ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » বিশ্বে খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে, সতর্ক থাকতে হবে
বিশ্বে খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে, সতর্ক থাকতে হবে
--ফাইল ছবি

বিশ্বে খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে, সতর্ক থাকতে হবে

অনলাইন ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে আশঙ্কা করে দেশের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে এমন পরামর্শ দেন তিনি। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা যারা সরকারের উন্নয়ন দেখে না তাদের চোখের চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেন। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নষ্ট করায় বিএনপির সমালোচনা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কৃষি অর্থনীতির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। এখন একদিকে করোনার ধাক্কা, অপরদিকে যুদ্ধাবস্থা। সব কিছু মিলিয়ে খাদ্যের অভাবটা সারা বিশ্বে দেখা দিতে পারে। সে জন্য আমাদের নিজেদের সতর্ক থাকতে হবে। যার জন্য আহ্বান করেছি, কোথাও যেন এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকে। যার যেটুকু আছে সেটুকু করবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সাইলো করে দিচ্ছি। সেখানে খাদ্য সংরক্ষণ করা হবে। দু-এক বছর বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে মানুষ যেন অনাহারে না থাকে। খাদ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি, অনেকে আছে দেশে কোনো উন্নতিই দেখে না। তাদের যদি চোখ খারাপ থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নাই। তারা দেখে না। কেন দেখে না? সেটা হচ্ছে, দেখার ইচ্ছা নাই তাই দেখে না। ’

উন্নয়ন নিয়ে সরকারের সমালোচনাকারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাদের চোখে কোনো উন্নয়নই নাকি দেশে হয় নাই। এখন বলতে হয় যে আমরা তো একটা আই ইনস্টিটিউট করে দিয়েছি। যারা বক্তৃতা দেয় উন্নয়ন হয় নাই, উন্নয়ন চোখে দেখে না, আমার মনে হয় তাদের চোখ পরীক্ষা করা দরকার। তাহলে হয়তো দেখতে পাবে যে উন্নয়ন হয়েছে কি না। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের চোখে পড়ে না যে শতভাগ বিদ্যুৎ, ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ তো বিদ্যুৎ ছাড়া চলতে পারে না। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ তারা ব্যবহার করছে। এটা উন্নতি না? আজকে পদ্মা সেতু, মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ  এগুলো চোখে পড়ে না? এগুলো উন্নয়নের লক্ষণ না? আজকে দারিদ্র্যের হার হ্রাস পেয়েছে, এটা উন্নয়ন; কিন্তু তাদের চোখে পড়ে না। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি, এটা তাদের চোখে উন্নয়ন না?’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করেছি, আমাদের ঘোষণাপত্রে ঘোষণা দিয়েছি। নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা দিয়ে যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা আমরা বলেছি, আমরা একে একে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ’

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর একে একে ১৯ থেকে ২০টি ক্যু হয়েছে। সেই ক্যুতে সামরিক বাহিনীর হাজার হাজার অফিসার ও সৈনিকদের যারা হত্যা করেছে, তাদের কাছ থেকে আমাদের এখন গণতন্ত্রের সবক শুনতে হবে, এটাই হচ্ছে জাতির দুর্ভাগ্য। গণতন্ত্র নাকি ধ্বংস হয়ে গেছে! তাদের গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কী? আর যাদের জন্ম জনগণের মধ্য থেকে হয়নি, জন্ম হয়েছে সেনাছাউনিতে, ক্ষমতা দখলকারীর পকেট থেকে, তারা আমাদের এখন গণতন্ত্র শেখায়। এটাই হচ্ছে এ জাতির সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য। ’

তিনি বলেন, ‘জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে আমরা ফিরিয়ে নিয়ে এসেছি। যে গণতন্ত্র ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিল, জিয়ার পকেটে ছিল বা এরশাদের পকেটে ছিল এবং খালেদা জিয়ার আঁচলে ছিল। সেটাকে আমরা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছি। আজকে জনগণের ক্ষমতায়ন আমরা করেছি। সেখানে যদি বিএনপির নেতারা এখন গণতন্ত্র না দেখে, উন্নয়ন না দেখে, তাহলে তো বলার আর কিছু থাকে না। ’

আলোচনাসভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ প্রমুখ।

বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে মর্যাদার চোখে দেখে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের মাঝে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইতিহাস জানার মধ্য দিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্ম এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভেতর একটা চেতনা জাগ্রত হবে, তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং মানুষের কল্যাণে আরো কাজ করতে অনুপ্রেরণা পাবে। ’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) থাকা স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) কার্যালয়ে স্থাপিত ‘মুজিব কর্নার’ উদ্বোধনকালে দেওয়া ভাষণে আরো বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই মানসিকতা যত বেশি ফিরে আসবে তত আমার দেশ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে এগিয়ে যাবে। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com