Saturday , 14 March 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
মানবপাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন, বাংলাদেশে উদ্বেগজনক চিত্র
--প্রতীকী ছবি

মানবপাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন, বাংলাদেশে উদ্বেগজনক চিত্র

গত এক বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৩,৪১০ জন মানুষ পাচারের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৬৫ জন যৌনপাচার, ২,৫৭২ জন জবরদস্তি শ্রম ও ৭৩ জন অন্যান্য ধরনের পাচারের শিকার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচারবিষয়ক প্রতিবেদন ‘ট্রাফিকিং ইন পারসন্স (টিআইপি) রিপোর্ট ২০২৫’ এ এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন প্রকাশ পায়।

অন্য দিকে, সরকারের হিসাব অনুযায়ী শনাক্ত হয়েছেন ১,৪৬২ জন, যার মধ্যে ১৪৪ জন যৌনপাচার, ২৮৫ জন জবরদস্তি শ্রম এবং ১,০৩৩ জন অন্যান্য ধরনের পাচারের শিকার। সরকারের পুরনো বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে (আগের বছর ছিল ১,২১০ জন)। টিআইপি রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩০,০০০ কন্যাশিশু যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে বৈধ ও অবৈধ যৌনপল্লি, হোটেলসহ নানা স্থানে। টিআইপি প্রতিবেদনে দেশগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে:

টিয়ার-১ — ন্যূনতম মান পূরণকারী দেশ
টিয়ার-২ — যারা পূর্ণমান পুরোদমে অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা করছে (বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান)
টিয়ার-২ ওয়াচলিস্ট — নেপাল, মালদ্বীপ
টিয়ার-৩ — যারা ন্যূনতম মানও পূরণ করতে পারেনি এবং যথেষ্ট প্রচেষ্টা করেনি, যেমন আফগানিস্তান

রোহিঙ্গা পাচার নিয়েও রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে সরকারি কিছু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিলেন।

রোহিঙ্গা শিশুরা দোকানদার, জেলে, গৃহকর্মী হিসেবে জোরপূর্বক কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে যৌন শোষণ, নির্যাতন, মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার হচ্ছে।টিআইপি প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮১১টি মানবপাচার মামলায় তদন্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি যৌনপাচার, ২২৭টি শ্রমপাচার, এবং ৪৬৯টি অন্যান্য ধরনের মামলা। এ ছাড়াও অনেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সরকার বলেছে, ৪,৪৮৪টি মানবপাচার মামলায় বিচারাধীন রয়েছে (২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৪,৯৬০)। যদিও ট্রাইব্যুনাল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল, সেটি বাস্তবায়ন হয়নি।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাচার রোধ, ভুক্তভোগী শনাক্তকরণ ও পুনর্বাসন বাড়ানোর মতো প্রচেষ্টাগুলো কিছুটা বাড়লেও, অভিযুক্ত দোষীদের বিচারে ও শাস্তিতে এখনো ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে যৌনপাচার ও জোরপূর্বক শিশুশ্রম রোধে ও অবৈধ খাতগুলোর পর্যবেক্ষণে সরকারের কার্যকারিতা সঙ্কুচিত রয়েছে। সুপারিশ হিসেবে বলা হয়েছে: পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার বাড়ানো, দোষীদের জেল ও জরিমানা করা, শ্রম নিয়োগ সংস্থা ও দালালদের নিয়ন্ত্রণ শাসন করা, অভিবাসী শ্রমিকরা যাতে প্রতারণামূলক নিয়োগ ফি ও প্রতারণার শিকার না হন তা নিশ্চিত করা, শ্রম ও ফৌজদারি আদালতের সক্ষমতা বাড়ানো।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply