ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » মধুখালীতে শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঔষধ বিক্রেতার বিরুদ্ধে
মধুখালীতে শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঔষধ বিক্রেতার বিরুদ্ধে

মধুখালীতে শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঔষধ বিক্রেতার বিরুদ্ধে

(ফরিদপুর – মধুখালী) প্রতিনিধিঃ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার এক ঔষধ বিক্রেতার বিরুদ্ধে। ওই স্কুল ছাত্রীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় মধুখালী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ওই স্কুল ছাত্রীর পিতা। এদিকে ঘটনার পর থেকেই ওই লম্পট ঔষধ বিক্রেতা পলাতক রয়েছেন। জানা যায়, মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা এক কৃষকের ব্র্যাকের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু কন্যা (৯) গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশ্ববর্তী মিরাজ বিশ্বাসের (৪০) বাড়িতে টিভি দেখতে যায়। ওই সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় মিরাজ ওই শিশু কন্যার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এসময় মিরাজ শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ স্পর্শ করে। শিশুটি চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। শিশুটির মাথায় পানি ঢেলে তাকে সুস্থ করে তোলে মিরাজ। এরপর শিশুটিকে হুমকি দিয়ে মিরাজ বলে কেউ যেন বিষয়টি না জানে। জানলে তোকে মেরে ফেলবো বলে শাসিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় মিরাজ। মিরাজের হুমকির ভয়ে শিশুটি বাড়িতে এসে কাউকে কিছু বলতে চাইছিল না। পরে ওই শিশুটির পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে অনেক বোঝানোর পর ভয়ভীতি উপেক্ষা করে শিশুটি তার মায়ের কাছে সব কথা খুলে বলে। পরে লোকমুখে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়ে পড়লে মিরাজ লাপাত্তা হয়ে যায়। ওই দিন দুপুরেই শিশুটিকে নিয়ে তার মা ও বাবা প্রথমে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়। ৩দিন সেখানে চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শিশুটিকে নিয়ে আসা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারনে শিশুটিকে বাড়িতে না রেখে এক আত্মীয়র বাড়িতে রাখা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় ওই শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মধুখালী থানায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এনে মিরাজ বিশ্বাস কে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-৮, তারিখ-১৭-০৯-২০২০ইং।

সরেজমিনে শুক্রবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লম্পট মিরাজ বিশ্বাস বাড়িতে নেই। তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। রায়জাদাপুর বাজারে গিয়ে তার ঔষধের দোকান বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মিরাজ বিশ্বাস লম্পট প্রকৃতির মানুষ। এর আগেও সে ওই এলাকার একটি মেয়ের সাথে এধরনের আচরন করেছে। তখন স্থানীয়রা শালিস বেঠকের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো এধরনের অপকর্মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের চাঁদপুর বিশ্বাস পাড়ার মৃত নূরুল বিশ্বাসের ছেলে মিরাজ বিশ্বাস। মিরাজ বিবাহিত। তার এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। স্থানীয় রায়জাদাপুর বাজারে একটি ঔষধের দোকান রয়েছে মিরাজের। ওই শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অনেকেই মিরাজের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, মিরাজের কাছে কোনো নারী ঔষধ কিনতে গেলে তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো মিরাজ। অনেকেই লোক লজ্জার ভয়ে তখন মুখ খুলেনি। তবে ওই ঘটনার পর থেকেই মিরাজ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে অনেকেই এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, মিরাজ ও তার পরিবারের সদস্যরা বাগাট ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামে বসবাস করলেও তারা মূলত আড়পাড়া ইউনিয়নের ভোটার। আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেনের ভাগ্নে মিরাজ। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন। ভাগ্নেকে বাঁচাতে বিভিন্ন স্থানে ছুটছেন তিনি। আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, মিরাজ আমার ভাগ্নে, কিন্তু সে যে অপকর্ম করেছে বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। তিনি আরো জানান, মিরাজ ও তার পরিবারের সদস্যরা আড়পাড়াতে বসবাস করতো, সেকারনে তারা আড়পাড়া ইউনিয়নের ভোটার। বর্তমানে বাগাটে বসবাস করে, ভোটার পরিবর্তন করেছে কি না আমার জানা নেই। ওই শিশু কন্যার পিতা জানান, আমরা গরীব মানুষ। অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাই। আমার কারো সাথে কোনো বিবাদ নেই। মিরাজ আমার শিশু কন্যার যে সর্বনাশ করলো তার কঠিন বিচারের দাবী জানাই। তিনি আরো জানান, মিরাজের স্ত্রী, সন্তান রয়েছে। ওর (মিরাজের) ছেলের বয়সী আমার মেয়ে। মিরাজ তার সাথে যে আচরন করেছে তা মেনে নেওয়া যায়না। এধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করে আবার প্রভাবশালীদের দিয়ে আমাকে চাপ দিচ্ছে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। নিরাপত্তাজনিত কারনে আমার মেয়েকে হাসপাতাল থেকে এনে এক আত্মীয়র বাড়িতে রেখেছি। তিনি মিরাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। তিনি আরো জানান, এঘটনায় মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেছি। মিরাজকে এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ খালেক জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন। তবে দুই পরিবারের কেউই তাকে জানায়নি। একজন ইউপি সদস্যর ওয়ার্ডে এধরনের আলোচিত ঘটনা ঘটেছে তিনি জানেন না বিষয়টি রহস্যজনক এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। কিছুক্ষন পর তার সাথে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুখালী থানার এস আই আশরাফুল আলম জানান, শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মিরাজকে আসামী করে ওই শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার পর থেকেই মিরাজ পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মধুখালী সাংগঠনিক জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা পরিষদ সদস্য সুরাইয়া সালাম বলেন, ধর্ষণচেষ্টাকারীর কোনো ছাড় নেই। যত ক্ষমতাশালী ব্যক্তিই হোক না কেন তাকে শাস্তি পেতেই হবে। ওই দরিদ্র শিশু কন্যার পরিবারের পাশে আমরা আছি। ওই পরিবারকে মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছি আমরা। বেসরকারি আইনি সহায়তা প্রদান প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ফরিদপুরের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শিপ্রা গোস্বামী বলেন, ওই দরিদ্র পরিবারের পাশে আমরা আছি। তাদেরকে বিনামূল্যে আইনী সহায়তা সহ সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এদিকে অভিযুক্ত মিরাজ বিশ্বাস পলাতক থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার পরিবারের সদস্যরা জানায়, মিরাজ ও ওই শিশু কন্যা সম্পর্কে দাদা-নাতি। তাই দাদা হিসেবে ওই শিশু কন্যার মুখে একটু হাত দিয়েছিল মিরাজ। ধর্ষণের চেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে মিরাজের পরিবারের সদস্যরা দাবী করেন।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*