Tuesday , 22 September 2020
Home » জাতীয় » যে কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে স্বেচ্চায় জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় নিহত সন্ত্রাসীরা
যে কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে স্বেচ্চায় জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় নিহত সন্ত্রাসীরা

যে কারণে বাড়ি থেকে পালিয়ে স্বেচ্চায় জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় নিহত সন্ত্রাসীরা

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার ঘটনায় নিহত সন্ত্রাসীদের ছবি প্রকাশের পর নানা বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব সন্ত্রাসীর পূর্ব পরিচিত বা স্বজনরা বিস্তারিত পরিচয় তুলে ধরছেন।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত-প্রচারিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিহতদের দুয়েকজন কয়েক মাস আগেই হারিয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে হামলার ঘটনার পর সাইট ইন্টেলিজেন্স এবং পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত ছবির সূত্র ধরে বের হয়ে আসে, তারা এ সময়ে জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়।

রোববার বিকেলে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কথায় বিষয়টি আরো পরিষ্কার হয়। ইউনাইটেড হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা (নিহত সন্ত্রাসীরা) জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্যই বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।’

জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে দুজনই ফেব্রুয়ারি মাসে নিখোঁজ হয়। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে গুলাশান থানায় জিডি করা হয়। কিন্তু পুলিশ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন, তারা নিখোঁজ হয়নি, তারা স্বেচ্চায় চলে গিয়েছিল।

শুক্রবার রাতে রেস্তোরাঁয় হামলার পর শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযানে ছয় সন্ত্রাসী নিহত হয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এরপর সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস)সংবাদ সংস্থা আমাক-এর বরাত দিয়ে নিহতদের ছবি প্রকাশ করে। বাংলাদেশের পুলিশের পক্ষ থেকেও পাঁচ সন্ত্রাসীর ছবি প্রকাশ করা হয়। এই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই সব সন্ত্রাসীদের ছবি প্রকাশ পায়। প্রকাশ পায় তাদের ফেসবুক আইডিও।

এরপর রোববার দুপুরে গুলশান থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেসবুকে যাদের ছবি বা পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে, তাদের মধ্যে দুই জনের পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের জিডি করা হয়েছিল। এদের মধ্যে একজন মীর সামিহ মোবাশ্বির। সে ২৯ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হয়। ওই দিনই তার পরিবার জিডি করে। জিডি নং-১৮৪৮।

ফেসবুকে বলা হয়, স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে সম্প্রতি ও লেভেল সম্পন্ন করেছে মীর সামিহ মোবাশ্বির। এ লেভেলে ভর্তি হওয়ার জন্য সে গুলশানের এমিনেন্স কোচিং সেন্টারসহ দুটি কোচিং সেন্টারে পড়ছিল। পরিবারের সঙ্গে সে বনানী ডিওএইচএসে বাসায় থাকত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মীর সামিহ মোবাশ্বির কোচিংয়ে যাওয়ার সময় যানজট থাকায় গাড়ি থেকে নেমে যায়। গুলশান থানায় জিডি হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখতে পায় সে বানানীর দিকে যাচ্ছে। বনানী পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার তাকে দেখা যায়। তারপর আর তাকে দেখা যায়নি।

আরেকজনের নাম আহম্মেদ আছোয়াদ ইমতিয়াজ তালুকদার। ফেসবুকে তার নাম এসেছে রোহান ইমতিয়াজ। ইমতিয়াজের পরিবারের পক্ষ থেকে ৮ মার্চ জিডি করা হয়। জিডি নম্বর-৪৯১। এতে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি বই কিনতে ধানমন্ডি যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে রেব হয়। এরপর আর সে বাসায় ফেরেনি।

নিখোঁজদের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহীদুল হক বলেন, ‘তারা নিখোঁজ না, পালিয়ে গেছে। বাড়ি-ঘর ছেড়ে চলে গেছে, জঙ্গি সংগঠনের জয়েন করেছে।’

 

এ বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের অপর এক কর্মকর্তা জানান, সংবাদমাধ্যমে সন্ত্রাসী বলে যে পাঁচ জনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন সম্ভবত রেস্তোরাঁর লোক রয়েছে।

তার ছবি আসার কারণ বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে একজনের চেহারা বোঝা যাচ্ছিল না। তার মুখের অবয়ব বিকৃত হয়েছে। হয়তো ভুলক্রমে তার স্থলে রেস্তোরাঁর ওই লোকের ছবি চলে এসেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে ছয়জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ আমাক সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে পাঁচ জনের ছবি প্রকাশ করেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা ছবিতে একজন রেস্তোরাঁর লোক রয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি শহীদুল হক বলেন, ‘তদন্ত হতে দেন, তদন্ত করুক, প্রাথমিকভাবে যা পাওয়া গেছে, তা বলা হয়েছে। তদন্ত আগাইতে দেন তারপর সবকিছু বলা যাবে।’

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*