অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপে অগ্রগতি দেখালেও এখনো রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ঘিরে উদ্বেগ কাটেনি বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)।
সোমবার (২১ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার জন্ম হয় এবং সে সময় গঠিত হয় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। ওই বছরের আগস্টে শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সেনাবাহিনীর সমর্থনে সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন।
ইউএসসিআইআরএফের মতে, চলমান সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি পরিবর্তন করে ‘বহুত্ববাদ’ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেছে সংশ্লিষ্ট কমিশন।
প্রতিবেদনটিতে আরো জানানো হয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রক্ষণশীল ধর্মীয় মতাদর্শের প্রভাব আগের তুলনায় স্পষ্টভাবে বেড়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন কিছু নারী শিক্ষার্থী।
কমিশনের মতে, সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হওয়া হামলার নিন্দা জানালেও জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এর পেছনে আংশিকভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দুর্বলতাকেই দায়ী করা হয়েছে। হিন্দু, আদিবাসী, আহমদিয়া ও সুফি সম্প্রদায়ের মানুষ এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ধর্মীয় উসকানিমূলক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ইউএসসিআইআরএফ। তবে সরকার এখন পর্যন্ত এ ধরনের সহিংসতা মোকাবেলায় কোনো সুসংগঠিত কৌশল উপস্থাপন করতে পারেনি।
এ ছাড়া বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই দলই কখনো কখনো ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগ তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি গড়ে তুললেও শেখ হাসিনার শাসনামলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে।
দৈনিক সকালবেলা National Daily Newspaper
