Thursday , 22 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » জাতীয় » বহিষ্কারের পরও তৎপর আ.লীগের তিন বিদ্রোহী
বহিষ্কারের পরও তৎপর আ.লীগের তিন বিদ্রোহী

বহিষ্কারের পরও তৎপর আ.লীগের তিন বিদ্রোহী

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করার পরও নির্বাচনী মাঠে তাঁরা সরব রয়েছেন। গত শুক্রবার উপজেলা আওয়ামী লীগ তাঁদের বহিষ্কার করে।
বহিষ্কার হওয়া প্রার্থীরা হলেন হারাগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাহেদুর রহমান, কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী এবং বালাপাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল হক। তাঁরা বলেন, দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করলেও মূল্যায়ন না করে তাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন।
হারাগাছ ইউপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোজাহেদুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার পরও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপরও প্রার্থী হয়ে ছুটছি ভোটারদের কাছে।’
ওই ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহমুদুর রহমান বলেন, মানুষের মনের মধ্যে রয়েছে নৌকা প্রতীক। এখানে অন্য কেউ আওয়ামী লীগের পরিচয় দিলেও মার্কার বাইরে কোনো কাজে আসবে না।
কুর্শা ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী রজব আলী বলেন, ‘ইউনিয়নে দলের রাজনীতিতে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পরও মনোনয়ন দেওয়া হলো না। প্রার্থী বাছাইয়ে নিরপেক্ষতা বিবেচনা করা হয়নি। মনোনয়ন না পেলেও মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। দেখা যাক কী হয়।’
ওই ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, নৌকা মার্কার পক্ষে ভোটারদের অনেক আগ্রহ রয়েছে। তাই দলীয় প্রার্থীই ভোট পাবেন।
বালাপাড়া ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হক বলেন, ‘দলের হয়ে সুনামের সঙ্গে মানুষের কাজ করছি দীর্ঘদিন থেকে। কিন্তু মনোনয়ন দেওয়া হলো না। এরপরও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া নিয়ে নির্বাচনী মাঠে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওই ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী বলেন, দলের প্রতি শ্রদ্ধা নেই বলে অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ভোটের মাধ্যমে তাঁরা অবস্থান বুঝতে পারবেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভা করে তাঁদের প্রথমে দলের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত শুক্রবার তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। নৌকা প্রতীকের বাইরে ভোটাররা কোনো চিন্তা করছেন না বলে আমাদের বিশ্বাস আছে।’
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জে এম সাহাতাব হোসেন বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে ২৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেই সঙ্গে সংরক্ষিত নারী সদস্য ৭৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ১৯৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। আগামী ৭ মে এ উপজেলায় চতুর্থ ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*