কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ আরো ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯জুন) দুপুরে অভিযুক্তদের আদালত মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরাতে হাইকোর্টের নির্দেশ দিয়েছেন। এর লআগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর পাচকিত্তা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর শনিবার ২৮(জুন) রাতে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর বিবস্ত্র ভিডিও সামাজিক মধ্যে ছড়িয়ে পরে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ফজর আলী (মূল অভিযুক্ত), এবং ভিডিও ধারণকারী রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সুমন তার সহযোগী অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু। তারা সবাই মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচকিত্তা গ্রামের বাসিন্দা। তাদেরকে ছাড়াও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এ ঘটনায় জারিত রয়েছে। জারিতদের গ্রেফতার মাঠে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সরজমিন গিয়ে স্থানীয় জানাগেছে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিদেশে আছেন। ভুক্তভোগী নারী মাঝে মাঝে স্বামীর বাড়ি থেকে পিতার বাড়িতে বেড়ানোর জন্য আসা—যাওয়া কালে ফজর আলীর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এছাড়ারাও আওয়ামীলীগ আমলে ভুক্তভোগী ওই নারী ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন কাজের জন্য অবস্থিত হলে অভিযুক্ত ফজর আলী তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতেন সেই সুবাদে তাদের মাঝে সক্ষতা গড়ে ওঠে। তাদের এসব কাজ অনেকদিন হলো এলাকাবাসীর একাংশের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এলাকাবাসী একাংশের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক সদস্য রয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী পিতার বাড়িতে আসলে ফজর আলীকে রাতে তার নিজ পিতার বাসায় আসতে বলেন। বিষয়টি স্থানীয় ছেলেরা বুঝতে পেরে একই ঘরে ভুক্তভোগী নারী ও ফজর আলীকে বিবস্ত্র অবস্থায় ধরে ফেলে। পরবর্তীতে বিএনপি নেতারা হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণ বলে প্রচার করে ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, মামলা করছিলাম তো ভালার লাইগা। অহন জামাইয়ে না করে। মামলাটা যখন করছি জামাই আমার লগে রাগারাগি কইরা কথা বলে নাই। গেরামের লগেও বুঝতে পারি নাই। স্বামী এইসব শুইনা, দেইখা অহন ফোনই দেয় না। আমি মামলা করেছি, আমি উঠাই ফেলবো। আমি দশজনের ভালো চাই। মামলা তুলে নিতে আমাকে কেউ চাপ দেয় নাই। টাকার লোভও দেখায় নাই। পোলার বাপে কইছে! সম্মান গেছেগোই এহন কেস করলেও পাইতি না।
পাচকিত্তা গ্রামে আবুল কালাম ও ছাব্বির বলেন, অভিজুক্ত ফজর আলী মুসলমান হওয়ায়, সেহেতু বাহেরচর হিন্দু পাড়ার লোকজন শলা পরামর্শ করে। ভুক্তভোগীর সম্মান রক্ষার্থে পুলিশ খবর দেয়। ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণ মামলা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। মূলত উক্ত ঘটনাটি দুইজনের পূর্বের সম্পর্কের জের ধরে সংঘটিত হয়েছে।
রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন বলেন, এটা একটা পরকীয়ার ঘটনা। ফজর আলীর সঙ্গে ওই নারীর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল। বৃহস্পতিবার ফজর আলী ওই বাড়ির দিকে রওনা করলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে হাতেনাতে ধরার জন্য ফাঁদ পাতে। এ সময় ফজর আলী ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করলে ছাত্রলীগ সভাপতি সুমনসহ তার সঙ্গীরা তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে। আটকের পর ফজর আলীকে বেধড়ক পিটিয়ে তার হাত—পা ভেঙে দেওয়া হয়। পরে পরিকল্পিতভাবে ওই নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণ করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল করিম বলেন, আমরা আগে থেকেই জানি ফজর আলীর সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি সেদিন রাতে মূলত ফজর আলী এবং ওই নারী পারস্পরিক সম্মতিতে ওই ঘরে ছিলে। কিন্তু তাদেরকে হাতেনাতে ধরার জন্য নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন ফাঁদ পেতে থাকে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান বলেন, মূল আসামি ফজর আলীকে আহত অবস্থায় গ্রেফতার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও ছড়ানোয় জড়িত চারজনকে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
