Tuesday , 14 April 2026
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
ব্রেকিং নিউজ
যে কৌশলে একই দিনে দুটি মার্কিন বিমান শনাক্ত ও ভূপাতিত করল ইরান
--সংগৃহীত ছবি

যে কৌশলে একই দিনে দুটি মার্কিন বিমান শনাক্ত ও ভূপাতিত করল ইরান

অনলাইন ডেস্ক:

দুই দশকের বেশি সময় পর এক বিরল ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন সমর বিশ্লেষকরা। সরাসরি হামলায় একই দিনে দুইটি মার্কিন সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছে ইরান। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক শক্তি ‘সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত’, বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, শুক্রবার ইরান একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।

এতে দুই ক্রু সদস্যের একজনকে উদ্ধার করা হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ। একই সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, একটি এ-১০ ওয়ারথগ বিমান পারস্য উপসাগর এলাকায় ভূপাতিত হয়েছে।এই ঘটনাগুলো এমন সময়ে ঘটল, যখন ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এখনো কার্যকর এবং সুযোগ পেলে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম।

বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরান এবার প্রচলিত রাডারনির্ভর প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বদলে অপেক্ষাকৃত গোপন কৌশল ব্যবহার করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে অপটিক্যাল ও ইনফ্রারেড সেন্সরের মাধ্যমে। অর্থাৎ রাডার ব্যবহার না করে বিমানের তাপমাত্রা শনাক্ত করে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের কাছে কম দৃশ্যমান এবং ধ্বংস করা কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বেশির ভাগ রাডারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তারা এখন ‘প্যাসিভ সেন্সর’ বা তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। এই প্রযুক্তিতে ক্ষেপণাস্ত্র বিমানের ইঞ্জিন থেকে নির্গত তাপ বা বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট তাপ শনাক্ত করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

এ ক্ষেত্রে ইরানের নিজস্ব তৈরি মাজিদ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২১ সালে উন্মোচিত এই স্বল্প পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিচু উচ্চতায় উড়ন্ত বিমান, হেলিকপ্টার, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম। এটি রাডার ছাড়াই প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে এবং দ্রুতগতিতে আঘাত হানতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এফ-১৫ বা এ-১০ এর মতো আধুনিক যুদ্ধবিমানকে ইনফ্রারেড বা অপটিক্যাল পদ্ধতিতে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত কঠিন। ক্ষেপণাস্ত্র বিভ্রান্ত করতে এসব বিমানে তাপ কমানোর প্রযুক্তি, উন্নত প্রতিরোধব্যবস্থা (ফ্লেয়ার ও ডিকয়) এবং উচ্চগতির কৌশলগত ম্যানুভার ব্যবস্থা থাকে।

এই বাস্তবতায় ইরানের সাম্প্রতিক সাফল্যকে ‘পরিস্থিতিনির্ভর ও সীমিত সুযোগের সদ্ব্যবহার’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, খুব কাছাকাছি দূরত্বে, নিচু উচ্চতায় এবং নির্দিষ্ট মুহূর্তে (যখন প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল) তখনই এ ধরনের হামলা সফল হতে পারে।

তবুও এই ঘটনা একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা হামলার পরও ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। বরং তেহরান দেখিয়ে দিল, চাপের মধ্যেও তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং সুযোগ পেলেই পাল্টা আঘাত হানতে প্রস্তুত।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply