ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » পল্লবী থানায় ১০লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিতে এসে নিজেই ধরা খেলেন প্রতারক
পল্লবী থানায় ১০লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিতে এসে নিজেই ধরা খেলেন প্রতারক

পল্লবী থানায় ১০লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের মিথ্যা অভিযোগ দিতে এসে নিজেই ধরা খেলেন প্রতারক

স্টাফ রির্পোটার:

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দিনে দুপুরে পিস্তল ঠেকিয়ে ১০ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে একটি ছিনতাইকারী দল এমন একটি মিথ্যা অভিযোগের নাটক সাজিয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে অভিযোগকারী নিজেই মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে এখন জেল হাজতে প্রহর গুনছে এক প্রতারক।

তার নাম মোঃ মনির হোসেন ওরফে মুন্না। সে মিরপুর ৬ নম্বর সেকশন, ডি ব্লক, ২০ নম্বর রোডের ৫২ নম্বর বাসার বাসিন্দা মোঃ সেকেন্দার আলীর পুত্র।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে পল্লবী থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং ৬০, তারিখ ১৪/০৯/২০২১ ইং।
পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ পারভেজ ইসলাম পিপিএম (বার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর মনির হোসেন মূন্না নামে এক ব্যক্তি পল্লবী থানায় এসে অভিযোগ করেন যে, সে ব্রাক ব্যাংক, পল্লবী শাখা থেকে ১০’ লক্ষ ২০’ হাজার টাকা উত্তোলন করে পায়ে হেঁটে নিয়ে যাওয়ার পথে পথিমধ্যে পল্লবী থানাধীন মিল্কভিটা মার্কেটের পিছনের রাস্তায় তার গতি রোধ করে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ৪/৫ জন ছিনতাইকারী তার কাছে রক্ষিত পুরো টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে পল্লবী থানার এস আই মোঃ তারিক উর রহমান শুভকে তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয়।

তদন্তশেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর কোন সত্যতা পায়নি। বরং এ ঘটনা অভিযোগকারীর সাজানো নাটক বলে সন্দেহ পোষণ করেন। এরপর তিনি বিভিন্ন পুলিশি কৌশল অবলম্বন করে অভিযোগকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজেই অভিযোগটি মিথ্যা বলে স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তিনি অভিযোগকারীকে সাথে নিয়ে তার বড় ভাইয়ের ভাড়াটিয়ার রুম থেকে পুরো টাকা উদ্ধার করেন।
মনির হোসেন মুন্না বলেন, ওই টাকার মূল মালিক হলেন অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী মোঃ ফখরুল আলম রিয়া। সে ঐ টাকা তার বন্ধু মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের বাসিন্দা মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জনির নিকট পেত। সে ওই টাকা দিয়ে দেবে বলে লোক পাঠাতে বলে। এরপর অষ্ট্রেলিয়া থেকে রিয়া তার বড় ভাই দিদারুল আলম মজুমদারকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তিনি শারিরীক অসুস্থ থাকায় সেই টাকা তোলার জন্য আমাকে বলে দিদারুল। আমি সেই টাকা তোলার জন্য প্রথমে মোজাম্মেল হোসেন জনির বাসায় যাই। তার কাছ থেকে ১০’ লক্ষ ২০’ হাজার টাকার চেক নেই। সেই চেক ব্রাক ব্যাংক, পল্লবী শাখায় ভাঙ্গিয়ে যাওয়ার ওই টাকার লোভ সামলাতে না পেরে এ ধরনের একটি ছিনতাইয়ের নাটক সাজাই।
এ ব্যপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ তারিক উর রহমান শুভ বলেন, আমি উক্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর কোন সত্যতা খুঁজে পাইনি। এরপর পুলিশি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অভিযোগকারী মূন্নাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজেই অকপটে নিজের অপকর্মের কথা স্বীকার করে নেন। তবে তার এ ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতে আমাকে অনেক পুলিশি কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। অনেক মেধা ও শ্রম গেছে। তবে আমি স্বার্থক।
এ ব্যপারে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ পারভেজ ইসলাম পিপিএম (বার) বলেন, বর্তমানে দেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। দক্ষ কিছু পুলিশ অফিসারের কারনে এ ধরনের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে অভিযোগ দেয়ার আর কোন সুযোগ নেই।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*