ব্রেকিং নিউজ
Home » জাতীয় » মিথ্যাচারের এই বন্যা রোধে সরকার সতর্ক হবে কি?
মিথ্যাচারের এই বন্যা রোধে সরকার সতর্ক হবে কি?
--ফাইল ছবি

মিথ্যাচারের এই বন্যা রোধে সরকার সতর্ক হবে কি?

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে—‘মরিয়া না মরে রাম—এ কেমন বৈরী?’ পাকিস্তানের জঙ্গি ও অজঙ্গি উভয় ধরনের সরকারের কার্যক্রম দেখে মনে হয়, মরার পরেও পাকিস্তানের প্রেতাত্মা বাংলাদেশের বৈরিতা ত্যাগ করেনি। পাকিস্তান ও তার ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের মৃত্যু হয়েছে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসেই। আমেরিকা ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠানোর হুমকি না দিলে বর্তমান যে অঞ্চলটিকে আমরা পাকিস্তান বলি, তা এত দিনে ভেঙে গিয়ে স্বাধীন সিন্ধু, স্বাধীন পাখতুনিস্তান, স্বাধীন বেলুচিস্তান প্রভৃতি নতুন রাষ্ট্রের উৎপত্তি হতো।

kalerkanthoআজ পাকিস্তানে ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ ক্ষমতায় থাকলেও নেপথ্যে হুকুমশাহি চালাচ্ছে সামরিক বাহিনী। দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প—সব কিছু তাদের হাতের মুঠোয়। আফগানিস্তানে আফিমের চাষ হয়। আফিমের ব্যবসা জগেজাড়া। পাকিস্তানে বসে এই ব্যবসার মালিকানা পাকিস্তানের জেনারেলদের হাতে। তারা ফুলেফেঁপে রাঘব বোয়াল হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ের জ্বালা তারা ভুলতে পারেনি। তাই সেই পরাজয়ের জ্বালা নেভানোর জন্য তারা এখনো ষড়যন্ত্র আঁটছে।

তাই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনবরত মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এই প্রচারণাটা শুরু করেছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। সুবিধা করতে পারেননি। যে সাপ নিয়ে তিনি খেলতে গিয়েছিলেন সেই সাপের দংশনেই তিনি মারা গেছেন। বাংলাদেশ হানাদার কবলমুক্ত হওয়ার পর পরাজিত পাকিস্তানের সামরিক জান্তা পরাজয়ের গ্লানি থেকে বাঁচার জন্য ভুট্টোকে এনে ক্ষমতায় বসায়। বঙ্গবন্ধু তখনো পাকিস্তানের জেলে। ভুট্টো তাঁর সঙ্গে জেলে দেখা করেন এবং অন্তত জাতীয় পতাকা এক রেখে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার প্রস্তাব জানান। বঙ্গবন্ধু তাঁকে বলেন, ‘আমি মুক্ত হয়ে স্বদেশে ফিরে যাব এবং সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলব। তাহলে পরিস্থিতি বুঝতে পারব এবং তদনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব।’

ভুট্টো বঙ্গবন্ধুকে টলাতে না পেরে ইরানের শাহকে (তখন তিনি ক্ষমতায়) পাকিস্তানে আমন্ত্রণ করে আনেন। বঙ্গবন্ধুকে তখন জেল থেকে মুক্ত করে একটি সরকারি বাড়িতে এনে রাখা হয়েছে। পেশোয়ারের ডেইলি খাইবার এক্সপ্রেসের এক খবর অনুযায়ী, এই বাড়িতেই ভুট্টো ও ইরানের শাহ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এই বৈঠকে পাকিস্তান ভাঙার জন্য তিনি ভুট্টোকে সরাসরি দায়ী করেন এবং বলেন, এখন ঢাকায় তাঁর সহকর্মীদের নেওয়া সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। বৈঠক ভেঙে যায়।

বঙ্গবন্ধু দেশে প্রত্যাবর্তনের পর ধূর্ত ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাঁর আলাপের একটি রেকর্ড তৈরি করেন। তা বঙ্গবন্ধুর কথাবার্তা কাটছাঁট করে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, শুনলে মনে হবে বঙ্গবন্ধু ভুট্টোর কাছে ওয়াদা করছেন। তিনি পাকিস্তানের ঐক্য বজায় রাখবেন। এই টেপরেকর্ড (তখন ভিডিও আবিষ্কৃত হয়নি) পাকিস্তানের সামরিক ইনটেলিজেন্স সার্ভিস লন্ডনের বিবিসি বেতারের এক সাবেক ঢাকা প্রতিনিধির মারফত ঢাকায় পাচার করেন। এই প্রতিনিধি ইন্দিরা-ভুট্টোর সিমলা সম্মেলনে সাংবাদিক সেজে গিয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ ওঠে। তিনি ঢাকায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার হন। তাঁর কাছ থেকে এই রেকর্ড উদ্ধার করা হয়।

এই রেকর্ডের কথা জানার পর আমি বঙ্গবন্ধুকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘ভুট্টো একটি কাঁচা কাজ করেছেন। আমার কথাবার্তা তিনি ঠিকমতো কাটছাঁট করতে পারেননি। এই রেকর্ড শুনলে যে কেউ তা বুঝতে পারবে। এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই।’

