বছর ঘুরে আবারও এলো ডিসেম্বর মাস। বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন ও গর্বের মাস এই ডিসেম্বর। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। একই সঙ্গে অশ্রু ও বেদনার মাসও।
ব্রিটিশদের কাছ থেকে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এ অঞ্চলের মানুষের।
প্রয়াত লেখক যতীন সরকারের ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন’ বইয়ে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি, বিশ্লেষণ ও ঘটনাপ্রবাহ। ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে তিনি লেখেন, ‘সে রাতে আকাশবাণীর খবরে সম্ভবত মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, গিয়াসুদ্দিন আহমদ, সন্তোষ ভট্টাচার্য, শহীদুল্লাহ কায়সার, ডাক্তার আলিম চৌধুরী, ডাক্তার ফজলে রাব্বি, ডাক্তার মোর্তজা—এই কজন বুদ্ধিজীবীর শহীদ হওয়ার কথা শুনি। এরপর আরো কয়েকজনের নাম জানতে পারি। শুনি আনোয়ার পাশার নামটিও।’
লেখক মঈদুল হাসানের বহুল আলোচিত বই “মূলধারা ‘৭১’-এ তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সংশ্লিষ্টতা এবং ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে ‘অকল্পনীয় গতিময়তা ও শক্তি’ অর্জন করে তা নিয়ে আলোচনা করেন। মঈদুল হাসান লেখেন, ‘বৈপ্লবিক রাজনৈতিক উপাদান ও জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের ফলে মুক্তিযুদ্ধ যে অকল্পনীয় গতিময়তা ও শক্তি অর্জন করতে পারে, তা সম্ভবত পাকিস্তান বা ভারত কোনো দেশেরই স্টাফ কলেজের পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্গত ছিল না।”
কর্মসূচি
অন্যান্য বছরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে বিজয়ের মাস ও বিজয় দিবস। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে থাকবে নানা আয়োজন। রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর পালিত হবে বিজয় দিবস।
বিজয়ের মাস উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় মাসব্যাপী চলবে যাত্রা প্রদর্শনী। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা যাত্রা দলগুলোর অংশগ্রহণে আজ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এ যাত্রাপালার প্রদর্শনী চলবে।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
