হামে শিশু মৃত্যুর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ। তিনি এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছেন। এই শিশু হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের বিচার দাবি করেন তিনি।
পাঠকদের জন্য নাদিম মাহমুদের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
জাতীয় নির্বাচনের দুই দিন আগে ইউনিসেফ-বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স সেই সময়ের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের কাছে যে চিঠিটি লিখেছেন, সেই চিঠি দেখার পর অনেকটাই নিশ্চিত হলাম, ‘হামে আক্রান্ত’ এইসব মৃত্যুর জন্য তিনি ‘প্রত্যক্ষভাবে’ দায়ী।
শুধু দায়ী বললে ভুল হবে, তিনি কিংবা তার মন্ত্রণালয় ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বাংলাদেশে হামের’ এপিডেমিক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন।এই চিঠিতে ইউনিসেফ বলেছিল, দেশে অতিগুরুত্বপূর্ণ পাঁচ ধরনের টিকার সংকট তৈরি হয়েছে। যেখানে ৫ ফেব্রুয়ারি হাম-রুবেলার টিকা শেষ হয়ে যায়। এ ছাড়াও পোলিও, টিটেনাস, বিসিজি টিকার জন্য সময়সীমা ১৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ হবে।
এসব টিকা শেষ হলে সরাসরি রুটিন টিকাদান সেবাকে প্রভাবিত করবে, যার ফলে শিশুদের মধ্যে টিকা-প্রতিরোধযোগ্য রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য শিশু মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে ‘বাংলাদেশকে’ ইউনিসেফ নিজেরাই দুই দফা আগাম অর্থে টিকা সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে করে আমাদের রাজস্ব বাজেটের প্রাথমিক ৫০ শতাংশ পাওয়ার আগেই কোনো শিশুর মৃত্যু না হয়।কিন্তু তারা শোনেনি। ইউনিসেফ জোর দিয়ে বলেছে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে এই বছর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কিনবে, তা যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, তা ৮ থেকে ১১ মাস লাগবে, আর এই সময়ে ‘নিশ্চিত শিশু মৃত্যুর’ ঝুঁকি থাকবে।
এমনকি ইউনিসেফ টিকা হস্তান্তরের জন্য ৩-৪ শতাংশ কম খরচে টিকা সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে করে শিশু মৃত্যুর হাত থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পায়।জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা এই অভিজ্ঞদের কথাকে উড়িয়ে দিয়ে নূরজাহান বেগমরা কত টাকা সেভ করতে চেয়েছিলেন, তা আমাদের জানতে হবে। এই চিঠিতে এক জায়গায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কিছু ‘অসত্য তথ্য’ তুলে ধরা হয়েছে। এই অসত্য তথ্য ঠিক কী ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে।
এই চিঠি দেখার পরও কি আপনারা বিশ্বাস করবেন, অধ্যাপক ইউনূস সরকারের ‘খারাপ ইনটেনশন’ ছিল না? কোন যুক্তিতে বর্তমান সরকার নূরজাহান বেগমদের সেফ এক্সিট দিচ্ছে? গত বছরের নভেম্বর থেকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থা টিকা না থাকলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, তা জানাচ্ছে, তখন সরকার ঠিক কিসের মোহে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পথ বেছে নিয়েছিল? আমরা এখন লাশের মিছিল দেখতে পাচ্ছি।
এই লাশগুলো অধ্যাপক ইউনূসরা আমাদের উপহার দিয়ে গেছে। এই দায় থেকে মুক্তির কোনো সুযোগ নেই। বর্তমান সরকারও যদি এই চিঠির ভাবগত অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে, তারাও ইউনূস সরকারের পাপের ভাগিদার হবে।তাই পরিকল্পিত এই শিশু হত্যার বিচার হতে হবে। হাম ছাড়াও অন্যান্য টিকার অভাবে যদি কোনো শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার দায়ভারও তাদের কাঁধে গিয়ে পড়বে। সরকারের উচিত হবে, নূরজাহান বেগমদের তলব করা, কৈফিয়ত চাওয়া। একই সঙ্গে শাস্তির আওয়তায় আনা।