ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে  দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে
--ফাইল ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে

অনলাইন ডেস্কঃ

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বৈশ্বিক অভিযোজন কেন্দ্রের (গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন—জিসিএ) আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ,জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেছেন, দুর্যোগে টিকে থাকার জন্য এ অঞ্চলের সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রতিশ্রুত চাঁদার পরিমাণ বাড়াতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নতুন ভবনে জিসিএর আঞ্চলিক কার্যালয়টি তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অভিযোজন সম্পর্কিত গ্লোবাল সেন্টার বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন যৌথভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এ কার্যালয় উদ্বোধন করেন। এই উদ্বোধন বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খরা, ভূমিধস, হিমবাহে ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে দক্ষিণ এশিয়া। এমনকি তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায়) বাড়লেও বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। দুর্যোগে শিশু, নারী, বয়স্ক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের ঝুঁকির বিষয়টিও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না।’

গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্ধেক জনগোষ্ঠী অর্থাৎ প্রায় ৭০ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের মানুষ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আরেকটি এসে আঘাত হানে। ফলে যেকোনো অগ্রগতি উল্টে যায়। এই চক্র ভাঙতে দক্ষিণ এশিয়াকে দুর্যোগে টিকে থাকার সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে।’

প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন, গ্রিনহাউস গ্যাসের কারণে বাড়তে থাকা তাপমাত্রা এবং অন্যান্য পরিবেশগত ক্ষতি রোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ২০০৯ সালের বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে নানা পদক্ষেপ এবং অভিযোজন কর্মসূচি নিয়েছে। ২০০৯ সালে আমরা জলবায়ু ট্রাস্ট তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছি এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ৪৩ কোটি ডলার নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দিয়েছি। অভিযোজনবিষয়ক কর্মকাণ্ডে সরকার ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর জিডিপির ১ শতাংশ অর্থাৎ ২০০ কোটি ডলার করে ব্যয় করছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ শীর্ষক শত বছরের পরিকল্পনা গ্রহণের কথা অনুষ্ঠানে বলেন প্রধানমন্ত্রী। জিসিএর বাংলাদেশ কার্যালয় দক্ষিণ এশিয়ার অভিযোজন এবং জলবায়ুসহিষ্ণুতা অর্জনে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি আশা করি, এই কার্যালয়ের মাধ্যমে অভিযোজন বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা এবং কর্মসূচি বিনিময় হবে। এ অঞ্চলের অভিযোজনবিষয়ক সমস্যা সমাধান এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে কাজ করবে এই কার্যালয়।’

ইউএনএফসিসিসির জলবায়ুবিষয়ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম’ এবং ‘ভালনারেবল-২০’-এর সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় জিসিএর ঢাকা কার্যালয় সমর্থন দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। 

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ‘অনন্য নজির’ স্থাপন করেছে মন্তব্য করে  প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় এখানকার জনগণ বারবার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তার পরও পরিবর্তন করার মতো এখনো অনেক কিছু আছে। আমি মনে করি, এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেরও অভিযোজন বিষয়ে একই ধরনের অভিজ্ঞতা এবং কর্মসূচি রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা এবং উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।’

জলবায়ু পরিবর্তন যেহেতু একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই এর ঝুঁকি কমাতে এবং ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্রুত জাতীয় সহায়তা বৃদ্ধির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

কভিড-১৯ মহামারি সব দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং একসঙ্গে কাজ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় আমাদের একে অপরকে ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়।’

মহামারির মধ্যে বাংলাদেশে কার্যালয় চালু করতে সহযোগিতা করায় তিনি জিসিএর সভাপতি বান কি মুনকে ধন্যবাদ জানান।

ভিডিও কনফারেন্সে বান কি মুন ছাড়াও ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্যাটিক ভারকুইজেন, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এবং ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ, ভুটানসহ দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বান কি মুন বলেন, ‘গোটা বিশ্বের মানুষ জানে সাফল্যজনকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সেরা উদাহরণ। তাই আমরা ঢাকায় জিসিএ আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ডাচ্ প্রধানমন্ত্রী জিসিএ আঞ্চলিক অফিস প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকাকে বাছাই করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি হবে জিসিএর প্রথম আঞ্চলিক অফিস। তিনি বলেন ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্বের এটি পরিষ্কার লক্ষণ।’

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*