Sunday , 27 September 2020
Home » দৈনিক সকালবেলা » বিভাগীয় সংবাদ » চট্টগ্রাম বিভাগ » চট্টগ্রাম চসিক মেয়র নাছিরের এক বছর ” আয় যেমন, ব্যয়ও তেমন”

চট্টগ্রাম চসিক মেয়র নাছিরের এক বছর ” আয় যেমন, ব্যয়ও তেমন”

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, তৈয়ব সুমন : আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত
হয়েছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা
ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নগরীর উন্নয়নে সরকারি অনুদান বাড়বে। কিন্তু
চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দের চিত্রে হতাশ নগরবাসী। তবে মেয়র নিজেই প্রত্যশা ও
প্রাপ্তির স্বীকার করছেন। সবাইকে পাশে থাকার আহবান করেছেন মেয়র।

২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চসিকের আয় যেমন বেশি হয়েছে তেমনি
ব্যয়ও। মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রদর্শিত
তথ্যচিত্রে এমনটিই দেখা গেছে। সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে
সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।

গত অর্থবছরে সিটি করপোরেশনের চাহিদা ছিল ৯৭২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকারি
অনুদান মিলেছে মাত্র ২২৯ কোটি টাকা; যা প্রত্যাশার মাত্র ২৩ শতাংশ। অপ্রতুল
বরাদ্দের কারণে চট্টগ্রাম নগরের প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতাসহ অধিকাংশ সমস্যার
সমাধানে পরিকল্পিত কোনো কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সিটি করপোরেশন।

চসিকের রাজস্ব বিভাগ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পৌরকর আদায় করেছিল ৮৯ কোটি ৫২ লাখ ২৭
হাজার ৮৫১ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আদায় ছিল ১১২ কোটি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৫
টাকা। নতুন মেয়রের প্রথম বছরে আদায় বেশি হয়েছে ২২ কোটি ৭৩ লাখ ২ হাজার ৫৮৪
টাকা।

ট্রেড লাইসেন্স খাতে নতুন মেয়রের প্রথম বছরে আদায় হয় ২১ কোটি ৫৩ লাখ ৯৪ ‍হাজার
৬০৪ টাকা। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১২ কোটি ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ২৬৬ টাকা বেশি।

ভূমি হস্তান্তর খাতে ২০১৪-১৫ সালে আদায় ছিল ৫১ কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৪২৬ টাকা।
এর বিপরীতে নতুন মেয়রের প্রথম অর্থবছরে আদায় ছিল ৫৬ কোটি ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭২৭
টাকা। বেশি হয়েছে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৮ হাজার ৩০০ টাকা।

তথ্যচিত্রে জানানো হয়, চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত
নগরী থেকে ৪ হাজার ৯৫৮টি সাইনবোর্ড উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৩০টি
ওভারহেড, ১ হাজার ৩২৭টি ইউনিপোল, ৯৩৭টি মিনি ইউনিপোল, চারটি রাউন্ড এবাউন্ট,
৫১৯টি বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড ৩৩১টি মেগাসাইন, ১ হাজার ৭৯৭টি বেলসাইন ও ১৩টি
ট্রাফিক ক্যানোপি। এরপরও সাইনবোর্ড খাতে নতুন মেয়রের প্রথম বছরে আদায় বেশি
হয়েছে ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৬ টাকা। প্রকৃত আদায় ৬ কোটি ৪ লাখ ২৮ হাজার
৮২৫ টাকা।

এস্টেট খাতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ১৭ হাজার ৭৬১ টাকার বিপরীতে
আদায় হয়েছে ৩১ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৭ টাকা। বেশি হয়েছে ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৬০
হাজার ৭৯৫ টাকা। এ ছাড়া বিবিধ খাতে তুলনামূলক আদায় বেশি হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ
৭২ হাজার ৩০৭ টাকা।

চসিকের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট আদায় ছিল ২২৯ কোটি ৯৪ লাখ ১৫ হাজার ৯২৩ টাকা। যা
আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭১ টাকা।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট উন্নয়ন ব্যয় ছিল ১৯৪ কোটি ৯১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এর
বিপরীতে সদ্যবিদায়ী অর্থবছরে উন্নয়ন ব্যয় ছিল ৩৭৭ কোটি ৫২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা।
আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ ১৮২ কোটি ৬১ লাখ ৩ হাজার টাকা।

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তার বক্তব্যে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় চসিকের
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন আসত ৯ কোটি টাকা। বর্তমানে পে স্কেল
কার্যকর, ভাতা বৃদ্ধি এবং ৮৯ জন নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া আগামীতে মাসিক বেতন
আসবে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ খাতে ২ হাজার
লোকের কর্মসংস্থানও রয়েছে।

তিনি জানান, নগর উন্নয়ন করতে হলে সাধারণ মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে আগামী
৪ বছর হাতে সময় আছে। আপনারা আমার সুখে দুঃখে পাশে থাকবেন এমন প্রত্যাশার কথা
জানিয়েছে তিনি।

About Expert

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

error: Content is protected !!