Monday , 19 January 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
পাটগ্রামে ‘মৃত মিল’ জাগিয়ে তোলা: অনেক মিলের অস্তিত্বই নেই
--প্রেরিত ছবি

পাটগ্রামে ‘মৃত মিল’ জাগিয়ে তোলা: অনেক মিলের অস্তিত্বই নেই

মেহেরুবান হাবিব

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ

‎লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় প্রকাশিত আমন সংগ্রহ মৌসুম ২০২৫-২৬–এর মিল-ভিত্তিক সিদ্ধ চালের বরাদ্দ তালিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (ডিসি ফুড) স্বাক্ষরিত এ তালিকায় ৩৯টি ছাটাই মিল ও চাতালের নাম থাকলেও—এর অধিকাংশ মিল বছরের পর বছর ধরে বন্ধ। অনেক মিলের অস্তিত্বই নেই, তবুও তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য।

‎স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, “অস্তিত্বহীন মিল-চাতালকে বরাদ্দ দিয়ে চাল নিয়ে চালবাজি করছে পাটগ্রাম উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। অনিয়মের এ তালিকা দ্রুত সংশোধন করা জরুরি।”

‎চাল সংগ্রহের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা আছে—শুধুমাত্র মিলিং লাইসেন্সধারী, সচল এবং বয়লার-চিমনিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোসম্পন্ন মিল চুক্তিযোগ্য হবে। বন্ধ মিল কিংবা বয়লারবিহীন হাস্কিং মিলে চাল সংগ্রহের সুযোগ নেই। কিন্তু এসব নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রকাশিত তালিকায় যোগ হয়েছে বহু বছর আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিলের নাম।

‎তথ্য যাচাই করে পাওয়া গেছে—২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাটগ্রাম উপজেলায় ৩৯ মিলারের কাছ থেকে ৭৮১ মেট্রিক টন এবং একটি অটো মিলের কাছ থেকে ৪৫৫ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অথচ তালিকাভুক্ত অধিকাংশ মিল দীর্ঘদিন ধরে অচল। গত বছরও ৭৫ পয়সা কেজি-প্রতি ‘উপরি লেনদেনের’ মাধ্যমে বহু অস্তিত্বহীন মিল তালিকায় ঢুকে পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎সরেজমিন দেখা যায়, পাটগ্রাম পৌরসভার মিল মালিক বিশ্বজিৎ কুমারের নামে দুটি পৃথক মিল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নেসকোর ওয়েবসাইট অনুযায়ী—তার একাধিক বিদ্যুৎ সংযোগ ২০২৩ সালেই বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দুই মিলের একটি চালু আছে। নেসকোর তথ্য বলছে—তালিকায় থাকা ৩৯টি মিলে ১৮টির বিদ্যুৎ সংযোগ বহু আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

‎এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাসিম আল আকতার বলেন, “আমি সদ্য যোগদান করেছি, সবকিছু বুঝতে সময় লাগবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অযোগ্য মিল বাতিল করা হবে।”

‎লালমনিরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিএফ) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, “এটি চলমান তালিকা। যাদের সক্ষমতা নেই, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বাদ দেওয়া হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply