ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » চট্টগ্রাম বিভাগ » পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২১ পালন
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের  ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২১ পালন

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ২০২১ পালন

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি:
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২১ পালন করা হয়। সকাল ৮.৩০ ঘটিকায় জাতীয় কর্মসূচির সাথে সমন্বয় রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব নিখিল কুমার চাকমা এর নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় ও বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পনসহ ১ মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব), বোর্ডের সার্বক্ষনিক সদস্য বাস্তবায়ন জনাব মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব)সহ বোর্ড ও বোর্ডের প্রকল্পসমূহের উবর্ধতন কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বেলা ৯.৪৫ ঘটিকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্ণফুলী সম্মেলন কক্ষে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহ্ফিল’ এর আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মাননীয় চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) জনাব নিখিল কুমার চাকমা। আলোচনা’র শুরুতে প্রথমে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন থেকে তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। বোর্ডের তথ্য অফিসার মিজ্ ডজী ত্রিপুরার উপস্থাপনায় বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বোর্ডের উপপরিচালক জনাব মংছেনলাইন রাখাইন।
মাননীয় চেয়ারম্যান বক্তব্যের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থাপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ সপরিবারে নিহত সকল শাহাদত বরণকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, পৃথিবীতে অনেক রাষ্ট্র নায়ককে হত্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের পাশর্^বর্তী দেশ ভারতে এবং সবচেয়ে ক্ষমতাধর যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকাসহ অনেক রাষ্ট্র নায়ককে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে এমন নিষ্ঠুর ঘটনা নজির বোধ হয় আর পৃথিবীতে একটিও নেই। এমন নজির বিহীন ঘটনা যেটা কোন সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না।
মাননীয় চেয়ারম্যান আরও বলেন, সেদিন কি দোষ করেছিল? বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, ভাই শেখ আবু নাসের, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ছোট ছেলে শিশু শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হল? শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে হত্যাকারীদের হত্যাকান্ডের জন্য বিচার করা যাবে না, এরূপ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় এবং খুনীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণবাসনের মাধ্যমে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়, যা অত্যন্ত ঘৃন্য অপরাধ।
মাননীয় চেয়ারম্যান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জাতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূর চিন্তা প্রসূত রাষ্ট্র নায়কোচিত চিন্তার ফসল। আজ আমরা যেখানে সম্মানের সাথে অবস্থান করছি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে সেটা কখনো সম্ভব হতো না। এজন্য তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শোককে শক্তিতে পরিণত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বোর্ডের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীকে একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।
ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেক মুজিবুর রহমান এর ৪৬তম শাহাদত বার্ষিকী, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নীল নকশার অংশ হিসেবে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী কুচক্রীমহল স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল। বাঙ্গালী জাতির জীবনে যেমন এটি একটি কলঙ্গজনক অধ্যায়, ঠিক তেমন এক মর্মান্তিক বেদনা বিধুর দিন। তাই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। এছাড়া তিনি জাতীয় শোক দিবসের এই দিনে জাতির পিতাসহ পনেরই আগস্টের কলঙ্কিত রাতে শাহাদত বরণকারী সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রকারী ঘাতক ও তাদের দোসররা ভেবেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জাতির পিতার নাম ইতিহাস থেকে চিরদিনের জন্য মুছে ফেলতে পারবে, কিন্ত তারা তা পারেনি; কারণ বঙ্গবন্ধু মৃত্যঞ্জয়ী ও চিরঞ্জীব। তিনি বলেন, আজকের এই শোকের দিনে যে সকল ঘাতক এখনও বিদেশে পলাতক হিসেবে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকরের দাবী জানান এবং শোক, কে শক্তিতে পরিণত করে এবং শক্তিকে জাগরণে পরিণত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহবান জানান।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য বাস্তবায়ন জনাব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ (উপসচিব), জনাব মোঃ এয়াছিনুল হক, প্রকল্প ব্যবস্থাপকএসএসএস-সিএইচটি প্রকল্প, সহকারী প্রকৌশলী মিজ্ ত্রয়া সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেনসহ বোর্ডের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পক্ষে অনেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব আশীষ কুমার বড়ুয়া (যুগ্মসচিব), সদস্য-বাস্তবায়ন জনাব মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ (উপসচিব), জনাব মোঃ এয়াছিনুল হক, প্রকল্প ব্যবস্থাপক, এসএসএস-সিএইচটি প্রকল্প; জনাব মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রকল্প পরিচালক, মিশ্র ফল চাষ প্রকল্প; নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব তুষিত চাকমা (চ.দা.), উপপরিচালক জনাব মংছেনলাই রাখাইন, জনাব কল্যানময় চাকমা, হিসার রক্ষণ কর্মকর্তা; জনাব কাইংওয়াই ম্রো, গবেষণা কর্মকর্তা; সহকারী প্রকৌশলী জনাব মোঃ খোরশেদ আলম, সহকারী প্রকৌশলী মিজ্ ত্রয়া সরকার, মিজ্ ডজী ত্রিপুরা, তথ্য অফিসার; জনাব সাগর পাল, সহকারী পরিচালক (চ.দা.); জনাব মোঃ কামরুজ্জামান সহকারি পরিচালক, মিশ্র ফল প্রকল্পসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও বোর্ডের প্রকল্পসমূহের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের বৈশি^ক মহামারি করোনায় আক্রান্ত সকল রোগীদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বোর্ডের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অংশগ্রহণে সকালে রাঙ্গামাটির তবলছড়িস্থ আনন্দ বৌদ্ধ বিহারে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দুপুরে বোর্ডের জামে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহ্ফিল ও তবারক বিতরণ করা হয় এবং সন্ধ্যায় তবলছড়িস্থ শ্রী শ্রী রক্ষা কালি মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া স্ব স্ব জেলা পর্যায়ের কর্মসূচির সাথে সাম্যঞ্জস্য রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ইউনিট অফিস সমূহের নিকটবর্তী মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার এবং গীর্জায় বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহ্ফিল ও তবারক বিতরণ করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প পরিচালিত ৪টি আবাসিক বিদ্যালয়ে কঠোর স্বাস্থবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করা হয়।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*