Sunday , 15 February 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
ঢাকায় স্কুল ঘেঁষে সিগারেটের দোকান: শিক্ষার পরিবেশে বিঘ্ন

ঢাকায় স্কুল ঘেঁষে সিগারেটের দোকান: শিক্ষার পরিবেশে বিঘ্ন

সকালবেলা প্রতিবেদনঃ
রাজধানীর শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মিরপুর ও উত্তরা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে চা ও সিগারেটের দোকান। এতে শিক্ষার পরিবেশে নেমে এসেছে চরম বিঘ্ন। স্কুল ও পার্ক ঘিরে এসব দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে ধূমপায়ীদের আড্ডা, যা শিশু—কিশোরদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন রোববার, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতে বেঞ্চ পেতে চলছে চা—সিগারেট বিক্রি। শ্যামলীর সরকারি জমিলা আইনুল আনন্দ বিদ্যালয়ের সামনে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের ফুচকা খাওয়ার পাশেই সিগারেট বিক্রি হচ্ছিল এবং ধূমপায়ী কিশোর—বৃদ্ধরা প্রকাশ্যে ধূমপান করছিলেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, এসব দৃশ্য ক্ষোভ ও আতঙ্ক তৈরি করছে তাদের মধ্যে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক সরদার আতিক বলেন, শিশু—কিশোরেরা অত্যন্ত অনুকরণপ্রবণ। তারা যখন বিদ্যালয় বা পার্ক থেকে বের হয়েই বড়দের ধূমপান করতে দেখে, তখন তাদের মধ্যেও সিগারেটের প্রতি কৌতূহল জন্ম নেয় এবং তারা আসক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে, মিরপুরের বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফার্মগেটের সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গা ঘেঁষে এ ধরনের দোকান গড়ে উঠেছে।

এসব এলাকায় দোকানগুলোর আশেপাশে ধূমপায়ীদের আড্ডা জমে থাকে, যা শ্রেণিকক্ষে সিগারেটের ধেঁায়া প্রবেশের কারণ হচ্ছে। ছায়ানট ভবনের দোকানদার নজরুল ইসলাম ও নাসির হোসেন জানান, তারা জানেন এটি বেআইনি, কিন্তু বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় ফুটপাতে দোকান খুলতে বাধ্য হয়েছেন।অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যেমন, নালন্দা উচ্চবিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, ছায়ানট ভবনটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক হলেও, ভবনের চারপাশে সিগারেটের ধেঁায়ায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের এক বাসিন্দা বলেন, আবাসিক এলাকার অলিগলিতে গড়ে ওঠা সিগারেটের দোকানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আড্ডা দেয় ও প্রকাশ্যে ধূমপান করে। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের আরও তৎপর হওয়া দরকার।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক নিশাত পারভীন জানান, এসব উচ্ছেদ কার্যক্রম আঞ্চলিক কর্মকর্তারা পরিচালনা করেন। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ধূমপানবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে, যদিও চলতি বছর এখনও কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী, দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ তামাক ব্যবহারকারী রয়েছে। টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০১৯—এর তথ্য মতে, ১০—১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬ শতাংশ তামাক ব্যবহারকারী। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার কর্তৃক ঘোষিত আইন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্যের বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন, যেখানে শিশুদের স্বাস্থ্য ও মনস্তত্ত্বের উপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তাই, রাজধানীর স্কুল ও পার্ক এলাকা থেকে অবিলম্বে চা—সিগারেটের দোকান অপসারণ, কঠোর নজরদারি এবং ধূমপানবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করার দাবি উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply