ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
--ফাইল ছবি

বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্কঃ

সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি বাড়ি আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তাঁর সরকার।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে ১৮ জেলার ৩১ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ ছাড়া এ সময় তিনি দুটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, ১১টি গ্রিড সাবস্টেশন এবং ছয়টি নতুন ট্রান্সমিশন লাইন উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি বাড়ি আলোকিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনেই একটি মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। আমরা এখন এলএনজি আমদানি করছি এবং এখনো বিদ্যুৎ খাতে বিরাট অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সবাইকে এ কথা মাথায় রাখতে হবে যে সরকারের পক্ষে সব সময় এই বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই দেশের শতকরা ৯৭.৫ ভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি এবং আশা করছি, ২০২১ সাল নাগাদ আমরা দেশের সব মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারব।’

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর সরকার ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সাল নাগাদ ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা অধিকতর শিল্পায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে একশ টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছি আর এভাবে আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছি। এ জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ স্থাপন করেছে। দেশে যত বেশি আইসিটি ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, বিদ্যুতের চাহিদাও ততই বৃদ্ধি পাবে।’

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন সংগ্রামের কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরে সপরিবারে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশবাসী আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ দেওয়ায় বাংলার মানুষের কাছে তিনি ‘কৃতজ্ঞ’।

এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু তাঁর মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট সচিবরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত : বঙ্গবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। এতে গত ১১ বছরে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় যে উপজেলাগুলোকে আনা হয়েছে সেগুলো হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, সরাইল ও আশুগঞ্জ, চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও কচুয়া, কুমিল্লার বরুড়া ও মুরাদনগর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও বোয়ালমারী, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, ঝিনাইদহ সদর, মানিকগঞ্জের সদর, দৌলতপুর, সিংগাইর ও শিবালয়, মৌলভীবাজারের রাজনগর, নওগাঁর মান্দা, ধামইরহাট ও সাপাহার, নীলফামারীর ডোমার, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ, রাজবাড়ীর সদর, পাংশা ও বালিয়াকান্দি, রাজশাহীর বাগমারা, সাতক্ষীরা সদর, সিলেটের জকিগঞ্জ ও ওসমানীনগর, নরসিংদীর রায়পুরা এবং মাদারীপুরের কালকিনি।

অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী কনফিডেন্স পাওয়ার বগুড়া-১ লিমিটেডের ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নোয়াখালীর এইচএফ পাওয়ার লিমিটেডের ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন। তিনি মহাস্থানগড়, রাজশাহী (উত্তর), চৌদ্দগ্রাম, ভালুকা, বেনাপোল, শরীয়তপুর, শ্যামপুর, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, নড়াইল ও রাজেন্দ্রপুরে ১১টি গ্রিড সাবস্টেশনও উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী (পায়রা)-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন, যশোর-বেনাপোল ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন, শরীয়তপুর-মাদারীপুর ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন, তিস্তা-কুড়িগ্রাম ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন, মাগুরা-নড়াইল ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন এবং পটুয়াখালী-পায়রা ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনও উদ্বোধন করেন।

সূত্র : বাসস

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*