াও উদ্দোক্তা শামীম ইউনিয়নের সরকারি কাজে ব্যবহৃত  প্রজেক্টর টাকার বিনিময়ে পাবলিকের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। আর সরকারি কোন কাজে প্রজেক্টর প্রয়োজন হলে উদ্দোক্তা শামীম প্রজেক্টর নষ্ট বলে চালিয়ে দিচ্ছেন এবং যে সমস্ত গ্রাহক সরকারী ভাবে সেবা পেতে যায় তাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে শামীম। গোপন সুত্রে জানা যায়,উদ্দোক্তা শামীম সচিবের যোগ সাজসে অফিস সময় বাদে নিজের বাসায় ভিআইপি গ্রাহকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার নিজের বাসায়  জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন সহ যাবতীয় কাজ বেআইনীভাবে করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন লালন অভিযোগ করে বলেন,আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এলজি এসপি -৩ এর কাজ আসে প্রায় সাড়ে ২৩ লক্ষ টাকার এবং  বিগত বছরের পারফরম্যান্স মানি হিসেবে ৭ লক্ষ টাকা অনুদান আসে। এতে মোট প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা আমার হাতে কাজ আসে। সেখানেও সচিব এই কাজ আমার হাতে এস্টিমেট করার জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে। আমি ঘুষ দিতে অস্বিকার কঅরি। পরে আমি সেই প্রকল্পের  ২১ লক্ষ টাকার কাজ সম্পন্ন করি । এই কাজের বিল পাশের জন্য সচিব আবারো আমার কাছ থেকে  ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করে। ঘুষ না দেওয়ায় সচিব আমার ২ লক্ষ টাকা আটকিয়ে রেখেছে। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নের সকল ভুক্তভোগী মানুষেরা। 

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply