ব্রেকিং নিউজ
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » জেলার-খবর » ২ বছর নিখোঁজ, কবর খোঁজে পেলেন স্বজনরা
২ বছর নিখোঁজ, কবর খোঁজে পেলেন স্বজনরা

২ বছর নিখোঁজ, কবর খোঁজে পেলেন স্বজনরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।।
প্রায়ই ২ বছর আগে ইদ্রিস আলী নরসিংদীর রায়পুরা থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। স্বজনরা নিখোঁজের এক বছর ৪ মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া বেওয়ারিশ লাশের তিতাসপাড়ের কবরস্থানে গিয়ে ইদ্রিস আলীর লাশের পরিচয় জানেন ও কবর দেখে খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
শনিবার (৭ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন এ বিষয়টি প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ইদ্রিস আলীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার “স্বজন” এর সহযোগিতায় “ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘর” নামের একটি সংগঠন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফনকাজ করেছিল।
ইদ্রিস আলী (৫৫) নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের খলিলাবাজ গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে। গত দু’বছর আগে নিখোঁজ হয় ইদ্রিস আলী। সে মানুষিক রোগী ছিলেন।
ইদ্রিস আলীর ছেলে সুমন মিয়া জানান, গত ২ বছর আগে তার বাবা ইদ্রিস আলী নিখোঁজ হয়েছিল। তারপর থেকে তাদের বাবাকে অনেক খোজাখুজি করেন। কোন ভাবেই সন্ধান মিলেনি। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমর তথ্যমতে তার বাবার ছবি দেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আসেন তারা। পরে আশুগঞ্জের এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের সামনে এসে ইঞ্জিনিয়ার আজহার উদ্দিন ভাইয়ের সাথে দেখা করি। আজহার ভাই আমার বাবা ছবি দেখান এবং শনিবার দুপুরে তার বোন সুমা আক্তার ও তার চাচাতো ভাই মামুন মিয়াকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেওয়ারিশ লাশের কবরস্থান (মেড্ডা তিতাসপাড়ের কবরস্থান) এসে নিখোঁজ বাবার কবরটি দেখেন। তার বাবার পরিচয় শনাক্ত ও সুন্দর ভাবে দাফনকাজ সম্পন্ন করার বাতিঘরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এক পর্যায়ে তারা দুই-ভাই-বোনসহ সবাই কান্নায় ঢলে পড়েন ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
উল্লেখ্য, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সার্জারী বিভাগে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ১০দিন চিকিৎসার পর ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি রাতে মারা যায়। ওই ব্যক্তি শহরের রেলওয়ে বস্তিতে একটি ঘরে থাকতেন। ওইখান থেকে সাদ্দাম হোসেন নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ছিলেন। তারপর ওই ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য স্বজন, বাতিঘর ও ছাত্রলীগসহ অনেকেই এগিয়ে আসেন। ১০দিন চিকিৎসার পর হাসপাতালে মারা যায়। মৃত্যুর পর ওই ব্যক্তির আত্নীয়-স্বজনের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। কেউ তার লাশটি দাফনকাজ করতেও এগিয়ে আসেনি। পরে স্বজনের সহযোগিতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের সদস্যদের নিয়ে বৃদ্ধার দাফনকাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছিল।

About Syed Enamul Huq

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com