Wednesday , 28 October 2020
E- mail: news@dainiksakalbela.com/ sakalbela1997@gmail.com
Home » দৈনিক সকালবেলা » অপরাধ ও দূর্নীতি » হবিগঞ্জ ৪ শিশু হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত
হবিগঞ্জ ৪ শিশু হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত

হবিগঞ্জ ৪ শিশু হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র গৃহীত

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগন্জ বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামে চাঞ্চল্যকর ৪ শিশু হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গৃহীত হয়েছে  মঙ্গলবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কিরণ শংকর হালদার এর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। আগামী ২৫ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে ৫ আসামীর জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া আসামী রুবেলের বয়স নিয়ে জটিলতার অবসান হয়েছে। ডাক্তারী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আসামী রুবেল প্রাপ্ত বয়স্ক।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়,  গত ১২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেলে বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মোঃ ওয়াহিদ মিয়ার পুত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাত ভাই আব্দুল আজিজের পুত্র তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার পুত্র মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের পুত্র ইসমাঈল হোসেন (১০) মিলে পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে বাড়িতে আর ফিরে আসেনি। এ ব্যাপারে পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার ওয়াহিদ মিয়া বাদী হয়ে বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।  ১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে বাহুবল মডেল থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। এই ঘটনার পর পুলিশের একাধিক টিম ও র‌্যাব মাঠে নামে ওই শিশুদের অনুসন্ধানে।
১৫ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানদাতাকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করা হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দিন মজুর কাজল মিয়া প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নদীর পাশে মাটি কাটতে গিয়ে বালিচাপা অবস্থায় ৪ শিশুর লাশ দেখতে পান। পরে লাশগুলো উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন রাতে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল আলী বাঘাল, তার দুই ছেলে জুয়েল ও রুবেল, একই গ্রামের আজিজুর রহমান আরজু , শাহেদ আলী, সালেহ এবং বশিরসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন সময়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরমধ্যে অনেকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীকালে হত্যার দায় স্বীকার করেন।
এ মামলার অন্যতম আসামী রুবেলের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, সুন্দ্রাটিকি গ্রামে বাঘাল পঞ্চায়েত এবং তালুকদার পঞ্চায়েতের বিরোধকে কেন্দ্র করেই চার শিশু হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক মাস পূর্বে বাঘাল ও তালুকদার পঞ্চায়েতের মাঝে উভয় পঞ্চায়েতের সীমানায় থাকা একটি বড়ই গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে নিস্পত্তি করা হলেও সিএনজি চালক বাচ্চু মিয়া ও গ্রেফতারকৃত আরজু প্রচন্ডরকমভাবে সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন হয়। এর পর থেকেই তারা পরিকল্পনা করে তালুকদার পঞ্চায়েতের শিশুদেরকে ফেলে হত্যা করবে।
১২ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেলে যখন পূর্ব ভাদেশ্বর গ্রামে ৪ শিশু ফুটবল খেলা দেখতে যায়। বৃষ্টির জন্য খেলা না হওয়ায় যখন শিশুরা মাঠে ঘুরাফেরা করছিল তখন পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা বাচ্চু মিয়া তাদেরকে বাড়ীতে নিয়ে যাবে বলে সিএনজি-অটোরিক্সাতে উঠতে বলে।
৪ শিশু সিএনজি-অটোরিক্সায় উঠলে তাদেরকে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে নিয়ে যাওয়া হয় বাচ্চু মিয়ার গ্যারেজে। সেখানে আরজু ও রুবেলসহ ৬ জন মিলে তাদেরকে গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লেবু বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গভীর রাতে সেখান থেকে লাশগুলো বালিচাপা গর্তে পুতে রাখা হয়

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*