Sunday , 3 March 2024
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
নোয়াখালীতে এতিমের নামে টাকা আত্মসাৎ
--প্রেরিত ছবি

নোয়াখালীতে এতিমের নামে টাকা আত্মসাৎ

নোয়াখালী থেকে আবদুল বাসেদঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে সরকারী ভাবে ১০টি এতিমখানায় ২০৫ জনের নাম দেখিয়ে টাকা তুললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে বিভিন্ন এতিম খানায় মাত্র ২ থেকে ৩ জন এতিম রয়েছে। সরকারি ভাবে প্রতিমাসে এতিম বাবদ টাকা তোলা হলেও এতিমদের থেকেও নেওয়া হয় মাসিক বেতন। তবে সরকারি কোন তদারকি নেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে।সোনাইমুড়ী উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ-১৯৬১ অনুযায়ী নিবন্ধন প্রদান এবং পরবর্তী নিবন্ধন প্রাপÍ বেসরকারী এতিম শিশুদের প্রতিপালন, চিকিৎসা, পোশাক এবং শিক্ষা প্রদানের জন্য আর্থিক সহায়তা করা যা ক্যাপিটেসন গ্রান্ট নামে পরিচিত।

২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ২০৫ জন এতিম দেখিয়ে ১০টি এতিমখানা ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা দুই ভাগে তুলেছেন। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের জুনে ৬ মাসের ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলেছেন। এতিমখানা গুলোর সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক এর যৌথ সাক্ষরে বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলণ করা হয়েছে।সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিমখানা ৭৬ জন, পদিপাড়া এতিমখানা ১৮ জন, পাঁচ বাড়িয়া মোহাম্মাদিয়া এতিমখানা ২২ জন, জয়াগ দারুল উলুম শিশু সদন ১০ জন, রহমতে আলম এতিমখানা ১৩ জন, জামিয়া ইসলামিয়া এহইয়াউল এতিমখানা ৩০ জন, এতিমখানা-ই-জামেয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ ১৯ জন, হোসেনপুর রহমানিয়া এতিমখানা ১০ জন, মকিল্যা নূরানী হাফিজিয়া এতিমখানা ১০ জন ও কালুয়াই জামিয়া মাদানিয়া এতিমখানা ৭ জন এতিম কাগজে কলমে দেখানো হয়েছে। বাস্তবে সেখানে গিয়ে এই সংখ্যার এতিমদের পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন থেকে এসকল এতিমখানায় সরকারি অফিস থেকে কোন অডিট কিংবা পরিদর্শক আসে নাই।

ক্যাপিটেসন গ্রান্ট বাবদ প্রত্যেক এতিম মাথাপিছু বরাদ্দকৃত ২ হাজার টাকা হতে খাদ্য বাবদ ১৬০০ টাকা, পোশাক বাবদ ২০০ টাকা ও অন্যান্য ২০০ টাকা ব্যায় করার শর্ত রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সরকারি কোন নিয়মনীতি মানছেন না শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর কিছু প্রতিষ্ঠান ভুয়া এতিমের তালিকা তৈরী করে বরাদ্দকৃত এতিমের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে প্রকৃত এতিমরা সরকারী সহায়তা থেকে বি ত হচ্ছে। সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিমখানা ১৯৯৩ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিবন্ধনের আওতায় আসে। সেসময় থেকেই প্রতিমাসে এতিমদের উন্নয়নের নিয়মিত সরকারী টাকা উত্তোলণ করে যাচ্ছে। বিগত পাঁচ বছর ধরে ৭৬ জন এতিম কাগজে-কলমে দেখালেও বাস্তবে ৩০ জন এতিমও নেই। এদের মধ্যে কারো কারো অভিভাবক থেকে পোষাকের টাকাও নেওয়া হচ্ছে। এদের সবারই পিতা-মাতা, ভাই, বোন আত্মীয় স্বজন রয়েছে।

হোসেনপুর রহমানিয়া এতিমখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানে ১০ জন এতিমের স্থলে কাগজে রয়েছে ৫ জন। তবে সাংবাদিকদের এতিমদের সাথে কথা বলতে দেননি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। মকিল্যা নূরানী হাফিজিয়া এতিমখানায় ১০ জন এতিম কাগজে দেখালেও বাস্তবে রয়েছে ৪ জন। সোনাইমুড়ী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, পূর্বেও এতিমদের বরাদ্দকৃত টাকা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তাই আমরা এবারে সতর্ক রয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদেরকে কাগজ পত্র দেখিয়ে এতিমদের টাকা নেয়।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply