ব্রেকিং নিউজ
Home » প্রচ্ছদ » ব্যবসায়ীদের উসকানিতে নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ, পুলিশের তদন্তে দাবি
ব্যবসায়ীদের উসকানিতে নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ, পুলিশের তদন্তে দাবি
--সংগৃহীত ছবি

ব্যবসায়ীদের উসকানিতে নিউ মার্কেটে সংঘর্ষ, পুলিশের তদন্তে দাবি

অনলাইন ডেস্ক:

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় ব্যবসায়ীদের উসকানিতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনা জানাজানির পর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা মার্কেটে হামলা চালান। এর পরই সংঘর্ষ শুরু হয়।

শতাধিক ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার ফারুক হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীদের উসকানিতেই নিউ মার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলার তদন্তে এমন আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আট থেকে ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় নাম উল্লেখ করা ২৪ জনই নিউ মার্কেট থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা। গতকাল এঁদের ১৪ জন হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অন্তত ২০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হাসান হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহভাজন দুজনসহ আট থেকে ১০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে দোকানকর্মী মোরসালিন হত্যায় জড়িত কাউকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। ওই ঘটনায় ঢাকা কলেজের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

পুলিশ সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বেশির ভাগ পলাতক। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছেন। সন্দেহভাজন কয়েকজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। গত কয়েক দিনে ঢাকা কলেজের অন্তত ২৫ শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শুরুতেই শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করেন ব্যবসায়ীরা

ঢাকা কলেজের দর্শন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আহত কানন চৌধুরী এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি। তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আছেন তিনি। গত মঙ্গলবার সকালে ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার এক পর্যায়ে পাশের নূরজাহান মার্কেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ব্যবসায়ীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনা জানাজানির পর শিক্ষার্থীরা নিউ মার্কেটের পাশের নূরজাহান মার্কেটের দিকে এগোতে থাকে। তখন ব্যবসায়ীরা ইটপাকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কুরিয়ার সার্ভিসকর্মী নাহিদ হাসান শিক্ষার্থীদের সামনে পড়ে যান, যিনি পরে মারধর ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারা যান।

এক শিক্ষার্থী এখনো শঙ্কামুক্ত নন

সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের একজন মোশাররফ হাজারী। ঢাকা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের এই শিক্ষার্থীকে প্রথমে স্কয়ার হাসপাতাল এবং পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। তাঁর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মোশারফের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা থানার মাহমুদাবাদ গ্রামে। তাঁর বড় ভাই জুয়েল হাজারী গতকাল বলেন, ‘মোশারফের অবস্থা এখনো ভালো না। যতই দিন যাচ্ছে চোখ ফুলছে। শরীরের বাঁ পাশ তেমন সাড়া দিচ্ছে না। চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনটি অপারেশন করাতে হবে। শরীর একটু ভালো হলে অপারেশন করানো হবে। ’

সাত দিনেও গ্রেপ্তার নেই

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নাহিদ ও মোরসালিন হত্যাকাণ্ডে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত করতে অন্তত ২০ শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনায় ব্যবসায়ী-দোকানকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। পাঁচ মামলায় মোট আসামি এক হাজার ৭৭৪ জন। এর মধ্যে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, যাঁদের সবাই নিউ মার্কেট থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা।

মৃত ব্যক্তিও আসামি, ১৪ জনের আগাম জামিন

সংঘর্ষের সময় পুলিশের কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় বিএনপির ১৪ নেতাকর্মী গতকাল আগাম জামিন নিয়েছেন। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাঁদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। জামিনের মেয়াদের মধ্যেই তাঁদের সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, ‘মকবুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে যে মামলাটি পুলিশ করেছে, তার মধ্যে ২৩ নম্বর আসামি মিন্টু মারা গেছেন দুই বছর আগে। আর চার নম্বর আসামি ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি টিপু সাত বছর ধরে জাপানে আছেন। ’

কায়সার কামাল বলেন, মামলাটি ভঙ্গুর পুলিশ প্রশাসনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। আর এ কাজে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করেছে। ’

সূত্র: কালের কন্ঠ অনলাইন

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com