অনেক দিন পর সম্প্রতি মৃত ভুট্টোর সেই রেকর্ডের কিছু কথাবার্তার পুনরাবৃত্তি শুনলাম এক উর্দুভাষী মহিলার কণ্ঠে। আমার এক বন্ধু ভিডিওটি পাঠিয়েছেন। পাকিস্তানের কোনো টেলিভিশনে এটা সম্প্রচারিত হয়েছে কি না জানি না। এই উর্দুভাষী মহিলার বক্তব্য হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তাঁর বিভিন্ন ভাষণ এডিট করে এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে যে ভাষণ শুনলে মনে হবে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। তিনি তাঁর সব ভাষণের শেষে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলতেন, এমনকি ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণেও জয় বাংলার সঙ্গে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেছেন ইত্যাদি।

অতঃপর মহিলা ভারতকে রোখার জন্য পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে আবার একত্রীকরণের কথা বলেছেন। তারপর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পতাকার অর্ধাংশ জোড়া দিয়ে এই ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা তৈরি করার এক হাস্যকর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। এই ধরনের প্রপাগান্ডা দ্বারা বাংলাদেশের মানুষকে ভোলানো যাবে—এটা একটা পাগলকেও বিশ্বাস করানো যাবে না। বাংলাদেশের প্রত্যেক নেতাকে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ‘ভারতের চর’, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়েছে। শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে বলা হয়েছিল ‘ভারতের লেলিয়ে দেওয়া পাগলা কুত্তা’। (A mad dog let loose by India)। মওলানা ভাসানীকে বলা হয়েছে ‘ভারতের দালাল’। শেরেবাংলাকে তো রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি করে ফাঁসি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান না হলে তাঁকে ফাঁসিতে প্রাণ দিতে হতো। তিনি ’৭০-এর নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। তাঁকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণ করার দায়ে আবারও কারাবন্দি করে ফাঁসি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারও তাঁর প্রাণ রক্ষার জন্য ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টসহ অনেককেই জোর দাবি জানাতে হয়েছিল। তার পরও মুক্তিযুদ্ধ সফল না হলে বঙ্গবন্ধুর প্রাণ রক্ষা করা যেত কি না সন্দেহ।

প্রথমে পরাজিত পাকিস্তানি জান্তা এবং তাদের অনুসারীদের কৌশল ছিল বঙ্গবন্ধুকে ভারতের তাঁবেদার সাজিয়ে, বাংলাদেশ ভারতের সেনা অধিকার করেছে—এই প্রচারণা চালিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা। এই কৌশলটি ব্যর্থ হওয়ার পর ভুট্টো একটি টেপরেকর্ড বের করলেন। তাতে দেখানো হলো, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের ঐক্য বজায় রাখবেন বলে ভুট্টোর কাছে ওয়াদা করেছিলেন। তিনি সেই ওয়াদা ভেঙেছেন। ভুট্টোর এই চালাকিও ধরা পড়ে। তাঁর বাংলাদেশি এজেন্ট গ্রেপ্তার হয়।

এরপর পাকিস্তান ইনটেলিজেন্স সার্ভিসের সহায়তায় বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল নায়ক জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেন। এই দলের একমাত্র কাজ ছিল ভারতবিদ্বেষ প্রচার এবং আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সরকারকে ভারতের তাঁবেদার সরকার প্রমাণ করা। হাসিনা সরকার পার্বত্য চুক্তি করার পর খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশের এক-দশমাংশ ভারতের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেত্রী আরো বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতলে বাংলাদেশের মসজিদে আজান শোনা যাবে না, উলুধ্বনি শোনা যাবে। এসব প্রচারণাও ব্যর্থ হয়। বঙ্গবন্ধুকে ভারতের তাঁবেদার বলার পর কৌশল বদল করে তাঁকে পাকিস্তানপ্রেমী সাজানোর চেষ্টা করা হয়। এ জন্য বাংলাদেশের এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবীকে সম্ভবত ভাড়া করা হয়। হঠাৎ রব তোলা হয়, বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেছেন। এর সাক্ষী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নেতা এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খোন্দকারের নামে একটি বই লেখানো হয়। এর নেপথ্যে কারিগর ছিলেন প্রচণ্ডভাবে বঙ্গবন্ধুবিদ্বেষী এক বাম বুদ্ধিজীবী। এ কে খোন্দকারের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাঁর নামে বইটি প্রকাশ করা হয়। এ কে খোন্দকার গোটা চক্রান্ত বুঝতে পেরে জাতির কাছে ক্ষমা চান এবং বইটি সংশোধনের ব্যবস্থা করেন।

