Monday , 19 January 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
বিজেআরআই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ
--সংগৃহীত ছবি

বিজেআরআই নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসসহ গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তুলেছেন খোদ নিয়োগ কমিটির সদস্য ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (পিটিসি) কৃষিবিদ ড. মাহমুদ আল হোসেন। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে লিখিতভাবে অবহিত করেছেন।

গত ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এ নিয়োগ পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ ও সরেজমিন পরিদর্শন করে ড. মাহমুদ আল হোসেন অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ৬৮টি কক্ষের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট কক্ষ থেকেই অস্বাভাবিকভাবে বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা প্রশ্ন ফাঁসের ইঙ্গিত দেয়।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় মোট ৯৫ জন উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের ২০৪ নম্বর কক্ষ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৯ জনের মধ্যে ১৫ জনই উত্তীর্ণ হন। একই সঙ্গে লালমাটিয়া সরকারি মহিলা কলেজের একটি কক্ষ থেকে উত্তীর্ণ হন আরও ৭ জন। অর্থাৎ, মাত্র দুটি কক্ষ থেকেই মোট ২২ জন পরীক্ষার্থী পাস করেন।

ড. মাহমুদ আল হোসেন মনে করেন, ৬৮টি কক্ষের মধ্যে মাত্র দুটি কক্ষ থেকে এত বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক ও রহস্যজনক।তিনি আরো বলেন, এ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয় ৬০ নম্বরের ওপর। সাধারণভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় এত উচ্চ নম্বর পাওয়া বিরল হলেও এ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৫৫। এত কম নম্বরের পরীক্ষায় এ ধরনের ফলাফল স্বাভাবিক নয় এবং এটি পূর্বপ্রস্তুতি প্রশ্নপত্র পাওয়ার সম্ভাবনাকেই জোরালো করে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা।

ড. মাহমুদ আল হোসেনের দাবি, এটি প্রশ্নপত্র আগেভাগে ফাঁস হওয়ার একটি শক্ত প্রমাণ, কারণ পরীক্ষার্থীরা ভুল উত্তরটি আগে থেকেই মুখস্থ করে পরীক্ষায় লিখেছেন।

এ ছাড়া পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষাকেন্দ্রের গেটে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে উত্তরপত্র বা সমাধান দেখার অভিযোগও উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো হয়নি।

কৃষি বিজ্ঞানীরা বলেন, কৃষি গবেষণা খাতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে বড় আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই নিরপেক্ষ ও পেশাদার তদন্ত ছাড়া এই বিতর্কের অবসান সম্ভব নয়। গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।

এ বিষয়ে বিজেআরআইয়ের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার বলেন, পরীক্ষা শেষ হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। অভিযোগকারী নিয়োগ কমিটির রেজুলেশনে স্বাক্ষরও করেছেন। এতদিন পর কেন তিনি অভিযোগ তুললেন, সেটি আমাদের কাছে প্রশ্নের জন্ম দেয়। অভিযোগগুলো তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি যৌক্তিক মনে হয়নি বলে জানান তিনি।

মহাপরিচালক বলেন, যেহেতু নিয়োগ কমিটির একজন সদস্য লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন, তাই বিষয়টি অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী আমলে নেওয়া হবে। অভিযোগকারী সদস্যের কাছ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

ড. মাহমুদ আল হোসেন বলেন, ২৯ নভেম্বর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর নিয়োগ কমিটির পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হয় ৩ জানুয়ারি। ওই সভাতেই তিনি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। তাঁর ভাষায়, প্রশ্নপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবু কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারছেন না। তবে পরীক্ষার ফলাফলে কিছু অসঙ্গতি নজরে আসায় এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে। প্রসঙ্গত, এই পরীক্ষা থেকে ১২টি স্থায়ী ও ১টি অস্থায়ী পদে এ নিয়োগ দেওয়া হবে।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply