দেশে তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ইউরোপীয় বাজারে ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং দেশীয় বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রভাবে শিল্পটির উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে ইউরোপের অনেক ক্রেতা নতুন ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের পোশাক কারখানাগুলোতে অর্ডার প্রবাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। অনেক কারখানাই আগের তুলনায় সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে তীব্র লোডশেডিং, গ্যাস সংকট এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব কারণে কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে বিটিকেজির কনভেনার ফজলে শামীম এহসান বলেন, বর্তমানে অনেক কারখানা তাদের মোট সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক নিয়ে কাজ করছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে। ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে।
তবে শিল্প নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হলে, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে চাহিদা বাড়লে আগামী মৌসুমে পোশাক খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ অবস্থায় শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং রপ্তানি সহায়ক নীতিমালা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল, নিটিং ও গার্মেন্ট শিল্প প্রদর্শনী (বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬)-এর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, আগামী ২৯ এপ্রিল থেকে আইসিসিবিতে চারদিনব্যাপী এ প্রদর্শনী শুরু হবে, যা চলবে ২ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আয়োজকরা জানান, প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারের বেশি প্রদর্শক এবং ১,২০০টিরও বেশি বুথ নিয়ে প্রায় ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে এ আয়োজন বিস্তৃত থাকবে। বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬-এ প্রায় ৩০টি দেশের এক হাজারেরও বেশি প্রদর্শক অংশগ্রহণ করবে। তার মধ্যে বাংলাদেশ, কানাডা, চীন, তাইওয়ান, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত উল্লেখযোগ্য।
প্রদর্শনীতে আধুনিক টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি, রং ও রাসায়নিক, নিটিং ও বয়ন প্রযুক্তি, এমব্রয়ডারি, কাটিং ও সেলাই যন্ত্র, ওয়াশিং ও ড্রাই ক্লিনিং প্রযুক্তিসহ নানা সরঞ্জাম প্রদর্শিত হবে। এছাড়া বিকেএমইএ, বিইউটেক্স এবং টেক্সটাইল ট্যুডে-এর সহযোগিতায় তিনটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।
আয়োজকদের মতে, বিটিকেজি এক্সপো ২০২৬ বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্র শিল্পে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।