লক্ষ করার ব্যাপার এই যে উর্দুভাষী মহিলার কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলা হয়েছে বলে খোন্দকারের বইটিকে সাক্ষী মানা হয়েছে। কিন্তু খোন্দকার নিজেই এই বইয়ের বক্তব্য যে ভুল তা স্বীকার করে নিয়েছেন। অপপ্রচারের এই কৌশলটি উদ্ভাবন করেছেন মার্কিন লেখক আর্থার কোয়েসলার। তাঁর বিখ্যাত বই ‘পরাভূত ভগবান’ গ্রন্থে কমিউনিস্ট নায়ক স্ট্যালিনের মিত্র থেকে চরমভাবে তাঁর চরিত্র হনন করেছেন। পরে জানা গেছে, এই গ্রন্থটি সিআইএর টাকায় প্রকাশিত। এমনকি রাশিয়ান লেখক বরিস পাস্তারনাকের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বইটিও সিআইএর অর্থে প্রপাগান্ডা পুস্তক হিসেবে প্রকাশিত।

কোয়েসলার পদ্ধতি পাকিস্তানের ইনটেলিজেন্স সার্ভিস অনুসরণ করেছে বলে আমার সন্দেহ। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণায় ব্যর্থ হয়ে ভারতের লেখক ও বুদ্ধিজীবী ভাড়া করে তারা প্রচারণা চালাতে শুরু করে—তারা বাংলাদেশে গণহত্যা চালায়নি। লাখ লাখ নর-নারী-শিশু হত্যা করেনি। হাজার হাজার নারীর সম্ভ্রম লুট করেনি। এই প্রচারণায় তারা সাহায্য নিল নেতাজি সুভাষ বসুর ভাইঝি নামে পরিচিত শর্মিলা বসুর। ভদ্রমহিলা লন্ডনে বসে আবিষ্কার করলেন, বাংলাদেশে কোনো গণহত্যা করেনি পাকিস্তান। বঙ্গবন্ধুও স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি। নেতাজির নামের বৈগুণ্যে ভদ্রমহিলা বাজারে কিছুদিন বাহবা পাচ্ছিলেন। তাঁর মুখোশ খুলে যায়। তিনি এখন একেবারেই নীরব। তাঁর অপপ্রচারের যোগ্য জবাব ভারতের বুদ্ধিজীবীরাই দিয়েছেন। তাঁর থোঁতা মুখ ভোঁতা হয়ে গেছে।

তবু পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা চক্র (সিআইএ এখনো তাদের সাহায্য করে কি না জানি না) লন্ডন ও নিউ ইয়র্ককে কেন্দ্র করে বাংলাদেশবিরোধী এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তারেক রহমানের মাধ্যমে এর অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা যায়। এই নেটওয়ার্কের নেতৃত্বে আছেন লন্ডনে ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেভিড বার্গম্যান। আমেরিকায় কনক সারোয়ার। এই গোয়েবলসীয় মিথ্যা প্রচারের নেটওয়ার্কে আরো আছে লন্ডনে কর্নেল শহীদুদ্দীন খান, কানাডায় তাজ হাশমি। আমেরিকায় ইলিয়াস হোসেন, মিনা ফারাহ ও ক্যাপ্টেন শহীদ। ইস্তাম্বুলে উত্তরা ষড়যন্ত্রের নায়ক মাহমুদুর রহমান। প্যারিসে পিনাকী ভট্টাচার্য, সুইডেনে তাসনীন খলিল। কিছুদিন আগে এরাই আলজাজিরার সাহায্যে বাংলাদেশবিরোধী এবং মিথ্যাচারপূর্ণ ডকুমেন্টারি প্রচার করে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলা চাননি বলে এক উর্দুভাষী মহিলার ধারা বর্ণনার মাধ্যমে যে ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছে তাও সম্ভবত এই নেটওয়ার্কের কাজ অথবা পাকিস্তানেরই এই অপপ্রচার। তাদের সবার অথবা কারো কারো সংযোগ রয়েছে এই অপপ্রচারের সঙ্গে।

লন্ডনের বাজারে একটি সাম্প্রতিক গুজব, জিয়াপুত্র তারেক রহমান গত ২০ জুলাই লন্ডনের কিংস্টনে এক গোপন বৈঠক করেছেন। সভায় বাংলাদেশ আর্মির কয়েকজন সাবেক অফিসার যোগ দিয়েছেন। আলোচ্য বিষয়, হাসিনা সরকারকে কী করে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা যায়। খবরটি কতটা সঠিক, এখনো জানা যায়নি। তবে আমার ধারণা—সঠিক। বঙ্গবন্ধুকে বহুবার এই ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক করেছি। তিনি হেসে উড়িয়ে দিতেন। বলতেন, ‘কোনো বাঙালি আমাকে খুন করতে পারে না।’ শেখ হাসিনাও কি এই বিশ্বাস পোষণ করেন? তাঁর সরকারকে মিথ্যা প্রচার ও ষড়যন্ত্র দ্বারা উত্খাতের এই বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তাঁর সরকার সময় থাকতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না কেন? দেশে নানা পন্থায়, নানাভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তাতে তাঁর দল ও প্রশাসনের একাংশও জড়িত। বার্নার্ড শ’ বলেছেন (A mad dog let loose by India) অতি ভালো হওয়া বিপজ্জনক। হাসিনা সরকার যেন অতি ভালো হওয়ার চেষ্টা না করে।

লেখক: আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, লন্ডন, বুধবার, ১১ আগস্ট ২০২১

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*