ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » তারেক কিভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয় : সরকারি দল
তারেক কিভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয় : সরকারি দল
--ফাইল ছবি

তারেক কিভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয় : সরকারি দল

অনলাইন ডেস্ক:

বিদেশে সরকারবিরোধী প্রচারণার জন্য লবিস্ট নিয়োগে বিএনপি-জামায়াতের ব্যয়ের হিসাব তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা। তাঁরা সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তারেক রহমান কিভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকছেন তা দেখার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে এই আহ্বান জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে সংসদের চলতি অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে সমবেত সদস্যরা রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের এ বছরের ১৬ জানুয়ারি সংসদে দেওয়া ভাষণের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে।‘

চলতি অধিবেশনের প্রথম দিন গত ১৬ জানুয়ারি একাদশ সংসদের ষোড়শ অধিবেশনের শুরুর দিন সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব সমর্থন করেন সরকারি দলের সদস্য মো. শামসুল হক টুকু। প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং সরকারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ, অসীম কুমার উকিল, আনোয়ারুল আবেদীন খান, আমিরুল আলম মিলন, বেগম উম্মে কুলসুম স্মৃতি ও খালেদা খানম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বিএনপি-জামায়াত গত ৫ বছরে যতগুলো লবিস্ট ফার্মের নিয়োগ করেছে, প্রতিটির কন্ট্রাক আছে। প্রতিটির টাকা-পয়সার হিসাব আছে, কে দিয়েছেন, কোন অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন সব কিছু আছে। এটার তদন্ত দাবি করতে হবে। বিএনপির এই টাকার খেলা বন্ধ করতে হবে। চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি (হারুন) বলেছেন, জানা সত্ত্বেও মিথ্যাকে গোপন করিও না। তিনিই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সেটা প্রতিপালন করছেন? তিনি মুসলমান হিসেবে যদি দাবি করে থাকেন, তাহলে সেই মিথ্যাগুলো যেন তাঁরা গোপন না করেন। এই অধিবেশনে যেন তাঁর দলের কুকর্মগুলো ও তাঁর নেতাদের মিথ্যাচারগুলো প্রকাশ করেন।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা তো জানি, বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে। তাহলে তিনি (হারুন) তাঁর প্রার্থী, আমার প্রার্থী বলেন কী করে? তিনি কি দল পাল্টেছেনে? রাজশাহীর প্রতিটি উপজেলাতে বিএনপির প্রার্থী ছিল।’

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে একটি অভূতপূর্ব নির্বাচন হয়েছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হলে দ্রুততার ফলাফল প্রকাশ করা যায়। ইভিএমের মাধ্যমে স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যে নির্বাচান করা সম্ভব সেটি মাহবুব তালুকদারের মতো নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের শাসনের বলার পরও তারেক রহমানকে এখনো বিএনপি কিভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে? তিনি একজন দুর্নীতিবাজ, আইনের চোখে দাগী আসামি, পলাতাক আসামি। হেন কাজ নেই, হেন কোনো অপরাধ নেই, যা তিনি করেননি। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কিভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়? আমি নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাই।’ বিএনপিকে নির্বাচনের মাধ্যমে আগামীতে ক্ষমতায় এসে আইন পরিবর্তন করে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে গত সাড়ে ১৩ বছরে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে গত সাড়ে ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, তা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ উত্তরণ বিশ্বের অনেক দেশের কাছে অনুকরণীয় হচ্ছে। নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দিকে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

করোনা মহামারি সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য টিকার ব্যবস্থা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশের ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৪ ভাগকে করোনা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কলেজ ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে টিকা দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা খাতে গুণগত পরিবর্তনের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির ভাষণে উঠে এসেছে। অথচ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে একজন প্রতিমন্ত্রী নকল প্রতিরোধের নামে হেলিকপ্টারে সারা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। আরেকজন উপমন্ত্রী গ্রেনেড হামলায় জড়িত ও জঙ্গিবাদের সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসে। এখন বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে সামনে রেখে দেশে বিশেষায়িত শিক্ষা এগিয়ে চলেছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com