ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে জিয়ার গুলি ছোড়ার নজির নেই–প্রধানমন্ত্রী
পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে জিয়ার গুলি ছোড়ার নজির নেই–প্রধানমন্ত্রী
--সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে জিয়ার গুলি ছোড়ার নজির নেই–প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কেউ কেউ এখনো যুদ্ধাপরাধী এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের খুনিদের দোসরদের মদদ দিচ্ছে। এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এসব ষড়যন্ত্রকারীর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তব্যে এ আহ্বান জানান। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বাংলাদেশে ১৫ আগস্টে যে হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে এবং এরপরে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। এ ছাড়া তো বহুবার আমার ওপরও হামলা, এমনকি চুয়াত্তর সালে কামালের ওপরও হামলা হল। তাকেও গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করা হলো, যখন দেখল বেঁচে গেছে তখন তার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হল, মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হলো। অর্থাৎ যারা পরাজিত শক্তি, তারা সব সময় সক্রিয় ছিল এবং এখনো যুদ্ধাপরাধী, পরাজিত শক্তি এবং ১৫ আগস্টের খুনি, ফাঁসি যাদের হয়েছে তারা তো বটেই, তাদের ছেলেপেলে যারা বা দোসর যারা, বংশধর, তারা কিন্তু এখনো বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। যেসব আন্তর্জাতিক শক্তি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিরোধিতা করেছিল তাদের কিছু কিছু এদের মদদ দিয়ে থাকে। কাজেই এই ব্যাপারে জাতিকে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পরে যারা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেখানে যেমন আমাদের দলেরও কিছু বেঈমান-মোনাফেক-মীরজাফর ছিল; যেমন খন্দকার মোশতাক গং। আর তার শক্তিটা ছিল জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে একটা সেক্টর কমান্ডার অর্থাৎ সেখানে খালেদ মোশাররফ আহত হলে জিয়াকে সেক্টর কমান্ডার করা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান কখনো গুলি চালিয়েছে, এ রকম নজির নেই। এ রকম কোনো নজির কেউ দেখাতে পারবে না।’

বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের এক সাক্ষাৎকারের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রশীদ-ফারুক বিবিসিতে যে ইন্টারভিউ দিয়েছে পনেরোই আগস্টের পর, সেই ইন্টারভিউতে তারা স্বীকার করেছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক পত্রিকায়ও তাদের বক্তব্য এসেছে। ওই বক্তব্যে বলেছে, জিয়াউর রহমান এই খুনিদের সাথে সব সময় ছিল এবং জিয়াউর রহমানই ছিল মূল শক্তির উৎস। সে-ই বেঈমানিটা করেছিল। অথচ জিয়াউর রহমান ছিল একটা মেজর। স্বাধীনতার পর মাত্র তিন বছরের মধ্যে মেজর থেকে একটা প্রমোশন দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছিল। সেটা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, সমস্ত সেনাবাহিনী যখন তিনি পুনর্গঠন করেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই সেটাও তাদের ভোলা উচিত নয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বদৌলতেই যে জিয়াউর রহমান মেজর থেকে মেজর জেনারেল হয়েছিল। পাকিস্তান দেশটা থাকলে ওই মেজর হিসেবেই তার রিটায়ার্ড করতে হতো। তার ওপরে আর উঠতে পারত কি না সন্দেহ। কিন্তু সেই বেঈমানি-মোনাফেকি তারা করেছিল। তখন যে ভূমিকা নেওয়ার কথা ছিল, কেউ নেয়নি। জাতির পিতার লাশ, সবার লাশ ১৬ তারিখ পর্যন্ত ওই ৩২ নম্বরের বাড়িতেই ছিল। কাফন-দাফনের ব্যবস্থাটুকু পর্যন্ত করা হয়নি।’

জিয়াউর রহমানের আমলে বহু মানুষকে বিচারের নামে হত্যার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা বেঈমানি করে এবং এই বেঈমানির ইতিহাস যদি দেখা যায়, সেনাবাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধ যারা করেছে সেই মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের হত্যা করা, হাজার হাজার সেনাবাহিনীর সদস্যকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এমন এমন রাত গেছে যে জোড়ায় জোড়ায় ফাঁসি হয়েছে। ১০ জন, ২০ জন—এ রকম করে একেক রাতে ফাঁসি, শত শত লোককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। কে দিয়েছে? জিয়াউর রহমান দিয়েছে। শুধু ঢাকা জেলে নয়, খুলনা, রাজশাহী বিভিন্ন জায়গায় এই হত্যাকাণ্ড সে চালিয়েছে।’

জিয়াউর রহমানের আমলে শিক্ষার্থীদের বিপথে নেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মেধাবী ছাত্র, তাদের হাতে একদিকে যেমন মেধার জন্য পুরস্কার তুলে দিয়েছে অন্যদিকে অস্ত্র তুলে দিয়েছে, অর্থ তুলে দিয়েছে, মাদক তুলে দিয়েছে এবং তাদের ব্যবহার করেছে। তাদের বিপথে নিয়ে গেছে। এ রকম বহু মেধাবী ছাত্রকে জিয়াউর রহমান বিপথে ঠেলে দিয়েছে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি। শিক্ষার কোনো পরিবেশ ছিল না। তার স্ত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় আসে, তখনো সে হুমকি দিয়েছিল যে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে তার ছাত্রদলই নাকি যথেষ্ট। তার কারণ ছাত্রদলের হাতে তারা অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তাদের লেখাপড়া করতে উৎসাহিত করে নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের হাতে খাতা-কলম তুলে দিয়েছিলাম—লেখাপড়া শিখতে হবে। ছাত্রলীগের মূলমন্ত্র শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি—এই আদর্শ নিয়ে ছাত্রলীগকে তৈরি হতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান, এরপরে এরশাদ, তারপর খালেদা জিয়া, তারা কী করেছে? তারা ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হোক এই জাতি, এটা তারা কখনো চায়নি। অবশ্য চাইবেই বা কী করে, নিজেদের কী অবস্থা, সেটাও তো দেখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্রদের ভূমিকা রয়েছে। আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জন, সেই মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন বা মিলিটারি ডিক্টেটরশিপের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সব সময় ছাত্ররাই করেছে। ছাত্ররাই সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে। এ ধরনের বাধা-বিঘ্ন আসতে থাকবে। সৎপথে থাকলে, সত্যের পথ সব সময় কঠিন হয়, সেই কঠিন পথকে যারা ভালোবেসে এগিয়ে যেতে পারে, তারাই সাফল্য আনতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের আগে ছাত্রলীগের একাধিক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন।

আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়, সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*