Friday , 16 January 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
মেট্রোরেলে সহজ হচ্ছে টিকিট কাটা ও ভাড়া পরিশোধ

মেট্রোরেলে সহজ হচ্ছে টিকিট কাটা ও ভাড়া পরিশোধ

সকালবেলা প্রতিবেদনঃ
মেট্রোরেল যাত্রীদের জন্য ভাড়া পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আধুনিক করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এবার থেকে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে (পাঞ্চ পদ্ধতিতে) ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। একইসঙ্গে, একক যাত্রার টিকিট মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও কেনা যাবে। এই নতুন ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ইউনিভার্সেল টিকিটিং সিস্টেম (ইউটিএস)। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি চালু করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগবে। তবে, বর্তমানে প্রচলিত র্যাপিড পাস, এমআরটি পাস এবং একক যাত্রার কার্ড ব্যবহৃত হতে থাকবে।

উল্লেখ্য, মেট্রোরেলের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সংস্থাটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ইউটিএস বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, এবং প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখন তাদের কাছ থেকে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হবে। নতুন এই ব্যবস্থায় স্টেশনগুলোতে বিশেষ যন্ত্র স্থাপন করা হবে, যাতে যাত্রীরা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সহজেই ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন। তবে, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে, কারণ ঠিকাদার নিয়োগ, যন্ত্রপাতি স্থাপন ও সফটওয়্যার সংযোজনের মতো কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

ডিএমটিসিএল সূত্র আরও জানিয়েছে, এই প্রকল্পে সংস্থাটি সরাসরি কোনো বিনিয়োগ করবে না। বরং, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যার বসাবে এবং লেনদেন প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে, টিকিট বিক্রয় থেকে একটি নির্দিষ্ট অংশ ঠিকাদারকে দেওয়া হবে—যার পরিমাণ দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। বর্তমানে যাত্রীরা স্টেশনের কাউন্টার থেকে একক যাত্রার কার্ড সংগ্রহ করে তা পাঞ্চ করে ট্রেনে ওঠেন এবং গন্তব্যে পেঁৗছে নির্ধারিত স্থানে কার্ডটি জমা দেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই টিকিট কেনা যাবে। অর্থ পরিশোধের পর যাত্রীরা মোবাইলে একটি কিউআর কোড পাবেন, যা স্টেশনের নির্ধারিত স্ক্যানারে প্রদর্শন করে যাতায়াত করতে পারবেন।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, “যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী কার্ড বা টিকিট সরবরাহ করা আমাদের দায়িত্ব। ভাড়া পরিশোধ যত সহজ হবে, যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যও তত বাড়বে।” তিনি আরও জানান, ভারত, সিঙ্গাপুর, হংকংসহ অনেক দেশেই এই ধরনের আধুনিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বর্তমানে ৫৫ শতাংশ যাত্রী র্যাপিড বা এমআরটি কার্ড ব্যবহার করেন এবং বাকি ৪৫ শতাংশ একক যাত্রার কার্ড ব্যবহার করেন। তবে, দীর্ঘদিন ধরেই এমআরটি ও র্যাপিড কার্ডের সংকট রয়েছে। এর ফলে, গ্রাহকদের স্টেশনে গিয়ে রিচার্জ করতে হয় এবং অধিকাংশ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই ভোগান্তি থাকবে না, কারণ অনলাইনে লেনদেনের সুবিধা থাকায় সময় বাঁচবে।

এদিকে, এমআরটি পাস কার্ড সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং এখন র্যাপিড পাস সরবরাহ করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। তবে তারা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় কার্ড সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে, একক যাত্রার অনেক কার্ড ব্যবহারে বিকল হয়ে গেছে বা যাত্রীরা জমা না দিয়ে সঙ্গে নিয়ে গেছেন। তাই ডিএমটিসিএল নতুন করে ৪ লাখ একক যাত্রার কার্ডের অর্ডার দিয়েছে, যার মধ্যে ২ লাখ ইতোমধ্যে এসেছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, “মেট্রোরেলের ভাড়া পরিশোধের ব্যবস্থা যত বিস্তৃত হবে, তত ভালো। যাত্রীরা কার্ড চায়, অথচ কর্তৃপক্ষ তা দিতে পারছে না—এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। নতুন উদ্যোগ সফল হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটা কমবে।”

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply