ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » চট্টগ্রাম বিভাগ » চা খেতে গেলেন গেটম্যান, ট্রেন পিষে মারল ৩জনকে চট্টগ্রামে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস সিএনজির সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত -৩, আহত-১০
চা খেতে গেলেন গেটম্যান, ট্রেন পিষে মারল ৩জনকে চট্টগ্রামে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস সিএনজির সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত -৩, আহত-১০

চা খেতে গেলেন গেটম্যান, ট্রেন পিষে মারল ৩জনকে চট্টগ্রামে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস সিএনজির সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত -৩, আহত-১০

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রাম নগরের খুলশীর ঝাউতলা রেল ক্রসিংয়ে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দায়িত্বরত ট্রাফিক কনষ্টেবল মনির ও একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী সহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। ্এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ১০জন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এদিকে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার তীর উঠছে গেটম্যানদের বিরুদ্ধে। দুর্ঘটনার পর থেকে গেটম্যান আশরাফুল আলমগীর ভূঁইয়া পলাতক।
ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন নগরীর ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কনস্টেবল মো. মনির হোসেন (৪০) তিনি নগর ট্রাফিকের উত্তর বিভাগে কর্মরত। তার বাড়ি নোয়াখালির বেগমগঞ্জ উপজেলায়। নিহত অপরজন, ঢালি কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদ (৩০) , তিনি নগরীর পাচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার সৈয়দ সোহরাব হোসেনের ছেলে। নিহত সাতরাজ শাহীন (১৯) পাহাড়তলী কলেজের ছাত্র এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থী ।
এ দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন-আবুল হোসেন (৬৫) জমির হোসেন (৪৮), শহীদুল ইসলাম (৪০), জয়নাল (২৬), জোবাইদা (২০), শামীমা (১১),মোহাম্মদ (১০) ও আদনান (৭)।
নগরীর পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত আবুল হোসেন (৬৫) ও জমির হোসেন (৪৮) এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল নগরীর খুলশী থানার ওসি মো: শাহিনুজ্জামান বলেন, ঝাউতলা রেল ক্রসিংয়ে ষোলশহর থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের দিকে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাসকে ধাক্কা দেয় একটি ডেমু ট্রেন। এসময় রেল ক্রসিংয়ের গেটবারটি লাগানো হয়নি। ফলে সিএনজি অটোরিকশা ও বাস রেললাইনে চলে আসে। এসময় ট্রাফিক পুলিশ মনির রেললাইন থেকে গাড়িগুলোকে সরানোর চেষ্টা করছিলেন। ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত আটোরিকশাটি ধুমড়ে-মুচড়ে গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ট্রেন আসার প্রায় ২০ মিনিট আগে ঝাউতলা রেলগেটের পশ্চিম পাশে ব্যারিয়ার নামিয়ে দিয়ে চা খেতে গিয়েছিলেন দায়িত্বরত গেটম্যান আশরাফুল আলমগীর ভূঁইয়া । তখনও নামানো হয়নি পূর্ব পাশের ব্যারিয়ার। ব্যারিয়ার খোলা পেয়ে রেললাইনের কাছাকাছি চলে যাওয়া ৭ নম্বর রোডের একটি বাসের ধাক্কায় রেললাইনে উঠে যায় সিএনজি অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা টেম্পু। অন্যদিকে নাজিরহাট থেকে আসা ডেমু ট্রেনটি এসে ধাক্কা দেয় গাড়ি দুটিকে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল মনিরসহ তিনজন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ে ট্রাফিক বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ গেটে ২৪ ঘন্টায় দায়িত্ব পালনের কথা তিন জন গেট ম্যানের। আলমগির ভুইয়া ছাড়াও এ গেটে ডিউটতে থাকেন গেটম্যান মাকসুদ এবং আজাদ। ব্যস্তম এ গেটে প্রায় সময় ব্যরিয়ারর গেট না ফেলে হাতের ইশারায় ট্রেন আসার সংকেত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গেটম্যান আলমগীর ভূইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে স্থানীয়রা বলেন, আলমগীর সব সময় দায়িত্বে অবহেলা করে। ট্রেন আসলে গেইটের এক পাশ বন্ধ করতো, আরেক পাশ খোলা রাখতো। পাশাপাশি সে আশেপাশে থাকা বস্তির ছেলেদের ৫/১০ টাকা দিয়ে গেইট খোলা বা লাগানোর কাজ করাতো। রেল লাইনের গেইট ম্যানের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ মিরাজ গণমাধ্যমকে বলেন, এখানে তিনজন গেটম্যান দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল। কিন্তু গেটম্যানরা কখনও ঠিকমত দায়িত্ব পালন করতেন না। তারা অধিকাংশ সময়ই ডিউটিতে থাকতেন না। আর থাকলেও গেইটের পাশে থাকা রুমে ঢুকে গান শুনতেন আর বস্তির বাচ্চাদের দিয়ে রেল গেইট ফেলাতেন। কিছুদিন আগে একটি এসি বাসে থাকা ৩২ জন যাত্রী অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বলেও জানান মিরাজ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঝাউতলা এলাকার দোকানদার আরিফ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার সময় খুলশীর দিক থেকে রেলের গেটবারটি ফেলা হয়নি। এতে একসঙ্গে তিনটি গাড়ি রেললাইনের ওপরে চলে আসে। পরে ষোল শহরের দিক থেকে আসা ডেমু ট্রেন সেগুলোকে ধাক্কা দেয়। প্রায়ই এখানে ট্রেনের গেটম্যান থাকে না বলে তিনি জানান।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, গেটম্যানের কোনো অবহেলা থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এই বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।
এদিকে ঝাউতলায় এ দুর্ঘটনার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে রেলওয়ে পুলিশ। রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল গফুরকে প্রধান করে এ কমিটিতে রাখা হয়েছে রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) ও চট্টগ্রামের রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তাকে (ওসি)।
নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোখলেছুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রেলক্রসিংয়ে গেট আছে। তবে সেখানে যারা দায়িত্বরত তারা ট্রেন আসার আগে গেইট বন্ধ করতে দেরি করেন। এর ফাঁকে গাড়িগুলো রেললাইনে উঠে যায়। সেখানে দু’টি রেললাইন আছে। গেইট বন্ধ না করায় গাড়ির চালকরা ভেবেছিলেন, অন্য লাইন দিয়ে গাড়ি যাবে। কিন্তু ট্রেনটি গাড়ি যে লাইনে উঠেছিল সেই লাইন দিয়ে চলে আসায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’
চট্টগ্রামের রেলওয়ে পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেন, রেল ক্রসিংয়ে গেটবারটি লাগানো হয়নি বলে আমরা শুনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল গফুরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তিনদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। কারো অপরাধ পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com